রাজশাহীতে সরকারি চাল পাচারের চেষ্টায় মামলা

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
 | প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩:৪৭

রাজশাহীতে সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির’ চাল পাচারের চেষ্টার ঘটনায় মামলা হয়েছে। রবিবার রাতে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় মামলাটি করা হয়।

বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, থানার উপপরিদর্শক গোলাম মোস্তফা মামলাটি করেছেন। মামলায় আটক ট্রাকচালক ছাড়াও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা। তবে তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি ওসি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, বাকি আসামিরা সরকারি চাকরিজীবী। এই মুহূর্তে তাদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। আসামিদের ধরতে হবে। নাম প্রকাশ পেলে তারা পালিয়ে যাবেন। গ্রেপ্তার হলে এমনিতেই নাম জানা যাবে।

দুপুরে রাজশাহী সদর খাদ্য গুদাম থেকে সামান্য কিছুটা দূরে নগরীর শালবাগান এলাকা থেকে চালসহ ট্রাকটি জব্দ করে পুলিশ। ওসি আমান উল্লাহ জানিয়েছেন, দুপুরে তারা খবর পান- খাদ্য গুদাম থেকে সরকারি চাল পাচার করা হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতেই ট্রাকটি আটক করা হয়।

এ সময় চালের সঙ্গে চালানের কাগজ দেখাতে না পারায় ট্রাকসহ চালগুলো জব্দ করে থানায় নেয়া হয়। আটক করা হয় ট্রাকচালক ফিরোজ আহমেদকেও। ফিরোজ নগরীর হেতেমখাঁ এলাকার আফসার আলী মণ্ডলের ছেলে।

ওসি জানান, দুপুরে চালগুলো জব্দ করা হলেও চালানের কাগজের জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়। কিন্তু খবর পাঠানোর পরও খাদ্য গুদামের কোনো কর্মকর্তা কাগজপত্র নিয়ে থানায় যাননি। আবার কোনো ডিলারও চালের মালিকানা দাবি করেননি। তাই চালগুলো পাচার হচ্ছিল ধরে নিয়েই মামলা করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাকে মোট ১৭৬টি চালের বস্তা পাওয়া গেছে। প্রতিটি বস্তায় চাল আছে ৩০ কেজি। বস্তার গায়ে লেখা আছে- ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ- ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’। বস্তার গায়ে ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’ এবং খাদ্য অধিদপ্তরের নামও লেখা আছে।

প্রসঙ্গত, প্রতি বছর এপ্রিল ও মার্চ এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বাজারে চালের দাম বাড়তির দিকে থাকে। তাই এই পাঁচ মাস হতদরিদ্রদের ১০ টাকা দরে মাথাপিছু ৩০ কেজি করে চাল দিতে ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’ চালু করে সরকার। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে রাজশাহীতে এই কর্মসূচিরই চাল জব্দ করা হলো।

এ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সন্ধ্যায় বোয়ালিয়া থানায় গিয়ে চালগুলো পরিদর্শন করেছেন। চাল পাচারের ঘটনায় করা মামলাটিরও তদারকি করছে দুদক। মামলাটির তদন্তও করবে সংস্থাটি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক আবদুল আজিজ বলেন, যেহেতু চালগুলো সরকারি এবং মামলার বেশিরভাগ আসামিও সরকারি চাকরিজীবী তাই মামলাটি তদন্ত করবে দুদক। রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনারের মাধ্যমে মামলার এজাহার দুদকের কাছে যাবে।

(ঢাকাটাইমস/১০ডিসেম্বর/আরআর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত