বিজয় উৎসবে মাতোয়ারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩:২০ | প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ২১:০২

মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশাত্মবোধক যেসব গানে উদ্বুদ্ধ হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা আর মুক্তিকামী কোটি মানুষ, ৪৬ বছর পর সেসব গানে দেশপ্রেমে আবার উদ্বুদ্ধ হলো হাজারো মানুষ। সঙ্গে ছিল নাচসহ আরও নানা আয়োজন।

শনিবার নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বিজয় দিবস। রাজধানীতে অনুষ্ঠানমালার সবশেষ আয়োজন ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘বিজয় উৎসব’।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিনা শর্তে পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিযে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছিল। সেই উদ্যানেই উৎসব হলো ৪৬ বছর পর। হাজার হাজার মানুষ সে উৎসবে অংশ নিয়ে উদযাপন করলো বিজয়ের মুহূর্ত।

সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই উৎসব শুরু হয় সন্ধ্যার পর। শুরুতেই শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা দলগতভাবে গান পরিবেশন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। সেখান থেকে বক্তৃতা ছাড়াও তিনি কথা বলেন উৎসবে আসা পাঁচ জনের সঙ্গে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের মাঝে সরাসরি উপস্থিত হতে পারিনি, কিন্তু বাংলাদেশকে ডিজিটাল গড়ে তুলব, সেই ঘোষণা দিয়েছিলাম। আজকে সেই ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে সেখানে উপস্থিত থাকতে পেরে সত্যিই আমি আনন্দিত।’

পাকিস্তানের সঙ্গে বাঙালিদের বিরোধ, শোষণ বঞ্চনার কথা তুলে ধরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরতা, তাদের এ দেশীয় দোসরদের গণহত্যায় সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, শেষ পর্যন্ত তারা বিজয়ী হতে পারেনি, বিজয়ী হয়েছে এই দেশের মানুষই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যারা যুব সমাজ আছে, তাদেরকে এটুকুই বলবো যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লাখো যে শহীদ, সেই শহীদের ত্যাগরে মহিমায় নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে। গড়ে তুলতে হবে বাংলাদেশকে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এক মুহূর্তের জন্য ভুললে চলবে না যে আমরা বিজয়ী জাতি। আমরা কারও কাছে মাথা নত করি না। আমরা বিশ্বে মাথা উঁচু করে মর্যাদার সঙ্গে চলব।’

বক্তৃতা পর্বের পর ভিডিও কনফারেন্সে বিজয় উৎসবে উপস্থিত পাঁচ জনের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এদের একজন বরিশালের একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি আপনার পিতার নির্দেশে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম। লড়াই করে দেশকে স্বাধীন করেছি। আপনাকেও অভিনন্দন জানাই।’

প্রথানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাকেসহ সব মুক্তিযোদ্ধাকেও জানাই লাখো সালাম্।’

এরপর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ফারজানা আলীর সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তার বাবা আলী হোসেন মনি ছিলেন পূ্র্ব বাংলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন।

ফারজানা বলেন, ‘আপনি নারী, আপনি নারীর ক্ষমতায়ন করেছেন, আমরা গর্বিত, আপনাকে আমরা অভিনন্দন জানাই।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন অন্তর দেওয়ান নামে একজন শিল্পীর সঙ্গে। তার বাড়ি পার্বত্য অঞ্চলে। তিনি বলেন, ‘আজকে আমি পারফর্ম করেছি। আপনার সরকার যে উদ্যোগটা নিয়েছেন, সেটা যেন সব সময় থাকে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা থাকবে। আমাদের সরকার সব সময় এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’

এরপর মাইশা নামে একজন শিক্ষার্থী কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আপনার নেতৃত্বে নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হচ্ছে, এ জন্য আপনাকে অভিনন্দন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা ভালোকরে পড়াশোনা করো, তোমরাই মন্ত্রী, এমপি হবে।’

সবশেষ কথা বলেন আরেক শিক্ষার্থী আবির। তাকেও যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে মনযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক কথা হয়েছে, এবার একটু গান শুনি।’

উপস্থাপিকা এই পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনী ‘জয় বাংলা’ গ্লোগান দেন। ‘হচ্ছে না তো। ঢাকা শহরে অনেক স্লোগান দিয়েছি’ বলে প্রধানমন্ত্রী কয়েকবার ‘জয় বাংলা’ এবং পরে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পী শামীম আরা নিপা। এরপর গান পরিশেন করেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুগ যুগ ধরে বাঙালি জাতি এই ধরনের উৎসব করবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

গণভবনের আয়োজনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকাটাইমস/১৬ডিসেম্বর/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত