বিনাভোটে পাস করাতে তফসিল নিয়ে লুকোছাপার অভিযোগ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি,
 | প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:১৮

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে পৌর মেয়রের পছন্দের দুই প্রার্থীকে বিনাভোটে নির্বাচিত করার জন্য তফসিল ঘোষণা নিয়ে লুকোছাপার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জয়পুরহাট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বঞ্চিত প্রার্থীরা। বঞ্চিতদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আক্কেলপুর পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও পৌরসভার বিহারপুর-হিন্দুপাড়ার মৃত সুনীল বাগচীর স্ত্রী বন্দনা রানী বাগচী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রার্থী হতে ইচ্ছুক আক্কেলপুর পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও মুকিমপুর গ্রামের মজিবর রহমানের স্ত্রী মারুফা আক্তার রোজী, উপজেলার সোনামূখি ইউপি সদস্য ও কোলা গ্রামের মোজাম্মেল হকের স্ত্রী সাজেদা বেগম, গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও বাউস্ত-ঢেকুস্তা গ্রামের মামুনুর রশিদের স্ত্রী আফরোজা খাতুন, একই ইউপি’র অপর সদস্য ও ভিকনী-উত্তরপাড়া গ্রামের লালু প্রামানিকের স্ত্রী রহিমা খাতুনসহ অনেকে।   

অভিযোগকারী নারী জনপ্রতিনিধিরা তাদের লিখিত অভিযোগে জানান, আগামী ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে নির্বাচন উপলক্ষে প্রকাশ্যে নোটিশের মাধ্যমে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার কথা ছিল।

কিন্তু আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধূরী অবসর তার পছন্দের দুজন প্রার্থীকে বিনা ভোটে নির্বাচিত করার উদ্দেশ্যে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সাথে যোগসাজোস করে নির্বাচনী তফসিল গোপন রাখেন। ওই প্রার্থীরা হলেন-আক্কেলপুর পৌর কাউন্সিলর উম্মে কুলসুম ও উপজেলার রাইকালী ইউপি সদস্য সামসুন্নাহার স্মৃতি।  

তারা অভিযোগে আরো জানান, ‘আমরা বিষয়টি সোমবার বিকেলে জানতে পারলেও নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী ওই দিনই মনোনয়নপত্র জমা দানের শেষ সময় ছিল। এতে করে মনোনয়নপত্র তোলার পর তা জমা দেওয়ার জন্য আমাদের হাতে সময় ছিল না বলে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে প্রার্থীতা থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। এ নিয়ে সময় বৃদ্ধির জন্য জেলা নির্বাচন অফিসে গেলে সেখান থেকে আমাদের অপমান করে বের করে দেওয়া হয়। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে ও আক্কেলপুর পৌর মেয়রের সাথে যোগসাজোস করে এমন অনৈতিক কাজ করতে পারেন বলে আমরা অভিযোগ করছি।’

এই ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবির করা ছাড়াও সকলের অংশ গ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় সীমা বৃদ্ধি করতে মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আর তা না করা হলে মেয়রের পছন্দের ওই দুইজন প্রার্থী বিনা ভোটেই নির্বচিত হবে বলে আশার কথা জানান অভিযোগকারীরা।
এ নিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধূরী অবসর জানান, নির্বাচন কর্মকর্তার সাথে ফোনে শুধু তফসিল ঘোষণার কথা জেনেছেন মাত্র। এ ব্যাপারে তিনি কোনো হস্তক্ষেপ করেননি।

অভিযোগ অস্বীকার করলেও এ ব্যপারে কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় ব্যস্ত আছি।”

জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মোকাম্মেল হক জানান, অভিযোগকারী তিন নারী প্রার্থীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/১৬জানুয়ারি/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত