প্রথম দিনেই জমে উঠেছে উন্নয়ন মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:৩৫ | প্রকাশিত : ১১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:২৭

রাজধানীতে প্রথম দিনেই জমে উঠেছে উন্নয়ন মেলা ২০১৮। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলার উদ্বোধন করার পরই লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে শিল্পকলা একাডেমি চত্বর। ঢাকা ছাড়াও দেশের জেলা-উপজেলাতেও একযোগে শুরু হয়েছে এই মেলা।

‘উন্নয়নের রোল মডেল শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ স্লোগানে এবারের মেলা আয়োজন করা হয়েছে।

শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে মেলার আয়োজন করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসন। সকালে ভিডিও কনফারেন্সের পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মেলা উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মেলা উদ্বোধনের পরই বাড়তে শুরু করে দর্শনার্থীদের সংখ্যা। মেলার প্রায় প্রতিটি স্টলেই দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে সেনাবাহিনীর স্টলে। স্থির চিত্রের মাধ্যমে সেনাবাহিনী তাদের সামগ্রিক উন্নয়ন দেখাচ্ছে স্টলে আগত দর্শনার্থীদের।

এছাড়া নৌ ও বিমানবাহিনীর স্টলেও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেনাবাহিনীর স্টলে দর্শনার্থীদের উন্নয়ন দেখাচ্ছিলেন সেনা কর্মকর্তা আনোয়ারুল আলম। আনোয়ার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘দেশের বর্তমান সরকারের আমলে আমাদের বাহিনীতে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু কী কী উন্নয়ন হয়েছে তা আমাদের দেশের অনেক মানুষই জানেন না। তাদেরকে জানানোর উদ্দেশ্যেই আমরা এবার উন্নয়ন মেলাতে স্টল দিয়েছি।’

উন্নয়ন মেলায় এই তিন বাহিনী ছাড়াও পুলিশ ও আনসার বাহিনী পৃথক পৃথক স্টল রয়েছে। সেখানে তারা তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরছেন। এছাড়াও রয়েছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের স্টল, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, জনস্বাস্থ্য প্রেকৌশল অধিদপ্তর, ঢাকা জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ঢাকা জেলা সমবায় অফিস, কৃষি মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ঢাকা জেলা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের স্টল।

ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসেছেন দশম শ্রেণির ছাত্রী আফরোজা আক্তার। মেলা প্রসঙ্গে আফরোজা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘শিল্পকলা একাডেমিতে নাকি উন্নয়ন মেলা হচ্ছে। এ মেলা সম্বন্ধে আমার কোনো ধারণা নেই। তাই ধারণা নিতে মেলায় এসেছি।’

এবারের মেলায় ৯০টিরও বেশি স্টল করা হয়েছে। সরকারি সংস্থার স্টলগুলোই এই মেলাতে বেশি রয়েছে। সরকারি সংস্থা ছাড়াও আধা-সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার স্টল রয়েছে মেলাতে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সম্পদের ব্যাপারে আগ্রহ নিয়ে কথা বলছিলেন নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী সবুজ। সবুজ জানান, ‘বিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করতে আমার অনেক ভালো লাগে। তাই বিদ্যুতের বিভিন্ন ব্যাপারে জানার জন্য আমি এই মেলাতে এসেছি। এখান থেকে আমি বিদ্যুতের ব্যাপারে এমন কিছু ধারণা পেয়েছি যা আগে জানতাম না।’

বিদ্যুৎ বিভাগের স্টলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইয়াসিন রহমান বলেন, ‘অন্যান্য স্টলের তুলনায় আমাদের স্টলে ভালোই দর্শনার্থী সমাগম হচ্ছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সম্বন্ধে তারা আমাদের কাছ থেকে ধারণা নিচ্ছেন। বিভিন্ন অভিযোগ নিয়েও আমাদের কাছে এসেছেন। এই অভিযোগের ব্যাপারে আমরা তাদের সর্বাত্মক সাহায্য করার চেষ্ট করছি।’

তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলায় আলোচনা সভা ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরা হবে। দেশবরেণ্য শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। মেলা চলাকালীন প্রতিদিন বিকালে আয়োজন করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কুইজ, আলোচনা, বিতর্ক ও রচনা প্রতিযোগিতা। তিন দিনব্যাপী চলা উন্নয়ন মেলা শেষ হবে আগামী শনিবার।

(ঢাকাটাইমস/১১জানুয়ারি/এসও/এমআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত