অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত ফরিদপুর

মফিজুর রহমান শিপন, ফরিদপুর
| আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:১৫ | প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:০৭

শীত এলেই যেন প্রাণ ফিরে পায় আকোইনভাটপাড়া গ্রাম। দূর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসা অতিথি পাখির বিচরণে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো গ্রামটি। অতিথি পাখি দেখতে ভিড় করে পাখিপ্রেমীসহ সব বয়সের দর্শনার্থীরা। তাই অতিথি পাখি নিধন রোধ এবং অতিথি পাখিদের বিচরণের জন্য অভয়ারণ্যের সৃষ্টি করার দাবি এলাকাবাসীর। কিন্তু নির্বাক বনবিভাগ।

ফরিদপুর শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কৈজুরী ইউনিয়নের আকোইনভাটপাড়া গ্রামে গত কয়েক বছর ধরে শীতের শুরুতেই অতিথি পাখির আগমন ঘটে। অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে আকোইনভাটপাড়া গ্রাম। পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে ওই গ্রামের মানুষের।

শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে শীতের শুরুতেই উত্তরের শীতপ্রধান দেশ সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া ও নেপাল থেকে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল বাংলাদেশে চলে আসে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখিরা। অতিথি পাখিরা অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকে আসে। আর শীত চলে গেলে পাখিরা তাদের নিজ গন্তব্যে ফিরে যায় বলে জানিয়েছে ফরিদপুর বনবিভাগ।

ফরিদপুরের পাখি ও প্রকৃতিপ্রেমিক (পরিবেশবাদী) অ্যাড. গাজী শাহিদুজ্জামান লিটন জানান, পৃথিবীতে এমন কোন প্রাণি নেই যার কোন গুরুত্ব নেই, তেমনি পাখিও প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাণি। পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না- এরা অন্যান্য প্রাণির উপকারেও আসে। প্রকৃতির বনায়ন সৃষ্টিতে পাখি পৃথিবীর ঊষালগ্ন থেকে কাজ করে যাচ্ছে। প্রকৃতি বান্ধব এইসব পাখি শুধু নিজেরা বাঁচতে আসে না। এরা জলজ পোকা, ইদুর, কখনো কখনো ধানের পোকা খেয়ে কৃষকের উপকার করে থাকে। পাখি মানুষের পরমবন্ধু।

আকোইনভাটপাড়া গ্রামে বাসিন্দা ফাতেমা পারভীন বলেন, পাখির ডাকে ভোর হয় আবার পাখির কলকাকলিতে পৃথিবীর বুকে সন্ধ্যা নামে। আর সে জন্যই অতিথি পাখিদের বিচরণের জন্য অভয়ারণ্যের সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

একই কথা বলেন আরেক প্রতিবেশী ফরিদ হোসেন মোল্লা। তিনি বলেন, রোজ ভোরে পাখির ডাকে আমাদের ঘুম ভাঙে। পাখির কারণেই এই গ্রামের পরিচিতি পেয়েছে। অতিথি পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। আমরা চাই বন বিভাগ অতিথি পাখি বসবাসের জন্য নিরাপদ অভয়ারণ্য সৃষ্টি করবে।

ফরিদপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. এনামুল হক ভূঁইয়া জানান, আকোইনভাটপাড়ায় অতিথি পাখির সমাগম হয়েছে। ওই এলাকায় পাখির পর্যাপ্ত খাবারও রয়েছে। পাখিগুলোকে যাতে জনগণ ডিস্টাব না করে, সে জন্য ওই এলাকার জনগণকে সচেতন করেছি। আমরা ইতোমধ্যেই সাইনবোর্ড স্থাপন করেছি সতর্কিকরণ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে। যাতে পাখিগুলোকে কেউ ডিস্টাব বা না মারে। তাছাড়া ওই এলাকায় নিয়মিত টহল এর ও ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের তৎপরতা অব্যহত থাকবে।

(ঢাকাটাইমস/১২জানুয়ারি/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত