সিপিডির প্রতিবেদনে অবাক তোফায়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:৩৪

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে অবাক হয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বলেছেন, ‘সিপিডির বক্তব্য আমাকে অবাক করেছে। তারা সঠিক কথা বলেনি। সত্যিই তাদের কথা অবাক করার মতো। আমি তাদের কথায় ব্যথিত। কীভাবে তারা এমন বক্তব্য দেন, তাদের এটা কী ধরনের গবেষণা?’

রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে সভাকক্ষে সিপিডির গবেষণা সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা তুলে ধরতে শনিবার রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করে সিপিডি। এতে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ২০১৭ সালকে ব্যাংক কেলেঙ্কারির বছর আখ্যা দেন। বলেন, ‘ব্যাংক অস্থিতিশীলতা নিরসনে কোনো পদক্ষেপ ২০১৮-তে হবে সেটাও আমরা কোনো কিছু লক্ষণ দেখতে পারছি না।’

একই সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে ধনী-গরিবের বৈষম্য বাড়ছে। গরিবের আয় কমলেও ধনীর আয় বাড়ছে।

সিপিডির গবেষণা অনুযায়ী ২০০৫ সালে সবচেয়ে গরিব পরিবারে খানাপ্রতি (একক বাড়িতে আয়) আয় ছিল ছিল ১১০৯ টাকা, যা কমে ২০১৬ সালে ৭৩৩ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে ধনী পাঁচ শতাংশের খানা প্রতি আয় ৩৮ হাজার ৭৯৫ থেকে ৮৮ হাজার ৯৪১ টাকা হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘সিপিডি একটা গবেষণা প্রতিষ্ঠান, তারা একটা গবেষণা প্রচার করেছে। গতকাল যেটা তারা বলেছে এটা যদি গবেষণারই ফল হয় তাহলে আমি সত্যিকার অর্থে দুঃখিত, ব্যথিত এবং মর্মাহত। কারণ যে মুহূর্তে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সব ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে। নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন যেখানে বলেছেন, সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান থেকে এগিয়ে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারত থেকেও এগিয়ে। সেই সময় সিপিডির এমন গবেষণা বক্তব্য ফলাও করে প্রচার করা দূরভিসন্ধিমূলক।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সিপিডির কথা যেভাবে সাংবাদিক ভাইয়েরা প্রচার করলেন পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা। সেখানে কিন্তু আমাদের কথা এতো বিস্তারিত আসে না। তারপরও আপনারা আমাদের বন্ধু। যতটুকু আসে আমাদের বিষয়ে গণমাধ্যমে তাতেই আমরা খুশি। জীবনে অনেক প্রচার প্রোপাগান্ডা পেয়েছি, এগুলো আর প্রয়োজন নাই।’

তোফায়েল বলেন, ‘এবছর নির্বাচনের বছর বলেই সিপিডি নেগেটিভ কথাগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরেছে। তারা এতবড় সাংবাদিক সম্মেলনে বর্তমান সরকারের একটা ভালো কথাও বলল না কেন? একটা ভালো কাজও কি আমরা করিনি? দেশের অর্থায়নে পদ্মা ব্রিজ করছি না? দেশের ৮৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা পায়। এসব কাজ তাদের কাছে প্রসংশিত হবে না?’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট কৌশিক বসু বলেছেন বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি বিশ্বের অনেক দেশের চেয়েও ভালো। সিপিডির গবেষণা কি তাদের থেকে বড়? যেখানে বাংলাদেশকে বলা হয় সেকেন্ড ফাস্টেট ডেভেলপমেন্ট কান্ট্রি।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘মনে রাখবেন সিপিডির এই সংবাদ সম্মেলন কখন করা হলো? যখন প্রধানমন্ত্রী আমাদের সরকারের চার বছরের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলেছেন ঠিক তার পরের দিনই তারা এই ধরনের কথাবার্তা বলল। আসলে তাদের উদ্দেশ্য কী তা বোঝা যাচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সিপিডির বক্তব্য অনুযায়ী গতবছর অর্থনৈতিকভাবে ভালো যায়নি। এটা সঠিক নয়। গত ২০১৩ ও ১৪ সালে বিএনপি নৈরাজ্য করেছে। এরপর গত দুই বছর ভালো উন্নয়ন হয়েছে। দেশ এগিয়ে গেছে। সিপিডির বক্তব্যে কোনো পজেটিভ কথা ছিল না। তারা প্রত্যেকটি কথার মাঝে নেগেটিভ কথাই বলেছে। এটা সঠিক নয়।’

(ঢাকাটাইমস/১৪জানুয়ারি/এমএম/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত