ত্রুটিপূর্ণ তফসিলের কারণেই রিট: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:৫৪ | প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:৫২

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ত্রুটিপূর্ণ ছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। তার দাবি, এ কারণেই এই নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলেনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নীল নকশার কারণেই ভোট স্থগিত হয়েছে।

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির ভোট স্থগিত চেয়ে উত্তর সিটিতে অন্তর্ভুক্ত দুটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের আবেদনের পর বুধবার নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে উচ্চ আদালত।

যে দুই জন রিট আবেদন করেছেন তাদের একজন ভাটারা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান।

বিএনপিরই একজন নির্বাচন স্থগিতের দাবি নিয়ে উচ্চ আদালতে গিয়েছেন, তাহলে এখানে সরকারের দায় কী- এমন প্রশ্নে রিজভী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ত্রুটিপূর্ণ তফসিলের কারণেই সংক্ষুদ্ধরা রিট করার সুযোগ পেয়েছে।’

‘রিটকারী যে কোন দলের হতে পারে। তবে ত্রুটিপূর্ণ তফসিলের জন্য নির্বাচন কমিশনই দায়ী। এটা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ প্রযোজনা।’

রিজভী বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সি‌টি করপোরেশন উপনির্বাচন নিয়ে বর্তমান সিইসি সরকারের নির্দেশে আইনি ত্রু‌টি রেখে তফ‌সিল ঘোষণা করেছেন। এটা সরকারের নীল নকশার অংশ।’

গত ৪ জানুয়ারি ঢাকা ‍উত্তরে মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং রাজধানীর সিটিতে ৩৬ কাউন্সিলর পদে ভোটের তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আর ২৬ ফেব্রুয়ারির ভোটকে সামনে রেখে তফসিল ঘোষণা করা হয় ৯ জানুয়ারি।

নির্বাচন কমিশন ১৮ জানুয়ারির মধ্যে প্রার্থিতা জমা দেয়ার সময় বেঁধে দেয়ার পর ১৫ জানুয়ারি মেয়র পদে নিজের প্রার্থীও বাছাই করে বিএনপি।

আর তফসিল ঘোষণার পর থেকে এর ‘ত্রুটি’ নিয়ে কোনো বক্তব্য আসেনি বিএনপি বা রিজভীর পক্ষ থেকে।

তবে আওয়ামী লীগের নেতা বেরাইদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম এবং বিএনপি নেতা ভাটার ইউনিয়নের চেয়ার‌ম্যান আতাউর রহমানের রিট আবেদনে ভোট স্থগিত হওয়ার পর তফসিলের ত্রুটির অভিযাগ তুলছেন রিজভী। 

বিএনপি নেতা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ত্রু‌টিপূর্ণ তফসি‌লের কারণে  সংক্ষুব্ধরা রিট করার সুযোগ পেয়েছেন।’

‘আমরা বারবার বলে আস‌ছি নির্বাচন নিয়ে বর্তমান সিইসি আওয়ামী লীগের মাস্টারপ্ল্যানেরই অংশ। কেন না ডিএনসিসিসহ ঢাকা সি‌টিতে য‌দি সুষ্ঠু ভোট হয় তাহলে ক্ষমতাসীনদের ভরাডু‌বি হবে এটা সরকা‌রি দল জানে।’

‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও এ বছর হওয়ার কথা। তাই ঢাকা সি‌টিতে বিপুল ভোটে পরা‌জিত হলে আওয়ামী লীগের জাতকূল কিছুই থাক‌বে না।’

রিজভী বলেন, গত ৯ জানুয়ারি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৮ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এখন যিনি প্রার্থী হবেন তিনি জানেন না তিনি ভোটার কি না। তাছাড়া মনোনয়নপত্রে ৩০০ ভোটারের স্বাক্ষর থাকতে হবে। ভোটার তালিকা প্রকাশ না হলে এটা সম্ভব হচ্ছে না।’

‘এছাড়া মেয়রের পদসহ করপোরেশনের শতকরা ৭৫ ভাগ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের নির্বাচন হলে এবং নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হলে কমিশন যথাযথ গঠিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। এই আইনে উত্তর সিটি করপোরেশনের নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ড মিলে কাউন্সিলর শতকরা ৭৪ ভাগ হয় না। কারণ নতুন ১৮টিতে নির্বাচনই হয়নি।’

‘তাছাড়া সম্প্রসারিত ১৮ টি ওয়ার্ডে যারা কাউন্সিলর হবেন তারা কতদিনের জন্য নির্বাচিত হবেন। তারা কি পাঁচ বছরের জন্য হবেন, না আড়াই বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন তা নির্ধারণ করেনি কমিশন।’

 (ঢাকাটাইমস /১৭জানুয়ারি/বিইউ/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
Close