জয়পুরহাট আ.লীগে ‘বহিষ্কার-বহিষ্কার খেলা’

শামীম কাদির, জয়পুরহাট
| আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ০৯:৩৩ | প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ০৮:১৬

জয়পুরহাট আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে চলছে বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কারের মত ঘটনা।

সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্¦াধীন জেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশের নেতারা সম্প্রতি অপর পক্ষের তিন নেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজ্ঞপ্তি পাঠায় গণমাধ্যমে। আর এর প্রতিক্রিয়ায় জেলা চেয়ারম্যান ফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হয় জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী দুই জনকে।

অবশ্য আওয়ামী লীগ থেকে কাউকে বহিষ্কারের ক্ষমতা জেলা শাখার নেই। তারা কারও ব্যাপারে সুপারিশ পাঠাতে পারে এবং এরপর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করবে এবং এই জবাবের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু জয়পুরহাট আওয়ামী লীগের বিবাদমান নেতারা নিজেদের মতো বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছেন স্থানীয় গণমাধ্যমে।

জেলা আওয়ামী লীগ বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত। এক অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। আর অপর অংশের নেতৃত্বে আছেন জেলা আওয়মী লীগের সভাপতি ও জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য সামছুল আলম দুদু এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলায়মান আলী।

বেশ দীর্ঘ দিন ধরে দুই পক্ষ আলাদাভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছে। তবে সম্প্রতি এই কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে।

গত ১৩ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বাধীন অংশের নেতারা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত কালাই উপজেলা চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন, তার চাচা পুনট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস ফকির এবং মাত্রাই ইউপি চেয়ারম্যান আ ন ম শওকত হাবিব তালুকদার লজিককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন।

দল থেকে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে জানানো হয়, মিনফুজুর রহমান মিলনের পিতামহ ও আব্দুল কুদ্দুস ফকিরের বাবা মোহাম্মদ আলী ফকির এবং অপর সদস্য আ ন ম শওকত হাবিব তালুকদার লজিকের বাবা আজহারুল ইসলাম তালুকদার একাত্তর সালের রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। তাই তারা আওয়ামী লীগের সদস্য থাকতে পারেন না।

এর প্রতিক্রিয়ায় জেলা শহর এবং কালাই উপজেলায় বিক্ষোভ হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। এই দুই নেতাকে শহরে অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করেছেন বিক্ষোভকারী নেতারা।

ওই বহিষ্কারের জবাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জয়পুরহাট পৌর মিলায়তনে জেলা চেয়ারম্যান ফোরামের জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি জেলার পাঁচবিবি উপজেলার আয়মা-রসুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদুল আলম বেনুকে বহিষ্কার করেন স্বপনের অনুসারী চেয়ারম্যানরা। বেনু জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সম্পাদক সম্পাদকের অনুসারী। তিনি  জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সাংগঠনিক সম্পাদক।

সদর উপজেলার বম্বু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ফোরামের সদস্য মোল্লা সামছুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ফোরামের ২৫ জন সদস্য সর্ব সম্মতিতে এই  সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ফোরামের এক বিজ্ঞপ্তিতে জাননো হয়।

জানতে চাইলে স্বপনের অনুসারী কালাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দোগাছী ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ তাদের মাত্র কয়েকজন নেতা আমাদের যে তিন জন নেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা অগতান্ত্রিক।’

জহুরুল বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন যাতে নির্বাচিত হতে না পারেন সে চেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ওই তিন নেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

অন্য দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলায়মান আলী বলেন, ‘যাদের মেম্বার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না তাদের বিনা ভোটে চেয়ারম্যন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের নির্দেশে। তারাই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান নেতাকে ফোরাম থেকে বহিষ্কার করলেও তাকে চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের ক্ষমতা ও যোগ্যতা তাদের নাই।

ঢাকাটাইমস/১৯জানুয়ারি/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত