হারিয়ে যাচ্ছে ঘানি, ভেজাল সরিষার তেলে বাজার সয়লাব

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর
 | প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১৫:০০

দিনাজপুরে কৃত্রিম সরিষার তেল বাজার সয়লাব। এদিকে হারিয়ে যাচ্ছে কুলু সম্প্রদায়, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাদের ঘানি। সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে ঘানিতে ভাঙা খাঁটি সরিষার তেল।

ফলে খাঁটি সরিষা তেলের স্বাদ আর পাচ্ছে না মানুষ। আগে দিনরাত গরু দিয়ে কাঠের ঘানির সাহায্যে ফোটায় ফোটায় নিংড়ানো খাঁটি সরিষার তেল দিনাজপুরের বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে মাটির হাড়িতে ফেরি করে এবং হাট-বাজারেও এই তেল বিক্রি করা হতো। এ তেল বিক্রি করেই জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন এক শ্রেণির কুলু সম্প্রদায়। দিনাজপুরের বিরল নারাবাড়ী বুনিয়াদপুর গ্রামটি ছিল ঘানিতে টানা কুলুর সরিষা তেলের জন্য ঐতিহ্য। কিন্তু দিন বদলের সাথে সাথে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান। আর নতুন প্রযুক্তিযুক্ত হয়েছে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে। কলু সম্প্রদায়ও এর প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারেনি।

এখন কাঠের ঘানির পরিবর্তে প্রযুক্তির আশীর্বাদে লোহার ঘানিতে ভাঙা হচ্ছে সরিষার সাথে বিভিন্ন দ্রব্যাদি। ইলেকট্রিক মোটরে লোহার এ ঘানিগুলোতে কেবল সরিষায় নয় তিল, তিশি, পাম ও সয়াবিন ভাঙা হয়।

তবে কোন কোন লোহার মেশিনে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা সরিষার সাথে চালের গুড়া, পিয়াজ, শুকনা মরিচসহ অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রণে ভেজাল সরিষার তেল উৎপাদন করছে। ভেজাল এ কৃত্রিম তেল দখল করেছে তেলের বাজার। কৃত্রিম তেল তারা কম দামে বিক্রি করতে পারলেও কাঠের ঘানিতে কুলু সম্প্রদায় দিন-রাত পরিশ্রম করে যে খাঁটি সরিষার তেল উৎপাদন করতেন, তা কম দামে বিক্রি করতে পারতেন না তারা। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছেন না কুলু সম্প্রদায়। এখন কুলু সম্প্রদায় কর্মহীন বেকার এবং বিলুপ্তপ্রায়। তবে তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা সাহা পদবী ব্যবহার করে থাকেন। সাহা পদবী ব্যবহারকারী লোকজন এখনও কুলু সম্প্রদায় বলে পরিচিত।

জেলার বিরল নারাবাড়ী বুনিয়াদপুর গ্রামে ৩/৪ জায়গায় ও সুজাপুর, তেতুলিয়া, স্বজনপুকুর, মাদিলা, হড়হড়িয়াপাড়া, শিবনগরসহ বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় কুলু সম্প্রদায়ের লোকেরা কাঠের ঘানিতে তেল উৎপাদন করতেন। কিন্তু কৃত্রিম সরিষার তেল বাজার দখল করায় তারা এ ব্যবসা বাদ দিয়ে বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন।

কাঁটাবাড়ী গ্রামের নন্দলাল সাহা বলেন, আমার বাপ-দাদার মূল ব্যবসাই ছিল কাঠের ঘানিতে সরিষার তেল উৎপাদন করা। বর্তমান সময়ে এ তেলের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন করে পুষিয়ে ওঠা কঠিন। তাই আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা তেল মাড়াই করছি।

টুনটুন সাহা বলেন, আগে আমি বাবার সাথে কাঠের ঘানি দিয়ে তেল উৎপাদন করে বাজার বিক্রি করতাম। সময় পাল্টে গেছে এখন, এ পেশায় তেমন আর আয় হয় না। তাই কুলুর পেশা ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছি।

(ঢাকাটাইমস/১৪জানুয়ারি/নিজস্ব প্রতিবেদক/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত