সারাদেশে নানা আয়োজনে বিজয় দিবস উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
 | প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩:৫৯
সাতক্ষীরায় বিজয় দিবস উদযাপনে শিক্ষার্থীরা

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সারাদেশে আনন্দে-উচ্ছাসে উদযাপিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

দিবসটি উপলক্ষে ঢাকাসহ সারাদেশের স্মৃতিসৌধে মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ‍শনিবার প্রথম প্রহরে ৩১ বার তোপধ্বনীর মাধ্যমে দিবটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরে সকালে মুক্তিযুদ্ধের ওপর আলোচনা সভা করে এর তাৎপর্য তুলে ধরেছেন এলাকার গণমান্য ব্যক্তি ও মুক্তিযোদ্ধারা। এছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মুক্তিযুদ্ধের ছবি প্রদর্শনী ও বিজয় মেলায় মেতেছে মানুষ।

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সাভার

দিবসটি উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার ভোর ছয়টা ৩৫ মিনিটে তাঁরা স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা। শ্রদ্ধা জানানোর পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মরণ করেন। এরপর জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শ্রদ্ধা জানান।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ছেড়ে যাওয়ার পর শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

গাজীপুর

দিবসটি উপলক্ষ্যে কাপাসিয়ায় মিয়ার বাজার এলাকায় স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, শহীদ তাজউদ্দীনের ভাগিনা আলম আহমদ। এছাড়া উপজেলা কৃষকলীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে মোটর শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জেলা শহরের রাজবাড়ি মাঠ সংলগ্ন শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোলায়মান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পর্যায়ক্রমে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, সিটি করপোরেশন, জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে জেলা প্রশাসকসহ অন্যরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পরে শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লের আয়োজন করা হয়। জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও স্থাপনা বর্ণিল আলোক সজ্জায় সাজানো হয়।

শ্রীপুর

সকাল ৭টায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে “স্মৃতিসৌধ-৭১” এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যন আব্দুল জলিল, নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান, মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হুসেন, শ্রীপুর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ, শ্রীপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপি, শ্রীপুর উপজেলা জাতীয় পার্টি, শ্রীপুর প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ নুরুন্নবী আকন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।

সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তারের সভাপতিত্বে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট রহমত আলী এমপি।

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)

শনিবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন, পৌরসভা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রেসক্লব, বণিক সমিতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতি সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

পরে দিবসটি উপলক্ষে সকাল আটটার দিকে মির্জাপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পুলিশ আনসার, স্কাউট সদস্য ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে কুচকাওয়াচ ও ডিসপ্লের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এসএম মোজাহিদুল ইসলাম মনির, মীর্জা শামীমা আক্তার শিফা, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক প্রমুখ।

পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর পুরষ্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

রূপগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপন পালিত হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শাহজাহান ভুইয়া, নির্বাহী অফিসার আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার সাইদুল ইসলাম, ওসি ইসমাইল হোসেন প্রমুখ। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন, শেখ সাইফুল ইসলাম, মানজেরে আলম টুটুল, ফেরদৌসি আলম নিলা, তোফায়েল আহাম্মেদ আলমাছ, জাহেদ আলী, তাবিবুল কাদির তমাল, র্ভিসি সোহেল, মোস্তাফিজুর রহমান মোল্লা, যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রফিক প্রমুখ।

অপর দিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিকের নেতৃত্বে পৃথক শোভাযাত্রা বের করা হয়।

কিশোরগঞ্জ

রাত ১২.০১ মিনিটে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির শুভ সূচনা করা হয়। শনিবার সকালে কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য দিলারা বেগম এমপি। এর পর পরই জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের লোকজন, সদর উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন।

ভৈরবে বিজয় মেলা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিজয় দিবস উদযাপনের পাশাপাশি শুরু হয়েছে বিজয় মেলা।

সন্ধ্যায় পৌর শহরের ভৈরব কে.বি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা মো. সায়দুল্লাহ মিয়া এই মেলার উদ্বোধন করেন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সংগঠন ’বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ, ভৈরব’ বিজয় মেলার আয়োজক।

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জ ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে পুলিশ প্রশাসনের তোপধ্বনীর মধ্যদিয়ে দিবসটির কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাকুন্দিয়া ডিগ্রি কলেজ প্রাঙণে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তর্বক অর্পণ করা হয়।

এসময় ইউএনও অন্নপূর্ণা দেবনাথ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো.রফিকুল ইসলাম রেনু, পাকুন্দিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন, এসিল্যান্ড হাফিজুর রহমান, ওসি (তদন্ত) সারোয়ার জাহান, পৌরমেয়র আক্তারুজ্জামান খোকন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র বণিক প্রমুখসহ উপজেলা ও থানা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে পাকুন্দিয়া পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়। এসময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. মুখলেছুর রহমান বাদল, ইউএন অন্নপূর্ণা দেবনাথ, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনু, এসিল্যান্ড হাফিজুর রহমান, ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন, উপজেলা পরিষদের ভাইসচেয়ারম্যান আজিজুল হক, শামছুন্নাহার আপেল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মিসবাহ উদ্দিনসহ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ ও মনোজ্ঞ ডিসপ্লে উপভোগ করেন।

নরসিংদী

মুক্তিযোদ্ধাদের মহান ত্যাগের কথা স্মরণ করে নরসিংদীবাসী কালেক্টরেট ভবনের অভ্যন্তরে শহীদ স্মৃতিফলকে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

সকাল সাড়ে ৮টায় মোসলেহ উদ্দিন ভূইয়া স্টেডিয়াম নরসিংদীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং প্যারেড ও কুচকাওয়াজে জেলা প্রশাসক ড, সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস ও পুলিশ সুপার আমেনা বেগম বিপিএম সালাম গ্রহণ করেন ।

এ ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির জন্য সকল মসজিদে মোনাজাত এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনা করা হয়।

গফরগাঁও

ময়মনসিংহ জেলার শহরের পাশাপাশি গফরগাঁও উপজেলাতেও উদযাপিত হয়েছে বিজয় দিবস। সকালে স্থানীয় ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুল মাঠে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়। কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন বাদল ও ইউএনও ডা. শামীম রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গফরগাঁও থানার ওসি মো. আব্দুল আহাদ খান ও পাগলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোখলেছুর রহমান আকন্দ। পরে একই স্থানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

কালকিনিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আজ দুপুরে অডিটরিয়াম হলরুমে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। এতে ইউএনও শেখ হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন এমপি আফম বাহাউদ্দিন নাছিম। এসময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল জলিল, সাবেক কমান্ডার কবি মালেকুজ্জামান মালেক, জেলা আ. লীগ নেতা খায়রুল আলম খোকন বেপারী, এজিএমকম সিদ্দিকুর রহমান, ওসি কৃপা সিন্ধু বালা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

খাগড়াছড়িতে তিন দিনব্যপী মাউন্টেন বাইক প্রতিযোগিতা

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় সাজেক থেকে থানচি পর্যন্ত তিনদিন তিন পার্বত্য জেলাব্যাপী বিজয় দিবস ‘ট্যুর ডি সিএইচটি’ মাউন্টেন বাইক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টায় রাঙ্গামাটি জেলার সাজেকে এ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা-এনডিসি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তরুন কান্তি ঘোষ, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন-সচিব এবিএম নাসিরুল আলম।

এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব এসএএম শাহেন রেজা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান, স্থানীয় জোন কমান্ডারসহ সামরিক-বেসামরিক উর্দ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সাজেক থেকে থানচি পর্যন্ত তিন দিন তিনটি পার্বত্য জেলাব্যাপী ৩০০ কিলোমিটার পথ প্রদক্ষিণ করবেন প্রতিযোগিতারা। তিন পার্বত্য জেলার ৬জন করে প্রতিযোগিসহ বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের ৫৩জন প্রতিযোগী এতে অংশগ্রহণ করছেন। এ প্রতিযোগিতায় সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে তিন জেলার পার্বত্য জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, স্কাউটস, রেডক্রিসেন্টসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ।

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

সকালে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ক্রীড়া পুরস্কার বিতরণের পর দুপুরে উপজেলা পরিষদের শহীদ শফিকুন নুর মওলা বীর প্রতীক গণমিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্টিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, সাংসদ আলহাজ্ব সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিপক কুমার রায়ের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান এম.তৌহিদুল আলম বাবু, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ফখরুল আনোয়ার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম.সোলাইমান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এইচ এম আবু তৈয়ব, এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী। এতে আরো বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল বশর চৌধুরী, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বোরহান উদ্দিন চৌধুরী।

চুয়াডাঙ্গা

সকালে শহরের হাসান চত্বরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে স্মৃতিসৌধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক সংগঠনসহ সরকারি বেসরকারি সংগঠনগুলো শহীদদের প্রতি পূষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

সকাল ৮টায় চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর শুরু হয় কুচকাওয়াচ প্রদর্শন। পরে সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়।

চাঁদপুর

সকাল ৮টায় চাঁদপুর স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এর পরপর পুলিশ আনসার ভিডিপি, বিএনসিসি, ফায়ার সাভিস, সিভিল ডিফেন্স, কারারক্ষী, রোভার স্কাউটস, গার্লস গাইডও কমিউনিটি পুলিশসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী এবং অন্যান্য শিশু কিশোর সংগঠনের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সাংসদ ডা. দীপু মনি। এ সময় জেলা প্রশাসক আব্দুর সবুর মন্ডল, পুলিশ সুপার শামছুন্নাহান, জেলা আ.লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল উপস্থিত ছিলেন। পরে ক্রীড়ানুষ্ঠান ডিসপ্লে প্রদর্শন ও পুরস্কার বিতরণ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। সকাল ১১টায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে বীর মুক্তিযোদ্বাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। ১১টায় সকল সিনেমা হলে বিনামূল্যে ছাত্র ছাত্রী-শিশু কিশোরদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

নোয়াখালীতে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা

সকালে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে জেলা পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট, নোয়াখালী প্রেসক্লাব, জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাসদ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার, পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মাহে আলম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডার মোজাম্মেল হক মিলন, নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি বখতিয়ার শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন বিষাদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিয়া মো. শাহজাহান, যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মমিন বিএসসি, শহর জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নোয়াখালীর সাধারণ সম্পাদকএমদাদ হোসেন কৈশোর প্রমুখ।

লক্ষ্মীপুর

সকাল ৬টা ৩৪মিনিটে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে বিজয় চত্বর স্মৃতি সৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক হোমায়রা বেগম। এরপর পর্যায়ক্রমে পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

পরে সকাল ৬টা ৪৫মিনিটে শহরের বাগবাড়িস্থ গণ কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে শহীদদের রুহের মাঘফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক হোমায়রা বেগম, পুলিশ সুপার আসম মাহতাব উদ্দিন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ।

বেনাপোল ও শার্শায় বিজয় দিবস উদযাপন

সকালে কাস্টমস, বন্দর, পুলিশ, বিজিবি, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, প্রেস ক্লাব বেনাপোল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যানার ফেস্টুন ও ফুলের ডালি নিয়ে র‌্যালি সহকারে কাগজপুকুর স্মৃতি সৌধে পুস্পাঞ্জলি অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শার্শা স্টেডিয়াম ও কাশিপুর বীর শ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ এর মাজারে সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, বিজিবির কমান্ডিং অফিসার কর্নেল আরিফুল হক, বেনাপোল পৌর সভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন, শার্শা উপেজলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে শার্শা স্টেডিয়ামে পুলিশ, আনসার, ভিডিবি, বন্দরের নিরাপওা প্রহরী ও শিশু শিক্ষার্থীদের কুজকাওয়াজ ও গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন।

ভোলা

শনিবার বেলা ১১টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন ব্যানার ফ্যাস্টুনসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাংলা স্কুল মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে বাংলা স্কুল মাঠে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ্রগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মমিন টুলু, সদর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মো. মোশারেফ হোসেন, পৌর মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক জহিরুল ইসলাম নকীব, এনামুল হক আরজু, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো: ইউনুস, শ্রমীক লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুল হক বাহালুল মোল্লা, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নজিবুল্লাহ নাজু, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলী নেওয়াজ পলাশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান, স্বেচ্ছা সেবকলীগের আহবায়ক আবু ছায়েম, যুগ্ম-সম্পাদক মো. তুহিন, ছাত্রলীগ সভাপতি ইব্রাহীম চৌধুরী পাপন, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মাহামুদ প্রমুখ।

জয়পুরহাট

আজ বিকালে উপজেলার গোপিনাথপুর বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যেগে গুণীজন সংবর্ধনা ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু ছাইদ জোয়াদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালাউদ্দিন আহমেদ, আক্কেলপুর পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আছিয়া খানম সম্পা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোকছেদ আলী ও আক্কেলপুর মুজিবর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোকসেদ আলী প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

বগুড়া

দিবসটি উপলক্ষ্যে মুক্তির ফুলবাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের স্মরণ করা হয়। জেলা প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অপরদিকে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে শিশু কিশোরদের কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও ক্লাবে সদস্যরা আংশগ্রহণ করেন। পরে জেলা প্রশাসন, প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এছাড়াও সকালে সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার পক্ষ থেকে ফুলবাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের স্মরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি মীর্জা সেলিম রেজা, সেক্রেটারি গণেশ দাস, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলে রাব্বী ডলার, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াদুদ, বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও ইউনিয়নের সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোঘল, সদস্য প্রতীক ওমর, শুভাকাঙ্খী ইকবাল হোসেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

সকালে তোপধ্বনীর পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সম্বলিত স্মৃতিফলকে মুক্তিযোদ্ধ সংসদ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রাশাসন সিটি প্রেসক্লাব চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন সংগঠনের  পুস্পস্তবক অর্পণ এবং সকল সরকারি আধা-সরকারি ও বেসরকারি ভবনে পতাকা উত্তোলন করা হয়।

সকাল সাড়ে ৮ টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান ও পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম। এ সময় পুলিশ, বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্ল গাইডস, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।  

এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন আলাদা আলাদাভাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোচনা সভা, র‌্যালি, চিত্রাংকন, দেশাত্মবোধক সংগীত ও রচনা প্রতিযোহিতাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

দিনাজপুর

দিবসটি উপলক্ষ্যে দিনাজপুরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ ও চেহেলগাজী মাজারে স্মৃতিসৌধে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, জেলা প্রাশাসক মীর খায়রুল আলম, পুলিশ সুপার হামিদুল আলমসহ সর্বস্তরের মানুষ।

ভোর সাড়ে ছয়টায় তারা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ ও চেহেলগাজী মাজারে স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। 

এছাড়াও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরে কুজকাওয়াজ, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনাসভা,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে জেলা প্রশাসন, হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন।

ঝালকাঠি

সকাল ৯টায় শহরের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক ও পুলিশ সুপার জোবায়েদুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দিবটিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক ও পুলিশ সুপার জোবায়েদুর রহমান, জেলা আ.লীগের সভাপতি জেলা পরিষদ প্রশাসক সরদার মো. শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খান সাইফুল্লাহ পনির, সদর উপজেলা চেয়ারম্যন সুলতান হোসেন খান, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আনোয়ার হোসেন আনু সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান, দুরযাত্রা সম্পাদক ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার জেলা সভাপতি জিয়াউল হাসান পলাশ, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম রেজাউল করিম, জেলা সভাপতি আজমীর হোসেন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু, ধ্রুবতারা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি আসাদুজ্জামান হারিসসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্প অর্পণ করা হয়।

ঝিনাইদহ

জেলা প্রশাসক মো. জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. রাশিদা সুলতানা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাস, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদদের স্মরণে পুস্প মাল্য অর্পণ করেন।

এর আগে শোভাযাত্রা সহকারে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হন শহীদ স্মৃতি সৌধ পার্কে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলা শহরে নানা কর্মসুচির মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী দিবসটি পালিত হয়। খেলা ধুলাসহ নানা আয়োজন ছিল এ সব অনুষ্ঠানে ।

দুপুরের দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এমপি ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুর নেতৃত্বে বিশাল বিজয় মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি স্থানীয় মুজিব চত্বরে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিকে মাল্যদান দান করেন নেতৃবৃন্দ। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।

 

মাগুরা

জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। পরে শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য ১ মিনিট নিরাবতা পালন শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে বিভিন্ন সংগঠন সেখান থেকে র‌্যালি করে শহর প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে মাগুরা বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে পুলিশ, আনসার, স্কুল, কলেজ, স্কাউট, রোভার স্কাউটসহ বিভিন্ন ক্লাব কুচকাউয়াজ ও শারীর চর্চা প্রদর্শনীতে অংশ নেন। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

পিরোজপুর

সকালে স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পৌর মেয়র, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, প্রেসক্লাব, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েসনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন একে একে স্থানীয় বলেশ্বর নদীর ঘাটে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুস্প মাল্য অর্পণ করেন। সকাল নয়টায় স্থানীয় জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খায়রুল আলম সেখ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবির। পরে শিশু কিশোরদের অংশ গ্রহণে শারীরিক কসরত প্রদর্শন শেষে পুরস্কার প্রদান করা হয়। সন্ধ্যায় স্থানীয় শহীদ মিনার চত্বরে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।

সাতক্ষীরা

৩১ বার তোপ ধ্বনীর পর সকালে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পতাকা উত্তোলন, সালাম গ্রহণ, পুলিশ, বিএনসিসিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চা প্রর্দশনী, রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের রুহের মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, তালা-কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য মিসেস রিফাত আমিন, জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন, পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোশারফ হোসেন মশু প্রমুখ। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়।

সিলেটে শহীদ মিনারে ঢল

শনিবার ভোর থেকেই হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে সিলেট শহীদ মিনারে। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার ফুলে ভরে ওঠে শহীদ মিনার বেদী।

সকাল ৬টা ৩১ মিনিট থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুরু হয়েছে শ্রদ্ধা নিবেদন। সিলেট শহীদ মিনার বাস্তবায়ন পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ও মহানগর ইউনিট, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি সিলেট রেঞ্জ, সিলেট জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সিলেট যেন পতাকা শহরে রুপ নেয়। শহরের সড়কগুলোর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে শোভিত জাতীয় পতাকা।

শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীরা লাল-সবুজের পতাকা সদৃশ ক্যাপ মাথায় দিয়ে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করতে ছুটে যাচ্ছেন শহীদ মিনারের দিকে।

সড়কগুলোতে বিজয় দিবস উপলক্ষে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। লাল-সবুজের আদলে করা এই আলোকসজ্জা লাখো শহীদের রক্তে কেনা এই দেশের বীর শহীদদের ত্যাগের কথা বলে।

সকালে ৩১ বার তোপধ্বনীর পর সাড়ে ৯ টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান।

পরে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা, নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

(ঢাকাটাইমস/১৬ডিসেম্বর/ ইএস)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত