নতুন বছরে নতুন অধ্যায় শুরুর অপেক্ষায় টাইগাররা

সদর উদ্দীন লিমন
 | প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ০৮:৩৭

হাথুরুসিংহে অধ্যায় শেষ। এবার নতুন অধ্যায় শুরু হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। গত বছর ঘরের মাঠে মাত্র একটি সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। সিরিজটি ১-১ ড্র করেছিল টাইগাররা। ২০১৮ সালে ঘরের মাঠে টাইগাররা মোট কতটি সিরিজ খেলবে সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে, হোম সিরিজ দিয়েই নতুন বছর করতে যাচ্ছে মাশরাফি-সাকিবরা।

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের মাধ্যমে নতুন বছরের যাত্রা শুরু হবে টাইগারদের। আগামী ১৫ জানুয়ারি শুরু হবে এই সিরিজ। সোমবার সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রতিটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। আর প্রতিটি ম্যাচই শুরু হবে দুপুর বারোটায়। সিরিজে প্রতিটি ম্যাচের পর একদিন করে বিরতি রয়েছে। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৭ জানুয়ারি।

বাংলাদেশ দলে বর্তমানে স্বীকৃত কোনও প্রধান কোচ না থাকলেও বাকি সাপোর্ট স্টাফ যারা আছেন এবং দলে সিনিয়র ক্রিকেটার যারা আছেন তাদের সমন্বয়েই চলবে আসন্ন ত্রিদেশীয় ও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। স্থায়ীভাবে এখনও প্রধান কোচ নিয়োগ না হওয়ায় আপাতত ফিল্ডিং কোচ রিচার্ড হ্যালসলকে ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসাবে দায়িত্ব দিয়েছে বিসিবি।  

ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথমে একটি দল অন্য দলের বিপক্ষে দুইটি করে ম্যাচ খেলবে। তারপর পয়েন্ট টেবিলে যারা সেরা দুইয়ে থাকবে তারা ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হবে। ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে জিম্বাবুয়ে দেশে ফিরে যাবে। শ্রীলঙ্কা দল বাংলাদেশে অবস্থান করবে। কারণ, এই সিরিজির পর তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে দুইটি টেস্ট ও দুইটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে।

গত ৭ জানুয়ারি ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য ১৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পাঁচটি পরিবর্তন নিয়ে এই স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়। দল থেকে বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদ, লিটন দাস, মুমিনুল হক ও শফিউল ইসলাম। দলে ঢুকেছেন এনামুল হক বিজয়, মোহাম্মদ মিথুন, মোস্তাফিজুর রহমান, আবুল হাসান রাজু ও সানজামুল ইসলাম।

ত্রিদেশীয় সিরিজের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরেছেন এনামুল হক বিজয়। তিনি সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন ২০১৫ সালের ৫ মার্চ। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচটিতে কাঁধের ইনজুরি পেয়েছিলেন বিজয়। তারপর তার আর জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে ম্যাচ খেলা হয়নি।

এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) সেরা রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যান ছিলেন এনামুল হক বিজয়। খুলনা বিভাগের হয়ে দুইটি সেঞ্চুরি ও একটি হাফ সেঞ্চুরিতে ৬১৯ রান করেন তিনি। দুইটি সেঞ্চুরির মধ্যে তার একটি ডাবল সেঞ্চুরি রয়েছে। ২১৬ রানের দারুণ একটি ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, বারবার সুযোগ পাওয়ার পরও ভালো কিছু করতে ব্যর্থ হয়েছেন ওপেনার সৌম্য সরকার। তাই এবার দল থেকে বাদ পড়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করে আবার ফিরতে হবে তাকে।

সৌম্যের বাদ পড়া নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, ‘সৌম্যর ট্যালেন্ট নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু সে যেহেতু ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করতে পারছে না সুতরাং আমরা তাকে আপাতত দলের বাইরে রাখার চিন্তা করেছি। সে এখনও আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে আছে। আশা করি সে আবার ফর্মে ফিরবে। যেকোনও ফরম্যাটে পারফরম্যান্স সবার আগে। তাকে নিয়ে আমি আশাবাদী। ঘরোয়া ক্রিকেটে অন্যদের চেয়ে ও ভালো করবে।’

গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করে বাংলাদেশ দল। কিন্তু ওই সফরে টাইগাররা দুইটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও দুইটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে একটিতেও জয় পায়নি। মূলত এই সিরিজ চলাকালীন সময়েই বিসিবিকে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে জানিয়েছিলেন যে, তিনি আর বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করতে চান না। এরপর তিনি চূড়ান্তভাবে চলে গিয়েছেন। যোগ দিয়েছেন নিজ দেশের ক্রিকেট দলের সঙ্গে।

এই ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়েই শ্রীলঙ্কা দলের সঙ্গে প্রধান কোচ হিসাবে যাত্রা শুরু হবে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের। শ্রীলঙ্কা দলের জন্য এটা ইতিবাচক দিক হবে। বাংলাদেশের জন্য যেটা হবে নেতিবাচক। কারণ, বাংলাদেশ দল সম্পর্কে, কোন খেলোয়াড় কেমন সবই জানেন হাথুরুসিংহে। আর এই বিষয়টি মাথায় রেখেই তিনি পরিকল্পনা সাজাবেন।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৬৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ৩৯টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আর জিম্বাবুয়ে জয় পেয়েছে ২৮টিতে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টাইগাররা এখন পর্যন্ত ৪১টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে পাঁচটিতে জিতেছে ও ৩৪টিতে হেরেছে, দুইটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে।

গত বছরের মার্চ-এপ্রিলে শ্রীলঙ্কা সফর করে টাইগাররা। এই সফরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুইটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও দুইটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। তিনটি সিরিজই ১-১ ড্র হয়েছিল। টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২৫৯ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিল টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ১০০তম ম্যাচ। এই ম্যাচটিতে চার উইকেটের জয় পেয়েছিল মুশফিকুর রহিমের দল। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটিতে জয় পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। তৃতীয় ম্যাচটিতে শ্রীলঙ্কা জয় পায়। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে গেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে জয় তুলে নেয়। এই ম্যাচ খেলেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নেন বর্তমানে ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।         

ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচের জন্য ১৬ সদস্যের বাংলাদেশ স্কোয়াড

মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয়, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ মিথুন, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, আবুল হাসান রাজু, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, সানজামুল ইসলাম।

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের সময়সূচি

তারিখ

ম্যাচ

সময়

ভেন্যু

১৫-১-২০১৮

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে

দুপুর বারোটা

মিরপুর

১৭-১-২০১৮

শ্রীলঙ্কা-জিম্বাবুয়ে

দুপুর বারোটা

মিরপুর

১৯-১-২০১৭

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা

দুপুর বারোটা

মিরপুর

২১-১-২০১৮

শ্রীলঙ্কা-জিম্বাবুয়ে

দুপুর বারোটা

মিরপুর

২৩-১-২০১৮

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে

দুপুর বারোটা

মিরপুর

২৫-১-২০১৮

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা

দুপুর বারোটা

মিরপুর

২৭-১-২০১৮

ফাইনাল

দুপুর বারোটা

মিরপুর

(ঢাকাটাইমস/১২ জানুয়ারি/এসইউএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত