শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সেলিম ওসমানের মাইকিং

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:৫৭ | প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:৪৭

হকার উচ্ছেদ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে সংঘর্ষের পর সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছেন সদর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। তিনি শামীম ওসমানের ভাই।

শহরে হকার উচ্ছেদের  ঘটনা নিযে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত দু:খজনক’ আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির এই সংসদ সদস্য।

ডিসেম্বরের শেষ দিকে শহরের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করে সিটি করপোরেশন। কিন্তু ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সোমবার মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীকে তিনি ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আজ মঙ্গলবার বিকাল চারটার পর থেকে হকার বসানোর ঘোষণা দেন।

কিন্তু পিছু হটেননি আইভী। কয়েক হাজার নেতা-কর্মীকে নিয়ে তিনি বিকালে মিছিলকরেন শহরে। আর এ সময় শামীম ওসমানের সমর্থক এবং হকারদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।

এই ঘটনায় শামীম ওসমান ও আইভী একে অপরকে দায়ী করেছেন। অভিযোগ করেছেন বিনা উস্কানিতে হামলার। 

ক্ষমতাসীন দলের দুই পক্ষের এই লড়াইয়ে নগর জুড়ে যখন উদ্বেগ তখন সেলিম ওসমানের পক্ষ থেকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে শহরে মাইকিং করা হয়।

সেলিম ওসমান বর্তমানে ব্যবসায়িক কাজে বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করছেন। শহরে সংঘর্ষের খরব পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। পাশাপাশি মাইকিং করান।

সেলিম ওসমান কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গেও। তিনি বলেন, ‘শহরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে সাধারণ জনগণের নিরাপত্তাহানি হয়েছে।’

সেলিম বলেন, ‘আলোচনা ছাড়া এ বিষয়টি সমাধানের অন্য কোনো পথ নাই। শহরের মানুষ যাতে কোন অবস্থায় আবারো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে না পড়েন তার জন্য সকলকে শহরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি।’

‘সেই সাথে সকল জনপ্রতিনিধিকে অনুরোধ জানাচ্ছি কেউ যেন বিষয়টি নিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সেদিকে আপনারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সজাগ দৃষ্টি রাখবেন।’

সেলিম ওসমান জানান, দুই একদিনের মধ্যে তিনি দেশে ফিরবেন। এরপর মেয়র আইভী ছাড়াও জেলার অন্য সংসদ সদস্যদের সাথে নিয়েও বিষয়টি সমাধান করার উদ্যোগ নেবেন তিনি।

ভাই শামীম ওসমানের মতোই সেলিমও হকারদেরকে ‘সুযোগ’ দেয়ার পক্ষে। তিনি বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি তাদের শীতের কাপড় বিক্রি করার জন্য আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেন সিটি করপোরেশনের মেয়র একটি সুব্যবস্থা করে দেন।’

‘মেয়রকে প্রেরিত চিঠি এবং পরবর্তীতে মিডিয়ার মাধ্যমে আমি কয়েকটি স্থানের কথা উল্লেখ করেছি তারা কোথায় বসে মালামাল বিক্রি করতে পারে। ওই স্থানগুলোতে যদি হকাররা মালামাল বিক্রি করতে চায় তাহলে তারা সেটি করতে পারে। অন্যথায় অপেক্ষা করা ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই।’

সেলিম ওসমান জানান, তিনি নগর ভবনের সামনে বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে অথবা চাষাঢ়া জিয়া হলের সামনে বাউন্ডারির ভেতরে হকারদের বসতে দেয়ার পক্ষে।

ঢাকাটাইমস/১৬জানুয়ারি/প্রতিনিধি/জেবি/ডব্লিউবি

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত