ছেলেকে হত্যা করে দেহ পুড়িয়ে দিল মা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:৩১ | প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:২৮

শাসন করতে গিয়ে নিজের ছেলেকেই শ্বাসরোধ করে খুন করলেন মা। শুকনো খড়কুটো জ্বেলে সেই দেহ পুড়িয়েও দিলেন। আর এই গোটা কাজটাই একাই করলেন ৪২ বছর বয়সী জয়া মোল।

ভয়ংকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কেরালা রাজ্যের কোল্লাম জেলায়।

পুলিশ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার থানায় এসে জয়া এবং স্বামী জন জব জানান যে তাদের ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সোমবার থেকে তার কোনও খোঁজ মিলছে না বলে জানান তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, কোল্লাম জেলাতেই স্বামী জন এবং ছেলে জিতুর সঙ্গে থাকেন জয়া। ১৪ বছর বয়সী জিতু নবম শ্রেণির ছাত্র। তদন্তে নেমে খটকা লাগে পুলিশের। বাড়ির পিছনের দিকে বাগানে জিতুর জুতা খুঁজে পাওয়া যায়। জয়ার কথাতেও বেশি কিছু অসঙ্গতি ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার হাতে পোড়া দাগও ছিল। কীভাবে হাত পুড়েছে জানতে চাইলে গোটা ব্যাপারটাই এড়িয়ে যান তিনি।

কোল্লাম পুলিশ কমিশনার এ শ্রীনিবাস জানিয়েছেন, জনদের বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরত্বে একটি দগ্ধ দেহের খোঁজ পাওয়া যায়। সেই দেহ ছেলে জিতুর বলেই শনাক্ত করেন তার বাবা। এরপরেই জয়ার ওপর সন্দেহ আরও জোরদার হয় পুলিশের। জেরার মুখে প্রথমে অস্বীকার করলেও পড়ে ভেঙে পড়েন তিনি।

পুলিশকে জয়া জানান, তিনিই নিজের হাতে ছেলেকে খুন করেছেন।

ঠিক কী ঘটেছিল ওই দিন? জয়ার থেকে ঘটনার বর্ণনা শুনে চমকে ওঠেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

জেরায় জয়া জানায়, গত সোমবার জিতুর সঙ্গে কোনও একটা বিষয়ে তার তর্ক শুরু হয়। ছেলে কিছুতেই কথা শুনছিল না। তাই তার মাথা গরম হয়ে যায়। ছেলেকে প্রথমে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করেন তিনি। পরে সেই দেহ টেনে নিয়ে যান বাড়ির পিছনের বাগানে। সেখানে, শুকনো পাতা এবং নারকেল ছোবড়া জড়ো করে মৃতদেহ পুড়িয়ে দেন। পরে দেহের অবশিষ্টাংশ বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে ফেলে দিয়ে আসেন। সন্ধ্যায় স্বামী বাড়ি ফিরলে তিনি জানান, যে তাদের ছেলে দোকানে জিনিস কিনতে গিয়েছিল। আর ফিরে আসেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় জয়া বলেছে যে তার ছেলেই তাকে নানাভাবে উত্যক্ত করছিল।তাই তিনি মাথার ঠিক রাখতে পারেননি। কিন্তু জয়ার স্বামী জনের দাবি, তার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন। ছেলের সঙ্গে প্রায়ই তার বাগবিতণ্ডা লেগে থাকত। কিন্তু এভাবে নিজের ছেলেকেই খুন করবেন জয়া, সেটা তার কাছেও অবিশ্বাস্য।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

(ঢাকাটাইমস/১৯জানুয়ারি/এসআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত