গৃহবধূকে আবার ‘তুলে নেয়ার’ অভিযোগ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে

ইফতেখার রায়হান, টঙ্গী (গাজীপুর)
 | প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:১৬

গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে দ্বিতীয়বারের মতো বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

সর্বশেষ সোমবার রাতে টঙ্গীর মরকুন কবরস্থান এলাকার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর ওই গৃহবধূকে প্রথমবার তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই রাসেদ চৌধুরীও বিবাহিত এবং এক সন্তানের বাবা।

গত ২৭ ডিসেম্বর তুলে নেয়ার পর মুন্নি নামের ওই গৃহবধূর বাবা সিরাজুল ইসলাম দিপু ও স্বামী সাইদ রাসেল টঙ্গী থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ করেন রাসেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এলাকায় জানাজানি হলে ঘটনার ১০ দিন পর ৬ জানুয়ারি স্থানীয় ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হোসেন উভয় পক্ষকে তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে মীমাংসা করে দেন। তার ১০ দিনের  মাথায় আবার ওই যুবলীগ নেতা বাসা থেকে মুন্নিকে তুলে নিয়ে গেছেন এমন অভিযোগ মুন্নির পরিবারের। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান মুন্নির বাবা।

মুন্নির বাবার অভিযোগ থেকে জানা যায়, নয় বছর আগে টঙ্গীর মরকুন টেকপাড়া এলাকার শফি উদ্দিনের ছেলে সাঈদ রাসেলের সঙ্গে বিয়ে হয় তার মেয়ের। তাদের সংসারে ৮ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ১ বছর দুই মাস বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

মুন্নির বাবা সিরাজুল ইসলাম দিপু বলেন, ‘কিছুদিন ধরে যুবলীগ নেতা রাসেদ চৌধুরী বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও আমার মেয়েকে অনৈতিকভাবে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আসতেছিল। এরই মধ্যে গত ২৭/১২/২০১৭ ইং তারিখ বিকালে রাসেদ মুন্নিকে ফুঁসলিয়ে অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে নিয়ে বাসা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় আমি এবং আমার মেয়ের স্বামী সাঈদ রাসেল টঙ্গী থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করি এবং বিষয়টি স্থানীয় এমপি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে জানাই।’

১০ দিন পর গত ৬ জানুয়ারি রাসেদ চৌধুরী কাউন্সিলর আবুল হোসেনের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মুন্নিকে তার কাছে বুঝাইয়া দেন- এমন দাবি করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ওই দিন কাউন্সিলর আবুল হোসেন একটি অঙ্গীকারনামায় আমাকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করায়, কিন্তু রাসেদ চৌধুরীকে কোনো অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করায়নি।’

সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘যুবলীগ নেতা রাসেদ চৌধুরী কাউন্সিলর আবুল হোসেনের কর্মী হওয়ায় ওই দিন আমি ন্যায্য বিচার পাইনি। ন্যায্য বিচার না পাওয়ায় রাসেদ আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং গত সোমবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে দলবল নিয়ে আমার মেয়েকে বাসা থেকে আবার তুলে নিয়ে যায়।’

এবার বিষয়টি স্থানীয় এমপিকে জানান মুন্নির বাবা। তাকে কাউন্সিলর আবুল হোসেনের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন এমপি। কিন্তু মুন্নির বাবা ভাষ্য, ‘আবুল কমিশনার ন্যায্য বিচার করবে না জেনে আমি ও আমার পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিয়েছি।’

কাউন্সিলরের কর্যালয়ের সালিশ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম এম নাসির উদ্দিন। অঙ্গীকারনামায় উল্লেখিত ৫ সাক্ষীর মধ্যে তিনিও একজন। ঢাকাটাইমসকে নাসির বলেন, ‘আমরা ওই সালিসে মুন্নির জবানবন্দি নিয়েছিলাম। ঘটনার সাথে যুবলীগ নেতা রাসেদ চৌধুরীর সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় মুন্নিকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।’ আবার ওই মেয়ে বাসা থেকে চলে গেছেন এমন খবর তার জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

কারো কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি বলে জানান ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম এম নাসির উদ্দিন। নতুন অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ওই বিচারের পর রাসেদ যদি মুন্নিকে তুলে নিয়ে যায় তবে তিনি (মুন্নির বাবা) থানায় মামলা করতে পরেন। আমরাও তাকে সাহায্য করব।’


মুন্নির বাবার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, তবে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে কাউন্সিলর আবুল হোসেন বিশ্রামে রয়েছেন।

আর মুন্নি ‘নিখোঁজ’ ঘটনার পর থেকে বন্ধ রয়েছে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা রাসেদ চৌধুরীর মুঠোফোন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানান টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদার। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’  

(ঢাকাটাইমস/১৬জানুয়ারি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত