রংপুরে ফিরছে ইভিএম

জহির রায়হান, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৮:০৩
ফাইল ছবি

আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণে ইভিএমের ব্যবহার করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকেই ভোটগ্রহণে পশ্চিমা দেশে ব্যবহৃত আধুনিক পদ্ধতি চালুর কথা উঠে। কিন্তু বিএনপি শুরু থেকেই এই যন্ত্র নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। তাদের আশঙ্কা এই যন্ত্র দিয়ে ভোটে দূর থেকে কারচুপি করা সম্ভব। আর তাদের বিরোধিতা ও বুয়েটে আবিষ্কৃত ইভিএমে কিছু কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ায় এর ব্যবহার সেভাবে চালু হয়নি বাংলাদেশে।

বাংলাদেশে কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু কেন্দ্রে ইভিএমের ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রথমে ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে এবং পরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবং সবশেষ গত ২০১২ সালে কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ নেতৃত্বাধীন কমিশন রংপুরে ছোট পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করেছিল।

সেই রংপুরেই ২১ ডিসেম্বর আবার ফিরছে ইভিএম। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন রংপুরে একটি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। কিন্তু কোন কেন্দ্রে এটি ব্যবহার করবেন বুধবার সেটি নির্ধারণ করেছে ইসি।

জানা যায়, রংপুর সিটি করপোরেশনের ২৫ নং ওয়ার্ডের ১৪১ নং ভোটকেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। ওই কেন্দ্রে দুই হাজার ৫৯ জন ভোটার রয়েছেন। নিউ শালবন ও শালবন এলাকার এসব ভোটার ছয় কক্ষে ইভিএমের মাধ্যমে তাদের ভোট দেবেন।

এই নতুন মেশিনে ভোটদানে ভোটারদের উৎসাহ দিতে বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মক ভোটিংয়ের ব্যবস্থা করছে ইসি। এই এলাকার ভোটাররা এই কয়েকদিন পরীক্ষামূলক ভোট দিতে পারবেন। ইভিএমের মাধ্যমে ভোটপ্রদান ও ভোটারদের সচেতন করতে ভিডিও চিত্র তৈরি করা হবে।

রংপুর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘একটি কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মক ভোটিং চলবে। আমরা এজন্য এলাকায় প্রচারণাও করছি। মক ভোটিংয়ের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে মেশিনের পরিচিতি ঘটবে।’

ইসি ২০১৬ সালে নিজেদের উদ্যোগে ইভিএম বানানোয় হাত দেয়। রংপুরে এই যন্ত্রটিরই পরীক্ষা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে ফিঙ্গার প্রিন্টের সুযোগ নাও থাকতে পারে।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনার মধ্যেও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) বিদ্যমান পদ্ধতির পাশাপাশি ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। তিনি বলেন, ‘যদিও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। তারপরও পরবর্তী নির্বাচনে যদি ইভিএম ব্যবহার করতে চাইলে যেন করা যায়, সেজন্য বিদ্যমান পদ্ধতির পাশাপাশি ইভিএম ব্যবহার করার সুযোগ রাখা হচ্ছে।’

এরআগে বুয়েটের তৈরি ইভিএম প্রথম ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের একটি ওয়ার্ডে ব্যবহার করা হয়। পরে নায়ায়ণগঞ্জের কয়েকটি ওয়ার্ডে, নরসিংদী পৌরসভা ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পুরো নির্বাচন ইভিএমে করা হয়।

বুয়েট ও ইসির মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে ২০১৬ সালে ইসি নিজেদের উদ্যোগে ইভিএম বানানোয় হাত দেয়। এতে জালভোট ঠেকাতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতির সহায়তা নেওয়া হবে। নতুন এ পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে ভোটার পরিচিতি নিশ্চিত করা হবে। গত ১১ মে সিইসি কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসির সামনে তা উপস্থাপনও করা হয়।

ঢাকাটাইমস/১৫ডিসেম্বর/জেআর/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত