ভিসিকে ৪৮ ‌ঘণ্টার আলটিমেটাম

হয় প্রক্টরের পদত্যাগ নয় ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কার

ঢাবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারি ২০১৮, ১০:২৬

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলা এবং ছাত্রী নিপীড়নের ঘটনায় হয় প্রক্টরের পদত্যাগ নয় ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কারের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে বুধবার দিনব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভের সময় তারা কলা ভবনের পূর্ব পাশের গেট ভাঙচুর, প্রক্টরকে তিন ঘণ্টা অবরোধ, উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করে। এরপর প্রশাসনকে ৪৮ কর্মঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে শেষ করে বুধবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি।

এই সময়ের মধ্যে তিন দফা দাবি মানা না হলে আগামী মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১. চিহ্নিত হামলাকারীকে সাময়িক বহিষ্কার করতে হবে; ২. তদন্ত কমিটিতে তিনজন ছাত্র প্রতিনিধি রাখতে হবে এবং তদন্ত পরবর্তী প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাদের আজীবন বহিষ্কার করতে হবে; ৩. ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের বহিষ্কার করতে ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে।

বুধবার বেলা ১১টায় অপরাজেয় বাংলার  পাদদেশে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীরা’ ব্যানারে  মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। সেখান থেকে একটি মিছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ  করে। এরপর বেলা ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরকে অবরুদ্ধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। এ সময় কলা ভবনের গেট বন্ধ করে দিলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।

‘নিপীড়নের ঘটনা’য় অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন রহমান, সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সভাপতি সোহানুর রহমান, মুহসীন হলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী, সূর্যসেন হলের সভাপতি গোলাম সারোয়ার, রোকেয়া হলের সভাপতি বি এম লিপি, ফজিলাতুন্নেসা হলের সভাপতি বেনজির হোসেন নিশি, কুয়েত মৈত্রী হলের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা, সুফিয়া কামাল হলের সভাপতি শারজিয়া শারমিন শম্পাকে বহিষ্কারের দাবি জানান তারা।

সাত কলেজের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির ছাত্র মশিউর রহমান সাদিক।

সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে তাকে মঙ্গলবার মধ্যরাতে শাহবাগ থানা থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিপীড়নে ‘জড়িত’ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে কর্মসূচিতে ‘হামলার’ সুষ্ঠু তদন্ত এবং গ্রেপ্তার মশিউর রহমান সাদীকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

সাত কলেজেল অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে গত সোমবার ক্লাস বর্জন করে নানা কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু ছাত্রলীগ এই কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন তারা। সেদিন কর্মসূচিতে অবস্থান নেয়া ছাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

একই দিন শিক্ষার্থীরা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে সেখান থেকে মশিউরকে কার্যালয়ের ভেতর নিয়ে যান ছাত্রলীগের নেতারা। পরে তাকে নেওয়া হয় শাহবাগ থানায়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ও বিচার দাবিতে বুধবার বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা যায়, মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীদের আসতে দেখে  কলা ভবনে অবস্থিত প্রক্টর অফিসের প্রবেশের পূবে গেইটে তালা আটকে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা তখন কলাপসিবল ফটক ভেঙে  প্রক্টর অফিসের বারান্দায় অবস্থান নেন।

পরে প্রক্টর তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে কলাভবনের গেইটে উত্তেজিত ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষার্থীরা এ সময় তাদের তিন দফা দাবি প্রক্টরের সামনে তুলে ধরেন। প্রক্টর সাত দিনের সময় চাইলে শিক্ষার্থীরা তাতে সম্মত হননি। তাদের দাবি অপরাধীদের ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসায় তারা চিহ্নিত। সাত দিনের কথা বলে প্রক্টর প্রহসনের ব্যবস্থা করছেন।

শিক্ষার্থীরা এ সময় ছাত্রলীগের ‘হামলা’ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা’ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করলেও সরাসরি কোনো উত্তর দেননি অধ্যাপক রাব্বানী।

একপর্যায় আন্দোলনকারীরা প্রক্টরের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে এবং তার পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

আন্দোলনকারীরা ‘প্রক্টর অপারগ’ দাবি তুলে বিকেল চারটার দিকে ভিসি অফিসে যান। সেখানে ভিসি অফিসের প্রবেশমুখে গেট বন্ধ করতে চাইলে কর্মচারীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি  হয়। পরে গেট খুলে দিলে তারা সেখানে ফ্লোরে বসে পড়েন। ভিসির সাড়া না পেয়ে ঘণ্টা খানেক পর শিক্ষার্থীরা তার অফিসের সন্নিকটে গিয়ে অবস্থান নেন। তখন সেখানে শুরু হয় হট্টগোল। একপর্যায়ে উপাচার্য আন্দোলনকারীদের সামনে এসে তাদের  দাবিগুলো শোনেন। ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ বলে শিক্ষার্থদের আশ্বস্ত করেন ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান।

কিন্তু আন্দোলনকারীরা সুনির্দিষ্ট সময় চেয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় ভিসিকে তিন  দফা দাবি মানার জন্য ৪৮ ঘণ্টার  আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

(ঢাকাটাইমস/১৭জানুয়ারি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত