এবার ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হতে রিপনের দৌড়ঝাপ

বোরহান উদ্দিন,ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:৫৬ | প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৩৭

২০১৫ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছিলেন বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপন। এবার তিনি চাইছেন ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হতে।

আড়াই বছর আগের ভোটে রিপনের বদলে বিএনপি ঢাকা দক্ষিণে সমর্থন দিয়েছিল মির্জা আব্বাসকে। আর এ কারণে শেষমেশ আর প্রচারে থাকেননি রিপন। তবে যথা সময়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় ব্যালটে তার নাম রয়ে যায়।

সে সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ভোটার থাকা রিপন এবার ভোটার হয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায়। স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী নির্বাচনী এলাকায় ভোটার না হলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায় না। কিন্তু রিপন বাসা পাল্টে এখন ভোটার হিসেবে ঢাকা উত্তরে ভোটের লড়াইয়ে নামার আইনি যোগ্যতা আছে। 

ভোটের লড়াইয়ে নামতে এরই মধ্যে নিজের আগ্রহের কথা দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জানিয়েছেন রিপন। ঢাকাটাইমসকে এ কথা নিজেই নিশ্চিত করেছেন তিনি।

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির ভোটকে সামনে রেখে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে আগামী ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। আর বিএনপি তার প্রার্থী ঠিক করতে আজ রাতেই বৈঠকে বসতে যাচ্ছে।

রিপন বলেন, ‘আমি ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে চেয়ারপারসনকে আমার আগ্রহের কথা জানিয়েছি। এখন দল সিদ্ধান্ত নেবে। আশা করি, দল আমার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে।’

এবারের নির্বাচনেও ২০১৫ সালের মতোই তাবিথ আউয়ালকে বিএনপি প্রার্থী করতে যাচ্ছে বলে প্রচার আছে বিএনপিতে। তবে তার বাইরেও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কামরুল ইসলাম, শরিক দল বিজেপির নেতা আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং সবশেষ আসাদুজ্জামান রিপন হঠাৎ আগ্রহ প্রকাশ করায় বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্তের বিষয়টি দেরি হতে পারে জানিয়েছেন দলের নেতারা।

তাবিথ আউয়াল এখনও জনসংযোগ শুরু না করলেও তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলের সিদ্ধান্ত পেলেই মাঠে নামবেন বলে গণমাধ্যমকে বলেছেন এই তরুণ রাজনীতিক।

তবে তাবিথের জন্য একটি একটি আক্রমণ অপেক্ষা করছে। সম্প্রতি ফাঁস হয়ে যাওয়া ‘কর কেলেঙ্কারি’ প্যারাডাইস পেপারসে বাবা আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাবিথ আউয়ালের নামও আছে। অর্থপাচার নিয়ে দেশে তোলপাড় চলার সময় এতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠা তাবিথকে বিএনপি প্রার্থী করে কি না, এ নিয়ে নানা গুঞ্জনও আছে।

ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আসাদুজ্জামান রিপন দলের সংকটকালীন সময়ে দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কূটনৈতিক অঙ্গনেও তার যোগাযোগ রয়েছে বেশ। দলে স্বচ্ছ নেতা হিসেবেও মোটামুটি গ্রহণযোগ্যতা আছে। যে কারণে তিনি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

রিপন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘যখন ঢাকা অবিভক্ত ছিল তখনও আমি মেয়র পদে আগ্রহী ছিলাম। পরে যখন দুই ভাগ করা হলো তখন আমাকে প্রার্থী করা হলেও অলটারনেটিভ হিসেবে রাখা হয়েছি। সেই অর্থে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন করা হয়নি। এবার দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব। আর যেহেতু দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে তাই আশা করে দল মনোনয়ন দিলে বিজয়ী হতে পারব।’

এক প্রশ্নে রিপন বলেন, ‘আমার বাসা বদল হয়ে গেছে। আর নিয়ম জেনেই আমি প্রার্থী হতে চেয়েছি। আমার নগর উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা। তাই দল প্রার্থী করলে সেই লালিত স্বপ্ন ছিল বাস্তবায়ন করতে পারব।’

‘দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে আশা করি বিজয়ী হতে পারব। সেক্ষেত্রে অবশ্যই ঢাকাকে বদলে দেয়া সম্ভব হবে।’

‘তবে এটাও সত্য সরকার সহযোগিতা না করলে মেয়রের পক্ষে অনেক কাজ করা সম্ভব না। তারপরও মেয়র হলে কে ক্ষমতায় আছে সেটা নয়, সরকার মেয়রকে সহযোগিতা করবে সেই প্রত্যাশা করব।’

ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী-জানতে চাইলে রিপন বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের মধ্যস্ততায় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের মুখাপেক্ষী না হয়ে গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের সন্তানদের জন্য উন্নত শিক্ষার ব্যবস্থা করা, পরিকল্পিত নগরী তৈরি করা, কর ব্যবস্থাপনায় ধনী ও গরিবের মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করব।’

তবে দল থেকে অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে তার পক্ষে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন আসাদুজ্জামান রিপন।

ঢাকাটাইমস/১৩জানুয়ারি/বিইউ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত