‘প্রজন্মে প্রজন্মে জাতি স্মরণ করবে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের’

নজরুল ইসলাম ও সৈয়দ অদিত, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:২৭ | প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ২০:০৭

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরে জুবায়ের আহমেদ থাকেন পুরান ঢাকায়। প্রতি বছর তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে আসেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে। এবার তিনি একা নন, এসেছেন সহপরিবারে। এটা তার পরিকল্পনার মধ্যেই ছিল।

রাতে তার একমাত্র মেয়ে সামিয়া মায়ের কাছে শুনেছে বাবা খুব সকালে কোথায় যাবেন। বারবার বাবাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করে বাবা তুমি কোথায় যাবে? আমিও যাব। বাবা মেয়েকে না করে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। শেষমেশ বাবার আদরের মেয়ে সামিয়ার কাছে হার মানেন। সকাল সকাল বাবার কোলে চড়ে বাংলাদেশের পতাকা হাতে সামিয়া এসেছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে।

জুবায়ের ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমি ঢাকায় আসার পর থেকে প্রতি বছর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে এখানে আসি শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে। এবার সহপরিবারে এসেছি। রাতেই মেয়ে বায়না ধরে সেও আসবে। তাই নিয়ে এসেছি। তাছাড়া এদের জানানোর দরকার, আমাদের মেধাবি মানুষগুলো কারা ছিলেন এবং তারা কেন আজ নেই আর কেন আমরা এখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসি।’

জুবায়ের সঙ্গে কথার ইতি টানতেই দেখা মেলে তিন বছরের শিশু রিশাদের সঙ্গে। সে তার মায়ের সঙ্গে হাতে ফুল আর পতাকা নিয়ে এসেছে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানাতে। রিশাদের মা সেলিনা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানাতে এসে খুব ভালো লাগছে। ফুল দিয়ে বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছি। সবার উচিত প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আমাদের পূর্বপুরুষ সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া।’

জুবায়ের ও সেলিনার মতো অনেকেই শহীদের স্মৃতির ভূমিতে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে। অনেকেই বলে থাকেন একটা প্রজন্মের পর সবাই ভুলে যাবে জাতির সূর্যসন্তানদের। পাঠক, সামিয়া ও রিশাদের মতো অসংখ্য কোমল শিশুর উপস্থিতি কী বলে সেটার উত্তর আপনারাই দেবেন।

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে আজ জনতার ঢল নামে রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে। সব বয়সের, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আগমনে সকালেই ভরে ওঠে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পী, লেখক, সাংবাদিকসহ বহু খ্যাতিমান বাঙালিকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি বাহিনী ওই নিধনযজ্ঞ চালায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতার পর যেন বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে।

পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দুই দিন আগে বুদ্ধিজীবী হত্যায় প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করে রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যরা।

নিষ্ঠুর নির্যাতনের চিহ্নসহ জাতির মেধাবী সন্তানদের লাশ পাওয়া যায় মিরপুর ও রায়েরবাজার এলাকায়। পরে তা বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। নিমর্মভাবে হত্যা করা হয় ৯৯০ জন প্রখ্যাত শিক্ষক, ১৩ জন সাংবাদিক, ৫০ জন চিকিৎসক, ৫০ জন আইনজীবী ও ১৮ জন লেখক, প্রকৌশলীসহ অন্যান্য বুদ্ধিজীবীকে।

হত্যার শিকার বিশিষ্টজনদের মধ্যে রয়েছেন সিরাজুদ্দীন হোসেন, সেলিনা পারভীন, শহীদুল্লা কায়সার, অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক সিরাজুল হক খান, ড. মো. মুর্তজা, ড. আবুল খায়ের, ড. ফয়জুল মহিউদ্দিন, অধ্যাপক রাশিদুল হাসান, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, আলতাফ মাহমুদ, অধ্যাপক ফজলে রাব্বী, ডা. আলীম চৌধুরীসহ আরও অনেকে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের মরদেহ পরে রায়েরবাজার ও মিরপুর বধ্যভূমিতে পাওয়া যায়। কয়েকজনের মরদেহ পাওয়া যায়নি।

(ঢাকাটাইমস/১৪ ডিসেম্বর/এনআই/এসও/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত