প্রথম শ্রেণির ছাত্রকে কুপিয়ে জখম ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৩৯ | প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৩০

ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে একটি স্কুলের শৌচালয়ে ক্লাস ওয়ানের এক ছাত্রকে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলেরই ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে। আক্রান্ত সাত বছরের শিশু এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে কিং জর্জস মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ট্রমা সেন্টারে।

গত বছর নয়াদিল্লির গুরুগাঁওয়ে রায়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলেও ঘটেছিল একই ধরনের ঘটনা। ঐ স্কুলের শৌচালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র প্রদ্যুমন ঠাকুরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে ১৬ বছর বয়সী আরেক ছাত্র।

বৃহস্পতিবার পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ত্রিবেণীনগরে ব্রাইটল্যান্ড ইন্টার কলেজ স্কুলে ঘটেছে এই রোমহর্ষক ঘটনা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বুধবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়।বুধবার রাতে হাসপাতালের বেডে শুয়েই হৃত্বিক শর্মা নামে শিশুটি পুলিশকে জবানবন্দিতে জানিয়েছে, মেয়েটি তাকে মারার সময় বলছিল, স্কুল যাতে তাড়াতাড়ি ছুটি হয়ে যায়, সে জন্যই সে এই কাজ করছে।

তার কথায়, 'বয় কাট চুলের একটি দিদি আমায় ডেকে বলল, এক শিক্ষক আমায় ডাকছেন। ও আমাকে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে চড় মারতে শুরু করে। এরপর ধারালো একটা কী দিয়ে আমার ওপর আক্রমণ করে সে। আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম কেন আমাকে মারছ, ও বলল - আমি চাই আজ স্কুল তাড়াতাড়ি ছুটি হয়ে যাক।'

যদিও স্কুলের তরফ থেকে প্রাথমিকভাবে শিশুটির বাবা-মাকে জানানো হয়েছিল যে, তাদের ছেলের একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। সংবাদমাধ্যম ট্রমা সেন্টারে পৌঁছানোর পরই পুলিশের কাছে লিখিত আকারে অভিযোগ জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে না-জানানোয় স্কুলের প্রিন্সিপাল রাচিত মানসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশু একটি ছবি দেখিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির যে ছাত্রীকে অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করেছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। আক্রান্ত শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শিশুটির বুকে ও পেটে গভীর আঘাত রয়েছে, তবে আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসক জানিয়েছে।

আলিগঞ্জ পুলিশ স্টেশনের সিনিয়র সাব ইনস্পেক্টর নেপাল সিং জানিয়েছেন, 'তিন তলায় বাথরুমটি রয়েছে। এর একটি অংশ কর্মীরা আর একটি অংশ শিশুরা ব্যবহার করে।' বাথরুমের একটিই প্রবেশ ও বেরনোর দরজা। সেটা সিল করে রাখা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দিয়ে পুলিশকে তদন্তে সাহায্য করা হবে বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে কেন এই খবর পুলিশ জানাতে দেরি হল, সে বিষয়ে বিষয়ে কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি কেউই।

অভিযুক্ত মেয়েটি একবার তার নিজের কবজি কেটে দিয়েছিল আর ক্লাসরুমে তার আচরণও সন্দেহজনক ছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। ব্লু হোয়েল গেমের সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: এই সময়

(ঢাকাটাইমস/১৮জানুয়ারি/এসআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত