চরমোনাই পীরের নেতৃত্বে মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:২৪

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার প্রতিবাদে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে গণমিছিল কর্মসূচি পালন করেছে। একই দাবিতে আগামী শুক্রবার দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম।

সোমবার দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি শুরু হয়। মার্কিন দূতাবাস অভিমুখি মিছিলটি রাজধানীর শান্তিনগর মোড়ে পৌঁছালে তাদের সামনে যেতে বাধা দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পরে সেখানে রাখা ব্যারিকেডের উপরে দাঁড়িয়ে চরমোনাই পীর বলেন, ‘আমরা মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছিলাম। কিন্তু বায়তুল মোকাররম থেকে শান্তিনগর পর্যন্ত এলে পুলিশ আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়। সরকারের এ রকম বাধা কতদিন চলবে? জোয়ার এলে কোনোভাবেই তা ঠেকানো যাবে না।’

রেজাউল করিম প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘মুসলিমদের ওপর এই অত্যাচার কতদিন চলবে? জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী করার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, এর প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার দেশব্যাপী জেলায় জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’

চরমোনাই পীর বলেন, ‘জেরুজালেম মুসলমানদের রাজধানী। ইহুদিরা বিশ্ব মানচিত্রে ছিলেন উদ্বাস্তু। মুসলমানরাই তাদের জায়গা দিয়েছে। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের ঘোষণা বিশ্ব নেতৃত্বের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। এর উচিত জবাব আমাদের দিতে হবে। জাতিসংঘ কোনো কাজের নয়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সেটা প্রমাণ হয়েছে। এর আগে ফিলিস্তিনে, ইরাকে ও আফগানিস্তানে জাতিসংঘ কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।’

আমেরিকার তৈরি সব পণ্য বয়কটের ঘোষণা দিয়ে চরমোনাই পীর বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশি মুসলমানরা আর মার্কিন কোনো পণ্য কিনবো না। তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।’

এর আগে সকালে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ইসলামী আন্দোলন। সমাবেশ শেষে মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিল থেকে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ক্ষোভ প্রদর্শন করেন অংশগ্রহণকারীরা।

প্রসঙ্গত, গত ৬ ডিসেম্বর রাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তৃতায় জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেন এবং তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস সেখানে সরিয়ে নেয়ার কথা জানান। এ ঘোষণার পর ফিলিস্তিনসহ মুসলিম বিশ্বে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গাজার প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস নতুন করে ইন্তিফাদার ডাক দেয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানো হয়েছে এবং এই অঞ্চলের শান্তি নষ্টের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী দলগুলো ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন থেকে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১১ডিসেম্বর/জিএম/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত