নব্য জেএমবিকে চাঙা করার চেষ্টায় ছিলেন সামাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৫:২২ | প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৫:২০

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আব্দুস সামাদ ওরফে আরিফ মামু ওরফে আশিক। আলোচিত এই জঙ্গি সংগঠনটির শুরু থেকেই তিনি এটি চাঙা করার চেষ্টা করেছেন। নীতি গ্রহণ, প্রশিক্ষণ, চাঁদা সংগ্রহসহ পালন করেছেন নানা দায়িত্ব। তামিম চৌধুরী মারা যাওয়ার পর সংগঠনের হাল ধরেছিলেন তিনি। তাকেসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের এই গ্রেপ্তারে জঙ্গি নেটওয়ার্ক অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়বে বলে মনে করছে সংস্থাটি। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

২০০৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি নিষিদ্ধ হওয়া জামআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) একটি অংশ ২০১৩ সাল থেকে ‘নব্য জেএমবি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। প্রথম দিকে সংগঠনটি মধ্যপ্রাচ্যের ইরাক ও সিরিয়ায় জিহাদি পাঠানো শুরু করে। ২০১৪ সালের ২৯ জুন ইরাক-সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) খেলাফত ঘোষণার পর নব্য জেএমবি ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বিদেশি নাগরিক, ভিন্ন মতাবলম্বী ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের টার্গেট করে হত্যা শুরু করে। গত বছরের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে দেশি-বিদেশি ২০ নাগরিক ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার পর নতুন করে আলোচনায় আসে সংগঠনটি।

হলি আর্টিজানে হামলার পর নব্য জেএমবির বিভিন্ন আস্তানায় ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে পুলিশ। এসব অভিযানে নব্য জেএমবির অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ও সামরিক কমান্ডার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তামিম আহমেদ চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন জঙ্গি নিহত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সংগঠনটির নেটওয়ার্ক অনেকটা ভেঙে পড়েছে। 

গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে কাউন্টার টেরোরিজমের একাধিক টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আব্দুস সামাদসহ তিনজনকে আটক করে। বাকি দুইজন হলেন আব্দুস সামাদের সহযোগী জিয়াদুল ইসলাম ও মো. আজিজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী হাসান ওরফে শিশির।

বুধবার রাত সাতটার দিকে রাজধানীর মহাখালী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ২০০টি ডেটোনেটর, একটি ৯ এমএম পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আসামি আব্দুস সামাদের বাড়ি দিনাজপুর। তিনি ২০০২ সালে দাওরায়ে হাদিস এবং ২০১১ সালে ফাজিল পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। আসামি জিয়াদুল এবং আজিজুল ইসলামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ। গ্রেপ্তারকৃত জিয়াদুল চতুর্থ শ্রেণি এবং আজিজুল ২০১৩ সালে দাখিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।

মনিরুল ইসলাম জানান, আসামি আব্দুস সামাদ ২০১০ সালে প্রথম জেএমবিতে যোগ দেন। ২০১৪ সালে তামিম চৌধুরীর সঙ্গে মিলে ‘জুনদ আল তাওহিদ আল খিলাফাহ’ নামক একটি দল গঠন করে। এই দলের তামিম চৌধুরী প্রধান এবং আব্দুস সামাদ সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে নিযুক্ত হন।

মনিরুল জানান, গ্রেপ্তারকৃত আব্দুস সামাদ দলের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রদান, সদস্য সংগ্রহ, অর্থ সংগ্রহ, বোমা তৈরিসহ নানাবিধ কাজে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও অস্ত্র চালানো এবং গ্রেনেড বিস্ফোরণের বিষয়ে আব্দুস সামাদ নবীন সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিতেন। বিভিন্ন সময় নব্য জেএমবির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা গ্রেপ্তার এবং নিহত হওয়ার পর তার নেতৃত্বে নব্য জেএমবির কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হয়। কল্যাণপুর ও মিরপুর এলাকায় তামিম চৌধুরীসহ আসামী আব্দুস সামাদ অবস্থান করে ডজনখানেক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। হাতকাটা মাহফুজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন পলাতক থেকে দলের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামি জিয়াদুল আব্দুস সামাদের শ্বশুর।

এছাড়াও জিয়াদুল চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার সীমান্ত দিয়ে নব্য জেএমবির অস্ত্র, বিস্ফোরক, ডেটোনেটর গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং বিতরণের দায়িত্ব পালন করতেন। গত দুই বছর ধরে আসামি শিশির পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জঙ্গি কার্যক্রমে যোগ দিয়ে জিহাদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান কাউন্টার টেরোরিজমের প্রধান।

(ঢাকাটাইমস/১৪ডিসেম্বর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত