পদ্মাসেতুর ১৪টি পাইলের নকশা পাল্টাতে হচ্ছে: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:৫৭

মাটির নিচের ভিন্নতার কারণে পদ্মাসেতুর ১৪টি পাইলের নকশা পাল্টাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আর মাটির স্তরে ভিন্নতার কারণে এই নকশা পাল্টাতে বিলম্ব হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ সেলিনা বেগমের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী এ তথ্য দেন। তবে এই জটিলতার মধ্যেও নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ চলতি বছরের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর মূল প্রথম স্প্যান বসানোর দিন প্রতি মাসে একটি করে স্প্যান বসানোর আশা করা হয়েছিল। সেই হিসাবে এতোদিনে চারটি স্প্যান বসে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় স্প্যান বসাতে গিয়ে নদীর তদলেদেশে গভীর কাদার স্তর পাওয়া যায়। আর এই জটিলতার সমাধানে সেতুর নকশায় পরিবর্তন আনার কাজ শুরু হয়।

সেতু মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা নদীর মাটির লেয়ারের ভিন্নতার কারণে ১৪টি পিয়ার লোকেশনে পাইলের ডিজাইন চূড়ান্ত করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এ ধরনের বড় কাজে দেশ, বিদেশের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

মোট ৪১টি স্প্যান থাকবে দেশের বৃহত্তম এই সেতুতে। এর মধ্যে স্প্যান বসাতে জটিলতার পর এই সেতু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গত ২ জানুয়ারি ছাত্রদলের এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, এই সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে। আর সেতুতে ঝুঁকি আছে বলে এতে কেউ যেন না উঠে সে জন্যও সতর্ক করে দেন খালেদা।

এরই মধ্যে খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা এসেছে সরকারি দলের পক্ষ থেকে। আওয়ামী লীগ নেতারা বরাবর বলে আসছেন নির্ধারিত সময় ২০১৮ সালেই এই সেতুর কাজ শেষ হবে।

সংসদেও ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে সেতুর একটি স্প্যান বসানো হয়েছে। চলতি জানুয়ারি মাসে আরও একটি স্প্যান বসানো হবে। পাইল ড্রাইভিং এবং পিয়ার কলামের পাশাপাশি অবশিষ্ট স্প্যানগুলো পর্যায়ক্রমে বসানোর মাধ্যমে চলতি ২০১৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

পদ্মা সেতু প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে বলেও জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

এই সেতুর অর্থায়নকারী প্রধান সংস্থা বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ তুলে সরে যাওয়ার পর সরকার নিজ অর্থে সেতুর কাজ শুরু করে। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর মূল সেতুর কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সময়ই ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করার লক্ষ্যের কথা জানানো হয়।

এরই মধ্যে অবশ্য বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে কানাডার একটি আদালত। ওই আদালতে করা মামলাকে গালগপ্প বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিচারক। তিনি বলেছেন, শোনা কথায় বিশ্বাস করে মামলা করেছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতুতে যে পরিমাণ অর্থ দেবে বলে জানিয়েছিল, সেই অর্থ অবশ্য পরে অন্য প্রকল্পে দিয়েছে সংস্থাটি।

 (ঢাকাটাইমস/১৮ জানুয়ারি/এনআই/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত