নির্বাচনকালীন সরকারও তো সংবিধানে নেই: মওদুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৩৭ | প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৫:২৯

সংবিধান অনুযায়ী ভোটের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি সংবিধানে নেই বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী বিএনপির নির্বাচনকালীন নির্দলীয় দাবি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতেই এই কৌশল নিয়েছন।

সরকারের চার বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর দিন শনিবার রাজধানীতে ‘ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট’ নামে একটি সংগঠনের আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ এ কথা বলেন।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী গতকাল (শুক্রবার) তার ভাষণে বলেছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে একটি সরকার গঠন করা হবে। কিন্তু নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য কোনো সরকার গঠনের করার কোনো ব্যবস্থা এই সংবিধানে নাই।’

‘এ কথাটা বলে তিনি জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। মূল কথা হলো যে, এই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, সেটাই তিনি বলার চেষ্টা করেছেন।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি।

নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়ার পর উচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক ঘোষণার পর এই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। আর এর বদলে ভোটের আগে সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল সব দলকে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বিএনপি সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

গত দুই বছর ধরে বিএনপি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের বদলে সহায়ক সরকারের দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে এই সরকারের রূপরেখা তারা দিতে পারেনি আর সম্প্রতি আবারও পুরনো দাবিতে ফিরে গেছে তারা। 

তবে প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, সংবিধানের বিধানের বাইরে যাবেন না তিনি।

মওদুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে যদি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা দিতেন আমরাও বাহবা দিতাম। কাজেই তার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ জনগণের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেননি।’

‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে গণতন্ত্রের সংকটের ও দেশের সত্যিকারের সংকটের চিত্র ছিল না।’

‘মাজদার হোসেন মামলার রায়ের মাধ্যমে বিচারবিভাগ পৃথকীকরণের মৃত্যু হয়েছে, তা বলেননি। দেশের গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই তাও বলেননি। বর্তমান সংসদে অনির্বাচিত সংসদ সদস্য বেশি। কী করে তারা নির্বাচিত হলেন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তা বলতেও ভুলে গেছেন।’

বৃহস্পতিবার সংসকে কোরাম সংকট হওয়ায় সমালোচনা করেন মওদুদ। বলেন, ‘বর্তমান সংসদের প্রায় সব সদস্যই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের। তারপরও কোরাম (৬০ সদস্য) সংকট হয়। কীভাবে তিনি সংসদ চালান, ভাষণে তা বলেননি।’

সারাদেশে চলমান উন্নয়ন মেলার বিষয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ‘এটাআসলে দুর্নীতি মেলা। কেন না সরকার সব বড় বড় প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। আর বড় বড় প্রকল্প মানে বেশি বেশি দুর্নীতি। বড় বড় প্রকল্প মানে বেশি বেশি ঘুষ। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে।’

বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে অভিযোগ করে মওদুদ বলেন, ‘ছাত্রলীগ-যুবলীগের টেন্ডারবাজী, বাজার দখল, দোকান দখল, ধর্ষণ, গুম, খুনের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে উঠে আসেনি।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও এলডিপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে আলোচনায় বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান সারোয়ার, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, খালেদা ইয়াসমিন, ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনডিপি নেতা মঞ্জুর হোসেন ঈসা, প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

(ঢাকাটাইমস/১৩জানুয়ারি/বিইউ/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত