ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে যত আগ্রহী

বোরহান উদ্দিন ও জহির রায়হান
| আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:১৫ | প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:৩৭

আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচনে তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম উঠে আসছে নানা মাধ্যমে। তবে দু-একজন ছাড়া নির্বাচনী মাঠে এখনো সরব হননি কেউ। আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।

২৬ ফেব্রুয়ারিকে ভোটের দিন নির্ধারণ করে ইতিমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ১৮ জানুয়ারি পর‌্যন্ত মনোনয়ন কেনা ও জমা দেয়া যাবে।

যে কজন সম্ভাব্য প্রার্থী আগেভাগেই মাঠে নেমে পড়েছেন তাদের মধ্যে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চান এমন ব্যক্তিরা। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন দলীয় সমর্থন আদায় করতে জোরেশোরে প্রচারণা চালাতে মাঠে নামছেন।

শিগগিরই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দলীয় মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে বলে জানানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগ থেকে আগ্রহী যারা

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্যবসায়ী নেতা বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সবুজ সংকেত’ পেয়েছেন দাবি করে  গণসংযোগ করছেন বেশ আগে থেকে। প্রতিনিয়ত ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন পয়েন্টে গণসংযোগ আর উঠান বৈঠক করে চলেছেন তিনি ।

যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাষ্যমতে  ডিএনসিসি নির্বাচনে দলের প্রার্থী এখনো নিশ্চিত হয়নি, কিন্তু আতিকুল ইসলাম ছাড়া আর কাউকে মাঠের নির্বাচনী গণসংযোগে দেখা যাচ্ছে না।

তবে দলে ও দলের বাইরে সম্ভাব্য অনেক প্রার্থীর নাম আসছে সামনে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা ড. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর তাঁতি লীগের প্রধান উপদেষ্টা ও হক গ্রুপের কর্ণধার আদম তমিজি হক।  

দলের মূল্যায়ন পাওয়ার প্রত্যাশা করে আহমেদ মেহেদী বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার অন্যতম আইনজীবী। ঢাকা আইনজীবী সমিতি ও সুপ্রিম কোর্ট বার আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।’

ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন স্থানে মেহেদীর ছবি দিয়ে পোস্টার শোভা পাচ্ছে কয়েক দিন ধরে।

বেশ কিছু দিন ধরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে নানাভাবে গণসংযোগ করছেন আদম তমিজি হক। ‘আদম তমিজি হককে মেয়র হিসেবে দেখতে চাই’লেখা ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। সেই সঙ্গে চলছে তার ডিজিটাল প্রচারণাও। আদম তমিজি ফ্যান ক্লাবের সদস্যরা তার নাম সম্বলিত টিশার্ট গায়ে জড়িয়ে এই প্রচারণা চালাচ্ছেন ও লিফলেট বিতরণ করছেন ঢাকা উত্তরে।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চান দলের উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক রাসেল আশেকী। তিনি ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলের মিডিয়া কমিটিতে কাজ করেছেন বলে জানা গেছে। ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন স্থানে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মেয়র পদে নির্বাচনে আগ্রহের সংবাদ চোখে পড়ছে।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহতমউল্লাহ, মিরপুরের এমপি কামাল আহমেদ মজুমদার, বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ডিএনসিসির প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গণি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে শোনা গেছে। তবে তাদের পক্ষে তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা এখনো দেখা যায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও নিউজ টুডের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. জোবায়ের আলমও ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে নির্বাচন করতে চান। মেয়র হলে ঢাকা উত্তরকে আধুনিক শহরে পরিণত করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি।

মাঠে তার প্রচার-প্রচারণা সেভাবে চোখে না পড়লেও জোবায়েরের ফেসবুক ওয়ালে ঢুঁ মেরে নির্বাচনে নিজের আগ্রহের কথা দেখা গেছে।

বিএনপির কেউ এখনো মাঠে নেই

আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনিই দলের সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে এখন পর‌্যন্ত তার প্রকাশ্য প্রচার-প্রচারণা দেখা যায়নি।

বিএনপি থেকে বলা হয়েছে, শনিবার তাদের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

এর বাইরে বিএনপি থেকে মেয়র পদে লড়তে চান সাবেক এমপি মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম এবং বিএনপির সহ-প্রকাশনা সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ। শাকিল ওয়াহেদের ছবি দিয়ে নয়াপল্টনসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পোস্টার শোভা পাচ্ছে।

ঢাকা উত্তর বিএনপির সভাপতি এম এ কাইয়ুমকেও মেয়র পদে দেখতে চান দলের নেতাকর্মীরা। কাইয়ুমের নামে পোস্টারও রাজধানীতে দেখা গেছে। মামলা মাথায় নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন।

গুলশান এলাকা থেকে চারবার নির্বাচিত এমপি মেজর (অব.) কামরুল ইসলামও মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী। উত্তর সিটিতে বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কামরুলের যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

নিবন্ধন না থাকলেও প্রার্থী ঠিক করেছে জামায়াত

নিবন্ধন না থাকলেও ২০ দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সেলিম উদ্দিনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে জোটের শরিকদের মধ্যে কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ  করেছেন।

জামায়াত বলছে, এটা তাদের অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত। জোটপ্রধান বেগম খালেদা জিয়া যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটা তারা মেনে নেবে। প্রার্থী নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না জোটে।

সিপিবি, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও এনডিএম

ডিএনসিসি উপনির্বাচনে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতনকে মনোনয়ন দিচ্ছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী রতন ২০১৫ সালের ডিএনসিসি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। ওই বছর তিনি হাতি মার্কা নিয়ে দুই হাজার ৪৭৫ ভোট পান। সেবার তিনি ‘সবার জন্য বাসযোগ্য ঢাকা আন্দোলন’-এর ব্যানারে প্রার্থি হয়েছিলেন। সিপিবি ও বাসদ সমর্থিত ছিলেন ক্বাফী রতন।

দল তাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছে বলে জানান আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন। তার ভাষ্য, ‘দলীয়ভাবে প্রার্থী হতে প্রস্তুতি নিতে আমাকে বলা হয়েছে। গত নির্বাচনেও আমি প্রার্থী হয়েছি। আশা করি এবারও প্রার্থী হব।’

চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হচ্ছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। ২০১৫ সালের সিটি নির্বাচনে তিনি দলের পক্ষে প্রার্থী হয়ে প্রায় ১৮ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।

ইসলামী ঐক্যজোট গত রবিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দলের এক সমাবেশে প্রার্থী ঘোষণা করে। দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা গাজী ইয়াকুবকে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা দেন মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) মনোনীত মেয়র প্রার্থী হলেন গায়ক শাফিন আহমেদ। রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে সচেতন তরুণ সমাজ আয়োজিত এক প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ উদ্বোধন করে জনপ্রিয় এ গায়ক প্রচারণায় নামেন।

গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকিও মেয়র পদে নির্বাচন করতে চান বলে জানা গেছে। গত নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে ভোটের দিন বেলা ১২টার দিকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য

ডিএনসিসি মেয়র পদে উপনির্বাচন আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১৮ জানুয়ারি। আর মনোনয়নপত্র বাছাই ২১ ও ২২ জানুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ জানুয়ারি।

একই দিনে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবগঠিত ৩৬টি সাধারণ ও ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হবে।

(ঢাকাটাইমস/১২জানুয়ারি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত