উদ্বোধনের অপেক্ষায় দ্বিতীয় ধরলা সেতু

সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম
 | প্রকাশিত : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:১৮

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কুলাঘাটে ধরলা নদীর উপর ৯৫০ মিটার পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ কাজ শেষ। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা।

ফুলবাড়ী থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সেতুর দুই পাড়ে চৌকি বসিয়ে পাহারা দিচ্ছেন। উৎসুক জনতা প্রতিদিনই স্বপ্নের সেতুটি দেখার জন্য ধরলা পাড়ে ভিড় জমাচ্ছে।

এটি এলজিইডির নির্মাণকৃত বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগের বড় সেতু। সেতুটি নির্মাণের জন্য এলজিইডির বাস্তবায়নে সিমপেনেক্স এবং নাভানা কনস্ট্রাকশন গ্রুপের সাথে যৌথভাবে চুক্তি সম্পাদিত হয় ২০১৪ সালে। কাজের গুণগত মান বজায় রেখে এ বছরের যেকোনো দিন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলী শামসুল আরেফীন খান ও নাভানা কনস্ট্রাকশন গ্রুপের পিএম সাধন কুমার পাল।

নদী শাসন, অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ ও মূল সেতুর জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১৯১ কোটি ৬৩ লাখ ২২৩ টাকা ৫৮ পয়সা। যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। প্রকল্পটি চালু হলে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার ২০ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন।

বিশেষ করে ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার লোকজন বেশি লাভবান হবেন। বিভাগীয় শহর রংপুরসহ দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হবে। ভুরুঙ্গামারী বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরের মালামাল পরিবহনে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পটি চালু হলে বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর হয়ে ফুলবাড়ীর দ্বিতীয় ধরলা সেতু দিয়ে ভারতের আসাম রাজ্যসহ অন্যান্য পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য গুলির সাথে বাংলাদেশ ও ভারতের পণ্য পরিবহন ব্যয় বহুলাংশে কমে আসবে। যুগান্তকারী অগ্রগতি ঘটবে বাংলাদেশসহ ভারতের সেভেন সিস্টারস নামে খ্যাত উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের। রাজ্যগুলো হলো– আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও অন্চল। একই সাথে এসব রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংরাবান্ধা হয়ে কলিকাতার যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অন্যদিকে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার কৃষিজাত পণ্য পরিবহনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। ধরলা পাড়ের সিরাজুল, আমিনুল, মজিবর জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত প্রকল্পটি ধরলা পাড়ের মানুষসহ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখবে।

কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আলী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটি উদ্বোধন করবেন। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বহুল প্রতীক্ষিত এ সেতুটি চালু হলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের একটি উল্লেখ্যযোগ্য নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। পিছিয়ে পড়া এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ উন্নয়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।’

এলজিইডি কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুল আজিজ সেতুটি এবছরেই চালু করার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা কাজ শেষ করছি। সরকারের মাননীয় মন্ত্রীসহ অনেকেই সেতুটি পরিদর্শনে এসেছেন। এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছি।’

(ঢাকাটাইমস/০৭ডিসেম্বর/প্রতিনিধি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত