এলডিসি থেকে উত্তরণ মার্চে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:১১

লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রিজ বা এলসিডি থেকে বাংলাদেশ আগামী মার্চে বের হয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় বাংলাদেশ উঠে আসলে কিছু সুযোগ সুবিধা কমে যাবে জানিয়ে এর জন্য প্রস্তুত থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর এ কথা বলেন।

‘বাংলাদেশকে অমিত সম্ভবনার দেশ’ আখ্যা দিয়ে প্রধামন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের বুকে একটি গতিশীল অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার প্রত্যয় ও উপকরণ আমাদের রয়েছে।’

প্রথমবারের মতো ২০১৮ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা লাভ করবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নশীল দেশসমূহের সমকক্ষ হবে। তবে এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করে যা ট্রানজিশনের পর বন্ধ হয়ে যাবে।’

‘অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং কার্যক্ষেত্রে প্রস্তুতির মাধ্যমে আমাদেরকে তা পুষিয়ে নিতে হবে এবং আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ তার প্রভাব মোকাবেলায় কৌশলগত প্রস্তুতি ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে।’

বাংলাদেশের উন্নয়নের বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তড়ান্তিত করা, বাজেট ঘাটতি হ্রাস, আমদানি রপ্তানির উচ্চ প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকারের কর্মসূচি কার্যকর হয়েছে।’

‘১৯৯১ সালে আমাদের দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৫৬.৭ শতাংশ, আমরা সেই দারিদ্র্যের হার ২২.৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। অতি দারিদ্র্যের হার ৭.৯ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দারিদ্র্যের হার ১৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। আর সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

গত এক দশকে আমাদের গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.২৪ শতাংশ। গত অর্থবছরে এই হার ৭.২৮ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে আমাদের রপ্তানির পরিমাণ তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় নয় গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

জিডিপির ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৪ তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। আর ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে এর অবস্থান ৩২ তম। আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ২০৩০ ও ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ জিডিপি ও ক্রয়ক্ষমতার দিক থেকে যথাক্রমে ২৮ ও ২৩ তম অর্থনীতির দেশ হিসেব স্থান করে নিতে সক্ষম হবে।

২০৪১ সালে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, রূপকল্প ২০২১ এবং জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০১৩ আমাদেরকে অর্জন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

‘রূপকল্প ২০২১ এর লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা ২০২১ সালের মধ্যে। আমরা সপ্তম, অষ্টম ও নবম- এই তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ২০৩০ বাস্তবায়ন করতে চাই।’

উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগী, ‍সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাতসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতাও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করা। উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে উন্নত দেশসমূহকে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘চলমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আমরা আর্ন্তজাতিক সহযোগী দেশ ও সংস্থাসহ ব্যক্তিখাতের অংশীদারিত্বকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।”

সরকার বর্তমানে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায়  ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘অবকাঠামো উন্নয়নের আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং অধিকতর বৈদেশিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমও আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। উৎপাদনশীলনাকে জ্যমিতিক হারে বৃদ্ধি করে বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতাগুলো আংশিকভাবে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।’

এমডিজির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাংলাদেশ অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছে উল্লেখ করে তৃণমূলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সারাদেশে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের কথাও তুলে ধরেন।

দারিদ্র্য ও লিঙ্গ বৈষম্যকে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার কারণ হিসেবে ‍তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় নারীর ক্ষমতায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।বাংলাদেশ জেন্ডার বাজেট প্রণয়নে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে নেতৃত্বস্থানীয় দেশ।’

আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও জনসংখ্যা তাত্ত্বিক কারণে দ্রুত নগরায়ন হচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহরে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবহনের জন্য বড় বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি সহ র‌্যাপিড ম্যাস ট্রানজিট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রেলভিত্তিক সিস্টেম চালু করা হচ্ছে।’

এর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ওপর রোহিঙ্গা সঙ্কটের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন।  তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের সমাজ ও অর্থনীতির ওপর একটি বড় বোঝা। এটা আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিতে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে।’

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন চাই ঝ্যাং তার বক্তব্যে ঢাকার যানজটের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার ঢাকা পৌঁছে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তার হোটেলে পৌঁছাতে লেগেছে এক ঘন্টা। এই সমস্যা মেটাতে এডিবি বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানেট ডিক্সন, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ মহাপরিচালক মিনরু মাসুজিমা এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট-এর সিইও সুলাইমা জাসির আল-হেরবিশ প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

ঢাকাটাইমস/১৭জানুয়ারি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
Close