ফায়জানে মদিনার বিরিয়ানি

কাজী রফিকুল ইসলাম,ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:০০

-আচ্ছা বিরিয়ানি খেতে আপনার কেমন লাগে?

আপনি বলবেন- এটা কোনো প্রশ্ন হলো? বিরিয়ানি খেতে ভালো লাগে না কার তাই জিজ্ঞেস করুন বরং।

আসলেইতো, বিরিয়ানি খেতে কে না ভালবাসে? বাঙালির রসানায় এ এক খাবার যার চাহিদা সারা বছরই লেগে আছে। ঢাকা শহরের মোড়ে মোড়ে গজিয়ে ওঠা এবং টিকে যাওয়া বিরিয়ানির দোকানের দেখা পাওয়াই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

তবে হালের গজিয়ে ওঠা বিরিয়ানির দোকানের সাথে স্বাদে আর গন্ধে আকাশ পাতাল পার্থক্য ঢাকার অনেক পুরোনো এবং ঐতিহ্যবাহী নামকরা বিরিয়ানির। এটা আপনাকে মানতেই হবে কারণ যুগ যুগ ধরে চলে আসা এসব বিরিয়ানি রান্না করার কায়দা কানুনই এমন যে স্বাদে অসধারন না হবার কোনো সুযোগই থাকে না। এরকমই একটা বিরিয়ানির দেখা মিলবে মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের ভেতর। দোকানের নাম ফায়জানে মদিনা বিরিয়ানি হাউজ। ‘বোবার বিরানি’ বললে সবাই এক নামে চেনে।

প্রশ্ন করতে পারেন বোবার বিরিয়ানি কেন? তার কারণ হলো এ দোকানে বিরিয়ানি বেড়ে দিতো যে মানুষটি তার নাম সামির, তিনি ছিলেন বাক শক্তিহীন। সবাই তাকে চিনতো। তাছাড়া দোকানের আসল নাম ফায়জানে মদিনা বলাটা বেশ শক্ত অনেকের জন্য। তাই লোক মুখে এ বিরিয়ানির দোকানের নাম হয়ে যায় বোবার বিরিয়ানি।

তো এই বিরিয়ানিতে কি এমন আছে? না খেলে বুঝবেন না। আসলেই এর স্বাদ অতুলনীয়। চমৎকার ঝরঝরে চাল, আর নানান রকম মসলায় কষানো মাংসের যে অসামান্য মেল বন্ধন তাতে সোনায় সোহাগা হিসেবে যোগ হয় লাল করে ভাজা আলুর টুকরো। এই আলুর স্বাদও এমনই যে বিরিয়ানির অর্ধেকটা আলু দিয়েই খেয়ে ফেলা যায়। সেট যদি খেয়ে ফেলেন চাইলেই আপনাকে আরেকটা আলু দেবে ওরা। চাইকি একটু বাড়তি পোলাও কিংবা লোকজন কম থাকলে এক টুকরো বাড়তি মাংসও উঠে আসবে আপনার পাতে। দোকানের আকার ছোটো হলেও দোকান মালিকের কলিজা বড়, এটা তখন মানতেই হবে আপনাকে।

ফায়জানে মদিনার খাবার সুস্বাদু হওয়ার কারণ কি? এমন প্রশ্নের উত্তরে আফতাব হোসেন বলেন “আমরা লাকড়ির চুলায় বিরিয়ানি রান্না করি, অন্যরা গ্যাসের চুলায় রান্না করে।“

তাছাড়া বাবার আমলের সেই একই রেসিপি আজও ধরে রেখেছেন আফতাব হোসেন। একচুলও এদিক সেদিক করেননি সেটার। আর এসব কারণেই তার দোকানের বিরিয়ানির স্বাদ একবার খেলে বহুদিন পর্যন্ত মানুষের জিহ্বায় লেগে থাকে। জানালেন মোহাম্মদপুর সহ দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসা ভোজন বিলাসিদের চাহিদা পূরণে প্রতিদিন ৫০-৬০ কেজি চালের বিরিয়ানি রান্না হয় তার এখানে। একই হারে মাংস দিতে হয়। সাথে সুবিধা অনুপাতে আলু। সাথে বাবুর্চির নিপুণ কারিগরি।



 ফায়জানে মদিনার গোড়াপত্তন ১৯৮৬ সালে। প্রথম দিকে বিরিয়ানি নয় তেহারি বিক্রি হতো এখানে। প্রতি প্লেট তেহারির দাম তখনকার দিনে ছিল মাত্র পাঁচ টাকা। ১৯৯৬ সালে তেহারির পরিবর্তে বিরিয়ানি বিক্রি শুরু করেন দোকান মালিক আলতাফ হোসেন। পরবর্তিতে তার ছেলে আফতাব হোসেন দোকানের দায় দায়িত্ব নিয়ে বাবার সেই সিদ্ধান্তকেই ধরে রেখেছেন আজও।

দোকানের সারাদিনের খদ্দেরের দিকে তাকালে দেখা যাবে, খদ্দেরের অধিকাংশই বাঙালী। অর্থাৎ জেনেভা ক্যাম্পের বাহিরের বাসিন্দা। কেউ কেউ আসেন দূর দূরান্ত থেকে। একটাই কারণ এখানকার বিরিয়ানির স্বাদ।

কেরানীগঞ্জ জেলা থেকে মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের 'ফায়জানে মদিনা বিরিয়ানি হাউজ'এ খেতে এসেছেন আব্দুল্লাহ টিপু, জোবায়ের হোসেন ও জাহিদ হাসান। যেখানে তিন জনের যাতায়াত খরচ সাড়ে তিনশ টাকার মত, সেখানে খাওয়ার বিল এলো ৩৯০ টাকা। কেরানীগঞ্জ উপজেলায় বেশ কিছু বিরিয়ানির দোকান রয়েছে, তা সত্ত্বেও বাড়তি খরচ করে মোহাম্মদপুর। কারণ জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ টিপু ঢাকাটাইমসকে জানান, "আমি আগেও এখানে খাইছি। জোবায়েরও খাইছে। জাহিদ আজ প্রথম খাইল। দাম কমের লাইগা না। আমরা যে ভাড়া দিয়া আহি, ঐ দিলা এলাকায় ছয়-সাত জন খায়া পারুম। এহানে আহি, খাওনডা মজার। আলাদা টেষ্ট আছে। যে খাইছে ওর আবার আহা লাগে।"

এখানে কাচ্চি বিরিয়ানি পাওয়া যাবে ফুল প্লেট ৮০ ও হাফ প্লেট ৫০ টাকায়। একই দামে পাওয়া যাবে মোরগ পোলাও। সাথে আছে চমৎকার বোরহানিও। বসে খেয়ে আবার বাসায় নিয়ে যেতে চাইলে, সে ব্যবস্থাও আছে। অর্ডার নেয়া হয় যে কোনো অনুষ্ঠানের।

প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত খোলা পাবেন ফায়জানে মদিনার দরজা।

(ঢাকাটাইমস/ ১৫ ডিসেম্বর/ কারই/ কেএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত