কেন কাঁটাচামচ দিয়ে খাবার খাবেন না

নিউজ ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারি ২০১৮, ০৮:১৬

হাত দিয়ে খাবার খাওয়ার প্রচলন চলে এসেছে সেই সৃষ্টিকাল থেকেই। পশ্চিমা বিশ্বের মানুষ চামচ কিংবা কাঁটাচামচ দিয়ে খাবার খেলেও বাংলাদেশসহ ভারতবর্ষে এর প্রচলন খুব বেশি নেই। বাংলাদেশে কর্পোরেট অফিস, পার্টি বা নামিদামি হোটেলে শুরু হয়েছে চামচ দিয়ে খাওয়ার প্রচলন।

আধুনিক আর নিজেকে স্মার্ট হিসেবে জাহির করতে অনেকে খাবার খাচ্ছেন চামচ কিংবা কাঁটাচামচ দিয়ে। অথচ আপনি হয়তো জানেন না চামচ দিয়ে খাবার খেয়ে বঞ্চিত করছেন নিজেকে। বিজ্ঞানী, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশারদ আর ব্যায়ামবিদরা গবেষণা করে হাত দিয়ে খাবার খাওয়ার নানা উপকার পেয়েছেন, যা চমকে দেবে আপনাকে! 

১. হাত দিয়ে খাওয়া ভালো কেন

স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিশারদরা জানিয়েছেন, হাত দিয়ে খাবার খাওয়ার অনুশীলন আমাদের শারীরিক চক্রগুলোর জন্য উপকারী। খাওয়ার সময় হাতের ব্যবহার শরীরে রক্তসংবহন বৃদ্ধি করে। একই কথা বলা হয়েছে হিন্দুদের পবিত্র গ্রন্থ বেদ-এ। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুসারে যেকোনো রোগ শরীরে বাসা বাঁধার পেছনে বায়ু-পিত্ত-কফের একটা ভূমিকা রয়েছে। তাই একবার যদি এই তিনটি উপাদানের মধ্যে ভারসাম্য ফিরে আসে, তাহলে শরীর নিয়ে আর কোনো চিন্তাই থাকে না।

২. শরীরে রক্তসঞ্চালন বাড়ায়

অনেকে শরীরের ফিটিনেস ঠিক রাখতে নানা ব্যায়াম করেন। হাত দিয়ে খাওয়াও একটা ব্যায়াম। এতে এক ধরনের পেশি-ব্যায়াম হয় যা রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে। হাত দিয়ে খাবার খাওয়ার সময় একাধিক পেশির সঞ্চালন হতে থাকে। ফলে হাতের পাশাপাশি সারা শরীরে রক্তের সরবরাহ বাড়ে। আর এমনটা হওয়া মাত্র বিভিন্ন অঙ্গে অক্সিজেন-সমৃদ্ধ রক্তও পৌঁছে যায়। ফলে শরীরের প্রতিটি অংশ উজ্জীবিত হয়ে ওঠে।   

৩. মনোযোগ বাড়ায়

আপনি যখন হাত দিয়ে খাবার খান তখন আপনার মনে এক ধরনের অব্যক্ত অনুভূতি কাজ করে। খাওয়া-দাওয়ার সময়ও মনটাকে বেঁধে রাখার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ খাওয়ার সময় মনকে সঙ্গে না রাখলে যেমন তৃপ্তি পাওয়া যায় না। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ যখন কাঁটা-চামচের পরিবর্তে হাত দিয়ে খাবার খায়, তখন প্রতিটা দানার সঙ্গে তার মনের একটা সংযোগ তৈরি হয়। ফলে নানা দিক থেকে বেশ উপকার মেলে। খাবার সময় আপনার মনে এক ধরনের স্নায়ুবিক সংযোগ বৃদ্ধি পায়। লেখক, পুষ্টিবিজ্ঞানী ও ব্যায়াম শারীরবৃত্তীয় বিশেষজ্ঞ লিউক কোথিনহোর মতে, আঙুল দিয়ে খেলে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি কি খাচ্ছেন। এতে আপনার মনোযোগ বাড়ে।

৪. হজমে সাহায্য করে

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুসারে হাত দিয়ে খাবার খাওয়ার সময় আমাদের হাতের একাধিক নার্ভ সচল হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের মস্তিষ্কের ওপর। সেই সঙ্গে শরীরের অন্দরে বায়ু, পিত্ত ও কফ- এই তিনটি উপাদানের মধ্যকার ভারসাম্য বজায় থাকে।

আধুনিক গবেষণা বলছে, হাত দিয়ে খাওয়ার সময় আঙুলের একেবারে মাথার কাছে থাকা নার্ভগুলো যখনই খাবারের স্পর্শ পায়, তাখনই একটা বিশেষ সিগনাল পেটে এসে পৌঁছায়। ফলে খাবারটি শরীরে প্রবেশ করার আগেই পাকস্থলী নিজের কাজ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। এতে হজম সহজ হয়।

৫. সরাসরি শারীরিক চক্রকে প্রভাবিত করে

বেদ অনুসারে আমাদের নখদর্পণ হৃদস্পন্দন, তৃতীয় চোখ, সৌর প্লেসাস, গলা, স্নায়ুতন্ত্র এবং মূল চক্রগুলোর সাথে সম্পর্কিত। আমরা যখন হাত দিয়ে খাবার খাই তখন আমাদের এই চক্রগুলো সক্রিয় হয় এবং শরীরে ইতিবাচক উপকার আনে।

৬. খাবার গরম কি না

আপনি চামচ দিয়ে খেলে খাবার গরম কি না তা বুঝতে পারবেন না।  আর হাতের সংস্পর্শে খুব দ্রুত আপনি বুঝবেন যে এটি খাওয়ার উপযোগী কি না। এর মধ্য দিয়ে গলার সংবেদনশীল টিস্যুগুলো পুড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।

৭. স্বাস্থ্যকর কি না

একটি খাবার আপনার অসুখের কারণ হতে পারে। শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। খাবারটি স্বাস্থ্যকর কি না তা বোঝার জন্য হাতের চেয়ে স্বাস্থ্যকর জিনিস আর নেই।

রোগ সেরে যায়

হাত দিয়ে খাবার খাওয়ার সময় আমাদের পাকস্থলির অঙ্গগুলো সক্রিয় হয়।   এ সময় আমাদের হাতে থাকা বেশ কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া মাঝেমধ্যে শরীরে প্রবেশ করার সুযোগ পেয়ে যায়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো হজমের উন্নতি ঘটায়। জার্নাল অব ক্লিনিকাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুসারে তাড়াতাড়ি খাওয়ার সঙ্গে ডায়াবেটিস রোগের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই তো সবারই হাত দিয়ে খাবার খাওয়া উচিত।

৯. পুষ্টির ঘাটতি পুরণ

হাত দিয়ে খাবার খাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো করা সম্ভব হয় না। ফলে খাবার ঠিকমতো হজম হওয়ার সুযোগ পায়। ঠিক সময়মত হজম হলে শরীর তার প্রয়োজনীয় পুষ্টির যোগান পেয়ে যায়। ফলে পুষ্টির অভাব হওয়ার কারণে নানাবিধ রোগ হওয়ার আশঙ্কা কমে আসে।

 (ঢাকাটাইমস/১৭জানুয়ারি/ওআর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত