ফিরে দেখা-২০১৭

বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:১১ | প্রকাশিত : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৮:২১

আগের বছর থেকেই মাঠের রাজনীতির বাইরে ছিল দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি। ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন উপলক্ষে ‘কালো পতাকা মিছিলের’ কর্মসূচিও শেষ পর‌্যন্ত পালন করতে পারেনি দলটি। ফলে একরকম ঘরোয়া সভা আর মানববন্ধনের মধ্যে সীমিত হয়ে পড়েছিল দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির রাজনীতি।

বছরের শেষ ভাগে এসে যেন হঠাৎ মরুবুকে বারিবিন্দু। সেপ্টেম্বরে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন থেকে ফেরার দিন এবং অক্টোবরে রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে কক্সবাজার সফরকালে সড়কে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি মাঠের রাজনীতিতে দলটি পুনর্জাগরণ হিসেবে  বেশ আলোচনায় আসে।

এর পরের মাসেই ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দীতে দলটির সমাবেশের অনুমতি পাওয়া ও সফলভাবে তা সম্পন্ন হওয়ায় বেশ আলোচনায় আসে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

আলোচিত এই তিন জনসমাগমের খবরসহ বিএনপির সারা বছরের কর্মকাণ্ডের খবর নিয়ে সালাতামামি ২০১৭।

নতুন ইসিতে বিএনপির আপত্তি

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে ফেব্রুয়ারিতে নতুন নির্বাচন কমিশন ঘোষণা হলে তাতে আপত্তি জানায় বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিকরা।

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিবর্তে ‘প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে’ বলে অভিযোগ আনা হয় জোটের পক্ষ থেকে। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না বলেও দাবি করে বিএনপি।

কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে বিএনপির জয়

মার্চে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু বিজয়ী হন। এই জয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ে বিএনপির। ওই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সাক্কু পান ৬৮ হাজার ৯৪৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের মেয়র প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা পান ৫৭ হাজার ৭৬৩ ভোট।

ঢাকা মহানগরে বিএনপির নতুন কমিটি

১৯ এপ্রিল ঢাকা মহানগরে নতুন নেতৃত্ব আনেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

প্রথমবারের মতো সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে মিল রেখে ঢাকা মহানগরে উত্তর-দক্ষিণ নামে দুটি কমিটি করা হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি করা হয় আগের কমিটির সদস্যসচিব এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলকে। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান আগের কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবুল বাশার।

আর ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় আবদুল কাইয়ুমকে এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান আহসান উল্লাহ। তবে  এই কমিটি এখন পর‌্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি।

কয়েকটি অঙ্গসংগঠনের কমিটি করতে পারেনি

অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক ও যুবদলে নতুন কমিটি দিতে পারলেও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে অন্যান্য সংগঠনের কমিটি ঘোষণা। নির্বাচন সামনে রেখে চলতি বছর কমিটি হবে- নেতাকর্মীরা এমন আশায় বুক বাঁধলেও এসব সংগঠনের কমিটি কবে হবে তার নিশ্চয়তা নেই। আন্দোলনের ভ্যানগার্ড খ্যাত ছাত্রদলের কমিটির মেয়াদ অনেক আগে শেষ হলেও নতুন নেতার আশায় ছাত্রদল কর্মীরা। 

আজও  অসম্পূর্ণ মূল দলের কমিটি

১৮ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি (আংশিক) ঘোষণা করা হয়। পরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে এমনটা বলা হলেও সাড়ে চার মাস পর ৬ আগস্ট তা ঘোষণা করা হয়। তবে এখনো স্থায়ী কমিটিসহ কয়েকটি পদ খালি রয়েছে। এরই মধ্যে স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য মারা গেলে তাদের পদও খালি হয়।

ভিশন -২০৩০ চমক!

১০ মে বিএনপির ভিশন-২০৩০ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন খালেদা জিয়া। তার এই ভিশন রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা সংসদীয় সরকারের আবরণে স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে দাবি করে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যামে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনার কথা বলেন বিএনপি-প্রধান।

ক্ষমতায় এলে কালাকানুনগুলো বাতিল, বিচার বিভাগ ঢেলে সাজানো, পুলিশকে আধুনিকায়ন, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের সঠিক তালিকা করা, দেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের কাতারে তুলতে পদক্ষেপ নেওয়া, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ ভাগ ব্যয় করা, তথ্য-প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত করা, বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল, বেকার ভাতা দেওয়া, বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ, ব্রহ্মপুত্র সেতু; বুড়িগঙ্গা, গোমতী ও কর্ণফুলী নদীর ওপর নতুন সেতু তৈরি, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস হাইওয়ে, সারাদেশে বিভিন্ন মহাসড়ক চার লেনে উন্নয়ন, সার্কভুক্ত ও আশিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে রেল ও সড়ক যোগাযোগে উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয় ওই ভিশনে।

৪১ পাতার ভিশন-২০৩০ রূপকল্পে খালেদা জিয়া ৩৭টি বিষয়ের ওপর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথা জানান।  

হঠাৎ অভিযানে খালেদার কার্যালয় তছনছ

‘ভিশন-২০৩০’ ঘোষণার ১০ দিন পর ২০ মে খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। ‘রাষ্ট্রবিরোধী ও আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী নাশকতা সামগ্রীর খোঁজে’ এ অভিযান চালানো হয় তখন পুলিশ দাবি করে।

বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অভিযানের সময় পুরো কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ করে দেওয়া হয়। পুলিশ অনুমতি ছাড়াই কার্যালয়ে প্রধান ফটকের গেটের তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করে। অফিসের ভেতরে থাকা ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসি টিভি) ভেঙে ফেলা হয়।

লন্ডন থেকে খালেদার ফেরা নিয়ে সরকারের সংশয়

হাঁটু ও চোখের চিকিৎসার জন্য মধ্য জুলাইয়ে লন্ডন যান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত বড় ছেলে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় ওঠেন তিনি। লন্ডনে প্রায় তিন মাস অবস্থান শেষে ১৮ অক্টোবর দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া।

লন্ডনে থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন বক্তব্য দেন সরকারি দলের নেতারা। এর মধ্যে দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা কথাবার্তা শুরু হয়। তবে সব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

বিমানবন্দর-গুলশান সমাগম

সব সংশয় দূর করে প্রায় তিন মাস পর লন্ডন থেকে ১৮ অক্টোবর দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া। এদিন তাকে অভ্যর্থনা জানাতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী বিমানবন্দর থেকে গুলশানে যাওয়ার পথে পথে সমবেত হন। এ ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে বেশ আলোচিত হয়।  দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও প্রাণের সঞ্চার করে এই এই শো ডাউন।

খালেদা-সুষমা বৈঠক

চার দিন পর ২২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এই বৈঠক দলের জন্য ইতিবাচক হিসেবে নেয় নেতাকর্মীরা, ফলে তাদের মধ্যে বেশ চাঙ্গাভাব দেখা যায়। বৈঠকে বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত প্রতিবেশী বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য এবং সব দলের অংশগ্রহণ দেখতে চায় বলে জানান সুষমা স্বরাজ।

রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ওই বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এ বিষয়ে যেসব সমস্যা রয়েছে তা তুলে ধরেছেন।'

রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে ঢাকা-কক্সবাজার

সেনা নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রতি সমবেদনা জানাতে কক্সবাজারের উখিয়া যান খালেদা জিয়া। ২৮ অক্টোবর উখিয়ার উদ্দেশে ঢাকা থেকে রওনা দেন তিনি। মাঝে চট্টগ্রামে যাত্রাবিরতি দিয়ে ৩০ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়া পৌঁছান বিএনপি নেত্রী। সঙ্গে নিয়ে যান ৪৫ ট্রাক খাদ্যপণ্য।

উখিয়া যাওয়ার দিন খালেদা জিয়া গাড়ি বহরে হামলা হয়। এতে বহরে থাকা বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সাংবাদিকরা আহত হন। উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিয়ে ফেরার পথেও গাড়িবহরে হামলা হয়। ওই সময়ে রাস্তায় দাঁড়ানো দুটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ জন্য সরকারকে দায়ী করে বিএনপি।

দীর্ঘদিন পর সফরে বেরোনো খালেদা জিয়াকে দেখতে পথে পথে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে, যা বিএনপিকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

বছরের শেষে মাঠে বিএনপি

দীর্ঘদিন ঘরোয়া রাজনীতিতে সীমিত থাকা বিএনপি বছরের শেষ দিকে এসে সমাবেশের মতো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ পায়। ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ১২ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি পায় বিএনপি। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি ডিঙিয়ে ঢাকায় বিএনপির জনসভায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক জমায়েত আর উচ্ছ্বাসের চিত্র নতুন করে স্বপ্ন দেখায় দলটিকে। সমাবেশে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া এসেছে দাবি করে দলটির নীতি নির্ধারকরা জানান, এটি সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের এক ধরনের প্রতিবাদ।

এক-এগারোর পর থেকে বর্তমান সরকারের শাসনামল পর্যন্ত হামলা-মামলা-গ্রেপ্তারে নাজুক অবস্থা নেতাকর্মীদের। এই ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কর্মসূচি সার্থক করতে পেরে তারা ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে আশাবাদী হন।

ওই সমাবেশে থেকে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখে দেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হবে না জানিয়ে একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নির্বাচনকালীন সময়ে সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েন এবং বিতর্কিত ইভিএম পদ্ধতি প্রয়োগ না করার আহ্বান জানান তিনি।

ভগ্নাংশের কবলে বিএনপি জোট!

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিকদের নিয়ে প্রায়ই উভয় সংকটে পড়ে দলটি। জোটের বেশ কয়েকটি দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি হতে থাকে বছরজুড়ে। কয়েকটি দল ভেঙে দুই খণ্ড হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ বছরও জোটের দুই দল লেবার পার্টি ও জমিয়তে উলামায় ভেঙে দুই খণ্ড হয়। এর আগে যে শরিক দলগুলো ভেঙেছে তার একটি অংশ জোট থেকে বেরিয়ে গেলেও অন্য অংশকে জোটেই থাকতে দেখা গেছে। তবে এবার লেবার পার্টি ও জমিয়তে উলামায়ে দল দুটি ভেঙে গেলেও কোনো অংশই জোট থেকে বেরিয়ে যায়নি।

যাদের হারাল বিএনপি

২০১৭ সালে দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছে বিএনপি। বছরের শুরুতে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হুদা (৬৮) মারা যান। ২৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

১ আগস্ট ইন্তেকাল করেন হারুণার রশিদ খান মুন্নু। ১৯৯১ সালে মানিকগঞ্জ-২ (শিবালয়-হরিরামপুর) আসনে বিএনপি থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালেও তিনি ওই আসন থেকে এমপি হন। এরপর ২০০১ সালে একই আসনের পাশাপাশি মানিকগঞ্জ-৩ (সদর-সাটুরিয়া) আসনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুন্নু। এরপর তাকে দফতরবিহীন মন্ত্রী করা হয়।

১৯ নভেম্বর মারা যান সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. আখতার হামিদ সিদ্দীকী (৭১)। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ১০ম ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বছরের শেষ দিকে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার। ২৩ অক্টোবর দিবাগত রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এম কে আনোয়ারের বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তিনি বেশ কিছুদিন ধরে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন তাকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও অংশ নিতে দেখা যায়নি।

১৯৯০ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর এম কে আনোয়ার রাজনীতির মাঠে নামেন, যোগ দেন বিএনপিতে। কুমিল্লার হোমনা আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

এম কে আনোয়ার খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকারে দুই দফা মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

মামলা আতঙ্ক

বছর শেষে বিএনপির বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ এবং চ্যারিটাবল ট্রাস্ট মামলা। বিএনপির অভিযোগ, নির্বাচনে অযোগ্য করতে তড়িঘড়ি করে এই মামলা শেষ করে সরকার তাদের সাজা দিতে চায়। মামলা দুটির কার‌্যক্রম শেষ পর‌্যায়ে। এ রিপোর্ট লেখার সময় ( ২৮ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়ার পক্ষে পঞ্চম দিনের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আর দুদিন যুক্তিতর্কের কময় দিয়েছে আদালত।

বিএনপি নেতারা যা বলছেন

২০১৭ সালে বিএনপির সার্বিক মূল্যায়ন করতে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আন্দোলন কর্মসূচি না থাকলেও গত এক বছর স্বৈরাচারী শাসনের যাঁতাকলে আমরা চরমভাবে নিষ্পেশিত হয়েছি। কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজারে হাজারে মামলা চলছে। এটা হলো নির্যাতন-নিপীড়নের বছর। আমরা রাজনৈতিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছি।’

‘এরপরও আমরা  নিজেদের সংগঠিত করার চেষ্টা করেছি। বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর‌্যন্ত যে জনস্রোত, রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজার যাওয়ার পথের জনস্রোত, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে যে জনস্রোত দেখেছেন এটা একটা ইনডিকেশন।’- বলেন মোশাররফ হোসেন।

ব্যর্থতার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘আমরা ব্যর্থতা বলব না। যেহেতু শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছিলাম। সে কারণে দৃশ্যত বিরোধী দল হিসেবে হয়তো সব বিষয় নিয়ে মাঠে থাকার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটা আমরা পারিনি। এটার জন্যও অবশ্য সরকার দায়ী। আশা করি নতুন বছরে সকল অত্যাচার নির‌্যাতন মোকাবেলা করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারব।’

আর স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘চলতি বছরটা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের ওপর দিয়ে গেছে। অনেক জেলা ও অঙ্গসংগঠনের কমিটি দেয়া হয়েছে। আন্দোলন কর্মসূচি সেভাবে না থাকলেও মাঝে মাঝে ছোটখাটো কিছু কর্মসূচি আমরা পালন করেছি। অন্য সময়ের মত সরকারের দমন-পীড়ন থাকলেও এই সময়টাতে আমাদের নিজেদের সুসংগত করার সুযোগ হয়েছে।

আগত  বছরের প্রত্যশার কথা বলে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে বিশ্বাসী দল। আমরা বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। সেই হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হলো আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ।

(ঢাকাটাইমস/৩০ডিসেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত