মুচলেকা দিয়ে ‘বৈষম্য’ নির্মাতার মুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:১১ | প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:৩৫

নারীর প্রতি অবমাননাকর স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘বৈষম্য’তে সামাজিক সব মাধ্যম থেকে সরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। আর এটা করতে হবে বৃহস্পতিবারের মধ্যে।

সিনেমাটি সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করার পর সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এতে নারীকে হেয় করার পাশাপাশি তার সংরক্ষিত নানা অধিকার নিয়ে কটূক্তি করা হয়েছে।

এর মধ্যে নির্মাতা হায়াৎ মাহমুদকে বুধবার ডেকে পাঠানো হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে।

পুলিশের জঙ্গিবিরোধী বিশেষ শাখা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) এডিসি নাজমুল ইসলাম কথা বলেন হায়াৎ মাহমুদের সঙ্গে। আর তখন এই ধরনের কাজ আর করা হবে না বলে মুচলেকা দেন তিনি।

পরে নিজেদের ফেসবুক পেইজে লাইভে এসে নারী সমাজসহ সবার কাছে ক্ষমা চান হায়াৎ মাহমুদ ও অভিনেতা সাব্বির অর্ণব।

সিনেমাটির নির্মাতা ও অভিনেতা লাইভে এসে বলেন, ‘ভিডিওটি সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যা আমরা আগে বুঝতে পারিনি। আমরা বুঝতে পেরেছি এটি শুধু ভুল নয়, এটি একটি অপরাধও। তাই ভবিষ্যতে আমরা এ ধরণের কোনো ভিডিও তৈরি করব না বা কাউকে তৈরি করতে উৎসাহিতও করবো না।’

এ সময় নির্মাতা হায়াত মাহমুদ বলেন, ‘এই ভিডিও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যদি কেউ কারও কোনো ক্ষতি হয় বা কেউ যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয় তাহলে এর দায়ভার আমার।’

জানতে চাইলে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এডিসি নাজমুল জানান, ‘আমরা ২৪ঘন্টার মধ্যে বৈষম্য নামক ভিডিওটি সকল সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ডিলিট করার নির্দেশ দিয়েছি।’

‘এর পরেও যদি কারো কাছে এই ভিডিওর লিংক বা ভি‌ডিও পাওয়া যায় বা সোশ্যাল মিডিয়াতে আপলোড করা হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

‘বৈষম্য’ এর নির্মাতা ও অভিনেতারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারার জন্য প্রাথমিকভাবে মুচলেকা আদায় করে তাদের বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার কথা জানান ডিএমপির সাইবার সিকিউরি‌টি অ্যান্ড ক্রাইম ডি‌ভিশনের উপকমিশনার মো. আলীমুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘তাদেরকে অভিভাবকের হাতে তুলে দেয় হলেও পরবর্তীতে এ ধরনের কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ।’

গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হায়াত মাহমুদের শর্টফিল্মটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এতে নারীদের পাবলিক প্লেসে সিগারেট খাবার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে একটি ছেলের উগ্র এবং অযৌক্তিক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিওটিতে নারী পুরুষ বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে পাবলিক বাসের ভেতর নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের মতন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়েছে।

নারী পুরুষের মধ্যে বৈষম্য বলতে এই শর্টফিল্মের নির্মাতা পিছিয়ে পড়া নারীদের সমতা আনয়নে যে বাড়তি সুযোগ দেয়া হয়েছে সেটির তীব্র সমালোচনা করেছেন।

অত্যন্ত পুরুষতান্ত্রিক চেতনায় সমৃদ্ধ এই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমের গুটিকয়েক মানুষ ছাড়া সবার কাছ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।

কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এধরনের ভিডিও ছাড়বার ব্যাপারে আইন থাকা উচিত এবং সেই আইন প্রয়োগ করে এ ধরনের ভিডিও নির্মাতাদের শাস্তির বিধান থাকা উচিত।

 

ঢাকাটাইমস/১৭জানুয়ারি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত