দলের সিদ্ধান্তে রিট করিনি: বিএনপি নেতা আতাউর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:৪৭

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভোট স্থগিত চেয়ে রিটকারী বিএনপি নেতা আতাউর রহমান জানিয়েছেন, তিনি উচ্চ আদালতে গেছেন নিজের সিদ্ধান্তে। দলের কারও সঙ্গে যেমন তার কথা হয়নি, তেমনি তার সঙ্গে দলের কেউ যোগাযোগ করেনি।

আতাউর সিটি করপোরেশনে নতুন অন্তর্ভুক্ত ভাটার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। পাশাপাশি তিনি ভাটারা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকও। তিনি ছাড়াও উচ্চ আদালতে বেরাইদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমও সোমবার ভোট স্থগিত চেয়ে রিট করেন হাইকোর্টে। আর তাদের আবেদনে ভোট তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে উচ্চ আদালত।

এই নির্বাচনের আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই ভোট নিয়ে আইনি জটিলতার কথা উঠছিল। নির্বাচন কমিশন কোনো জটিলতা নেই জানিয়ে তফসিল ঘোষণা করলেও বিশেষ করে বিএনপির পক্ষ থেকে আদৌ ভোট হবে কি না সে নিয়ে সংশয়ের কথা বলা হচ্ছিল। তাদের সন্দেহের তীর ছিল সরকারপন্থীদের দিকে। কিন্তু শেষমেশ দেখা গেল, রিটকারী একজন তাদের দলেরই নেতা।

আপনার দল তো ভোটের বিপক্ষে নয়, তাহলে আপনি কেন ভোট স্থগিত চেয়ে রিট করলেন- এমন প্রশ্নে আতাউর রহমান বলেন, ‘আমি বিএনপির নেতা হতে পারি, কিন্তু আমি তো লোকাল চেয়ারম্যান। তাদেরকেও তো আমার কথাটা বুঝতে হবে।’

‘আমি কয় বছরের জন্য নির্বাচন করব? আমি চেয়ারম্যান তো পাঁচ বছরের জন্য। এখন নির্বাচন পাস করলে হলে কয় বছরের জন্য হবো? এটা তো আমাকে আগে জানতে হবে।’

-আপনি কি দলের সঙ্গে কথা বলে এই রিট করেছেন?

- ‘না, আমি তাদের কারও সঙ্গে কথা বলিনি, তারাও কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।’

-এখন যদি আপনার দলের পক্ষ থেকে রিট তুলে নিতে বলা হয়?

-‘আমি অবশ্যই দলের সিদ্ধান্ত মানব। প্রশ্ন করলে জবাব দেব। দলের হায়ার অথোরিটির নির্দেশ আমি অবশ্যই মানব। কিন্তু তাদেরকেও তো আমার অবস্থাটা বুঝতে হবে। আমারও তো জবাবহিদিতা আছে।’

-আপনার মূল আপত্তিটা কোথায়?

-‘আমি যেসব কাজকর্ম করেছি, যেগুলো তো এখনও চলমান। আমি শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হয়েছি। কোটি কোটি টাকার কাজ করিয়েছি, বিলও পরিশোধ করতে পারিনি। যদি আমি এভাবে ছেড়ে দেই তাহলে তো ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়ব। কন্ট্রাক্টর বলবে, আপনি টেন্ডার আহ্বান করছেন, এখন টাকা দেবেন। তখন আমি কোত্থেকে দেবো? সব মিলিয়ে দেখলাম, আমি আইনের আশ্রয় নিলেই সবচেয়ে সুবিধা হবে।’

-ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নতুন ৩৬টি ওয়ার্ড সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে গত জুলাইয়ে। তখন রিট না করে ভোটের লড়াই শুরুর আগে আগে কেন রিট করলেন?

-‘আমাদেরকে তখন তারা তখন বলেছেন, আমরা সব ফয়সালা দেব, অপেক্ষা করেন। কিন্তু তারা কিছুই করেনি।’

‘আমার ইউনিয়ন পরিষদ এখনও বিলুপ্ত হয়নি। আমি এখনও চেয়ারম্যান। কালকেও বিলে সই করেছি, আজকেও সই করেছি। আমার এখানে এখনও কিছু উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে। এগুলোর কী হবে?’।

-অপর রিটকারী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কি আগে থেকেই কথা বলে গিয়েছিলেন আপনি?

-‘না, না। তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে পরে। কোর্টে দেখলাম তাকে। সে তো আওয়ামী লীগ, তার সাথে আগে কেন কথা হবে?’।

আতাউর রহমান নিজেও কাউন্সিলর পদে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার ওয়ার্ডে বিএনপির সমর্থনও চেয়েছিলেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আতাউর বলেন, ‘গভর্নমেন্ট যদি নির্বাচন দিয়েই দেয়, ওইভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। দলের থেকেও সমর্থন নিয়েছে। আমি সব পথ খোলা রেখেছি।’

‘আমরা হলাম সামাজিক লোক, সমাজের সর্বস্তরের লোককে সেবা দেয়া অভ্যাস হয়ে গেছে। আমরা লোক ছাড়া চলতে পারি না। সকাল বেলা হলেই শত শত লোক থাকে। ভোট হলে তো নির্বাচন করতেই হবে।’

ঢাকাটাইমস/১৭জানুয়ারি/ডব্লিউবি

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত