আমি ভাঙচুরকারী, আমাকে গ্রেপ্তার করুক’

ঢাবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:৫৫ | প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:০৮

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মামলার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন দুই জন ছাত্র। তাদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে যোগ নিয়েছেন ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’।

এই দুই শিক্ষার্থী হলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র রাজীব কুমার দাশ এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের মাহির শাহরিয়ার রেজা।

দুই শিক্ষার্থী ‘আমি ভাঙচুরকারী আমাকে গ্রেপ্তার কর’ এবং ‘আমি আন্দোলনকারী আমাকে গ্রেপ্তার কর’ লেখে দুটি প্ল্যাকার্ড বহন করছেন।

রাজীব দাশ রাজ বলেন, ‘অবিলম্বে প্রক্টরের পদত্যাগ করতে হবে। মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।’

‘মামলায় তো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কারও নাম উল্লেখ করেনি। তবে আমিও ওই দিন ভাঙচুর করেছি, আন্দোলন করেছি। প্রশাসন, পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করুক।’

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলা প্রত্যহারের ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

রাতভর তারা সেখানে অবস্থান নেন। সেখান থেকে উঠে যেতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুরোধ করলেও তারা তা রাখেনি। এরপর সকালে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় শ খানেক শিক্ষার্থী।

ছাত্রলীগের ‘নিপীড়নের’ প্রতিবাদে গত বুধবার প্রক্টর কার্যালয় ঘেরাওয়ের সময় লোহার গেট ভাঙচুর করে শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার সময় ফটক ভাঙচুরের কিছু ছবি ও ভিডিও জমা দেয়া হয় থানায়।

এই মামলার প্রতিবাদে রাতেই উপাচার্য আখতারুজ্জামানের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। সেখানে মিনিট দশেক অবস্থান শেষে শিক্ষার্থীরা মিছিল করে প্রক্টর গোলাম রব্বানীর পদত্যাগ দাবি জানায়। এরপর রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশ শেষে দুই ছাত্র সেখানে অবস্থান নেন।

ঢাকার সাত সরকারি কলেজের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছিল শিক্ষার্থীরা। সোমবার উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে তাদের কর্মসূচিতে সেখানে থাকা কয়েকজন মেয়েকে ছাত্রলীগ কর্মীরা হয়রানি করে বলে অভিযোগ করছেন আন্দোলনকারীদের অভিযোগ।

এর প্রতিবাদে এবং নিপীড়নকারী ছাত্রলীগ কর্মীদের বহিষ্কার ও শাস্তির দাবিতে বুধবার প্রক্টর কার্যালয় ঘেরাও করে একদল শিক্ষার্থী। কিন্তু প্রক্টর তার কার্যালয়ের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে বিক্ষোভকারীরা সেটি ভেঙে ফেলে।

অবশ্য নিপীড়ণের ঘটনা তদন্তে কমিটি করার কথা জানিয়েছেন উপাচার্য আখতারুজ্জামান। সেই সঙ্গে কলাভবন ভাঙচুরের ঘটনায় করা হয়েছে আরেকটি কমিটি।

এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় নতুন উত্তেজনা ছড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ঢাকাটাইমস/১৯জানুয়ারি/এনএইচএস/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত