তাবিথের প্রতিদ্বন্দ্বী ‘হচ্ছেন’ আতিকুলই

প্রকাশ | ১৬ জানুয়ারি ২০১৮, ০৮:০০ | আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১৩:০৯

তানিম আহমেদ, ঢাকাটাইমস

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির তাবিথ আউয়ালকে মোকাবেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার দৌঁড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত আতিকুল হক।

আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী বাছাই করবে আওয়ামী লীগ। পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল অবশ্য অনেক আগে থেকেই ‘সবুজ সংকেত পেয়ে’ নির্বাচনের মাঠে। তারপরও ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারি আরও ১৭ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী কিনেছেন দলের মনোনয়ন ফরম।

এদের মধ্য থেকে প্রার্থী বাছাই করতে আজ সন্ধ্যা সাতটায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে বৈঠক হবে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের।

আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একজন নেতা ঢাকাটাইমসকে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যাকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন, তিনিই দলের এক নম্বর চয়েজ। কোনো মিরাকল না ঘটলে তিনিই হবেন আমাদের প্রার্থী।’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে আতিকুল ছাড়া যারা মনোনয়ন ফরম কিনেছেন তাদের মধ্যে বড় ও পরিচিত মুখ কোনো রাজনীতিবিদ নেই। তবে আলোচিত কয়েকজন আছেন। এদের মধ্যে আছেন ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এইচ বি এম ইকবাল এবং সম্প্রতি প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার চালানো ব্যবসায়ী আদম তমিজি হক।

মনোনয়ন ফরম কেনা বাকি ১৫ জনের মধ্যে আলোচিত বা পরিচিত মুখ নেই। ফলে এদের কেউ বিবেচনায় থাকবেন না-এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

আর পরিচিত মুখ হিসেবে আতিকুল ছাড়া যে দুই জন ফরম কিনেছেন তাদের মধ্যে এইচ বি এম ইকবাল সংসদ সদস্য থাকাকালে সমালোচিত হয়েছিলেন একটি ঘটনায়। বিএনপির হরতালের প্রতিবাদে ইকবালের নেতৃত্বে মিছিল থেকে গুলি করার ঘটনায় বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী হতাহত হয়েছিলেন। আর ২০০১ সালের নির্বাচনে ইকবাল বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তাকে প্রার্থীই করেনি।

আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, ‘ইকবাল সাহেবকে প্রার্থী করা হলে সেই মিছিল থেকে ছোড়া গুলির ছবি দিয়েই তাকে বেকায়দায় ফেলে দেবে।’

 

আর আদম তমিজি হক ফেসবুকে গ্রুপ তৈরি করে আলোড়ন তৈরি হলেও তার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার মতো পরিপক্কতা হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় ওই নেতা। তিনি বলেন, ‘ফলে আতিকুলের আর কোনো বিকল্প আমি দেখছি না।’

আবার আতিকুল সোমবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার সময় তার সঙ্গে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সালমান এফ রহমান। এটাও তার প্রার্থিতার বিষয়ে একটা ইঙ্গিত বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

অপরিচিত মুখদের ঢাকার মেয়র হওয়ার বাসনায় মনোনয়ন ফরম কেনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের ওই নেতা বলেন, ‘এদের বেশ কয়েকজন নেতা হিসেবে উঠে আসার চেষ্টা করছেন। তাদের জন্য মনোনয়ন ফরমের ২৫ হাজার টাকা হয়ত ব্যাপার না। কিন্তু এই টাকা খরচ করে তারা মনোনয়ন বোর্ডে শেখ হাসিনার কাছাকাছি আসতে পারবেন, এজন্যই হয়ত তারা ফরম কিনেছেন।’

মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে ফাঁকা হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশমে মেয়র পরে উপনির্বাচনের আলোচনা তৈরির পর থেকে দুই দলের দুই সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগে আতিকুল ইসলাম এবং বিএনপিতে তাবিথ আউয়ালকে ঘিরেই আলোচনা শুরু হয়। এদের মধ্যে সোমবার রাতে তাবিথকে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই আতিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায় থেকে সংকেত পাওয়ার কথা জানিয়ে ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেন। প্রথমে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিষয়টি স্বীকার না করে ভোটের আগে প্রার্থীর বাজার যাচাইয়ের উদাহরণ টানেন। পরে আবার একজনকে ডেকে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন বলে জানান গণমাধ্যম কর্মীদের।

সবশেষ সম্প্রতি ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আতিকুলকে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন, কিন্তু তাকে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।’

যারা মনোনয়ন ফরম কিনেছেন

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রির প্রথম দিন শনিবার ফরম কেনেন আতিকুল ইসলাম, এইচ বি এম ইকবাল, কবি রাসেল আশিকী, আদম তমিজি হক, মণিপুর স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন, শিক্ষক শাহ আলম, এফবিসিসিআই এর পরিচালক হেলাল উদ্দিন ও  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবায়ের আলম।

দ্বিতীয় দিন সংগ্রহ করে আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী, তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান, ব্যবসায়ী আবেদ মনসুর, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ইয়াদ আলী ফকির ও যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবুল বাশার।

শেষদিন সোমবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র ওসমান গণি, জামান ভূঞা, আসমা জেরিন ঝুমু, যুবলীগ নেতা শাহীন হন, যুব মহিলা লীগ জেবিন সুলতানা কান্তা মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

প্রার্থী ঘোষণার আগে এদের সবার সাক্ষাৎকার নেবে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড।

আনিসুল হকের মৃত্যুতে ফাঁকা হওয়া ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদ পূরণে ভোটের লড়াইয়ে দাঁড়াতে হলে প্রার্থিতা জমা দেয়ার শেষ সময় ১৮ জানুয়ারি।

ঢাকাটাইমস/১৫জানুয়ারি/টিএ/ডব্লিউবি