ছুটির দিনে কেনাকাটায় মুখর বাণিজ্য মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:৩৪

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আজ ১৯তম দিন। প্রতিবারই মেলা পুরোপুরি জমে উঠে এই সময়ই। আজ ছিল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন। শীতের তীব্রতাও তেমন ছিল না। ফলে বিপুল ক্রেতার পদচারণে মুখর বাণিজ্য মেলা কেনাকাটায় জমজমাট হয়ে ওঠে।

বাণিজ্য মেলা এখন শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, বিনোদনেরও স্থান। সব বয়সের দর্শনার্থীরা মেলায় ভিড় জমায়। আজ দেখা যায় মেলায় আসা ক্রেতাদের মধ্যে বেশির ভাগই পছন্দ অনুযায়ী পণ্য কিনে ফিরেছেন।

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে মায়ের সঙ্গে মেলায় এসেছে কলেজ পড়ুয়া তামান্না ইসলাম মীম। ঢাকাটাইমসকে মীম বলেন, ‘মেলার শেষ দিকে বেশ গোছালো থাকে মেলার পরিবেশ। আর ক্রেতা-দর্শকের ভিড়ও হয় বেশি। মেলায় যদি ভিড় না হয় তাহলে ভালো লাগে না। আজ ছুটির দিনে তাই আমাকে ও ছোট ভাইকে নিয়ে মা মেলায় আসলেন।’

মা নাসিমা জামান বলেন, মেলার পরিবেশ খুব সুন্দর। বিশেষ করে মেলা প্যাভিলিয়নগুলো খুবই নান্দনিকভাবে সাজানো। এসএমই প্যাভিলিয়ন থেকে জামদানি শাড়ি ও মেয়ের জন্য একটি থ্রিপিস কিনেছেন বলে জানান তিনি। 

মেলার প্রায় স্টলেই বিক্রয়কর্মীরা ক্রেতা ও দর্শনার্থীর ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বেশি ভিড় দেখা যায় গৃহস্থালি পণ্য, মোবাইল ফোন, ব্লেজার ও কটির স্টল আর খাবার দোকানে। তরুণীরা পছন্দের গহনা কিনতে ভিড় করেছে গহনার দোকানে।

গৃহস্থালি পণ্যসামগ্রী বিক্রয় বিশেষত প্লাস্টিক পণ্যের স্টল আরএফএল, বেস্টবাই, ইটালিয়ানো, বেঙ্গল হ্যাপিমার্ট, শরীফ মেলামাইনের স্টলে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

আরএফএলের বিক্রয়কর্মী জানান, যারাই আসছে কিছু না কিছু পণ্য কিনে বের হচ্ছে।

মিরপুর থেকে এসেছে মহসিনা বেগম। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এই  চাকুরে কিনেছেন এক সেট মেলামাইনের বাটি। ছোটো থেকে বড় ১০টি বাটি আছে এই সেটে। এ ছাড়া বিস্কিট, আচার ও বাচ্চাদের খেলনা কিনেছেন তিনি।

মেলার অস্থায়ী শিশুপার্কে কথা হয় সাভার থেকে আসা সুজন আকনের সঙ্গে। তিনি এসেছেন পরিবার নিয়ে। ঢাকাটাইমসকে বলেন, সাভারের বাইপাইলে স্টেশনারি দোকান আছে তার। দোকান বন্ধ করে তিনি পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছেন। এখানে শিশুপার্কের ব্যবস্থা থাকায় ভালোই হয়েছে জানিয়ে সুজন বলেন, ‘ছেলেকে এখানে বিভিন্ন রাইডে চড়াতে পারছি। আর আমার স্ত্রীর তো শখ ছিল বাণিজ্য মেলায় আসার। কিছু গৃহস্থালি পণ্য কিনেছি। কেনাকাটার পাশাপাশি ঘোরাও হয়েছে।’  

হাসিব, ছাবিদ, নূর মোহাম্মদ জিম, ইমতিয়াজ ঘুরে ঘুরে সেলফি তুলছিলেন। ছাবিদ জানান, তারা রাজধানীর বিভিন্ন কলেজে পড়েন। বন্ধুরা আজ আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন মেলায় ঘুরতে আসবেন। তবে ঘুরতে এলেও হাসিবের একটি ব্লেজার পছন্দ হওয়ায় সেটা কিনেছেন।

শীতের মধ্যেও আইসক্রিমের স্টলগুলোতে ভিড় ছিল বেশ। তরুণ ও শিশুর ভিড় লেগে ছিল ইগলু, ব্লুপসহ বিভিন্ন আইসক্রিম স্টলে। স্টলগুলোও সাজিয়েছে নান্দনিকভাবে।

মেলায় বড় বড় প্যাভিলিয়নগুলো নিয়েছে ফার্নিচার ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স কোম্পানিগুলো। নিজেদের সর্বশেষ ডিজাইন নিয়ে এসেছে তারা।

প্রাণ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ঝটপট ফ্রোজেন ফুড মেলায় বিক্রি করছে গরম গরম নানা স্বাদের খাবার। খাবার খেতে মেলার পশ্চিম পাশে ফুড কোর্টের পাশে এর স্টলে ভিড় লেগেই আছে। এখানে প্যাকেটজাত দেশি পরোটা, শিঙাড়া, সমুচা, পুরি, চিকেন নাগেটস, অনথন, চিকেন পপকর্ন ও স্প্রিং রোলসহ হরেক রকমের খাবার পাওয়া যাচ্ছে। বাণিজ্য মেলায় প্রাঙ্গণে পর্যটন ফুড প্যাভিলিয়নেও ভিড় লেগে থাকে সব সময়ই।

বাণিজ্যমেলার এসএমই ফাউন্ডেশনের ‘প্যাভিলিয়ন- আর পি ১’ সাজানো বাহারি পণ্যে দিয়ে। হাতের তৈরি আকর্ষণীয় বিভিন্ন পোশাক, হ্যান্ডিক্রাফট, লেদার পণ্য, জুট পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, রংপুরের ঐতিহ্যবাহী শতরঞ্জী, জামদানি ও মসলিন শাড়ি, মাটির গহনা, জামদানি গহনা, বিয়ের শাড়ি, বুটিক পণ্য, নারিকেল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী স্থান পেয়েছে এসএমই প্যাভিলিয়নে। এছাড়া খাবার, বিভিন্ন আচার, খাঁটি মধু ও ঘিসহ বাহারি অনেক পণ্যেও আছে এই প্যাভিলিয়নে।

এক স্টলে এত পণ্য থাকায় যারা এ প্যাভিলিয়নে প্রবেশ করছে তারাই কিছু না কিছু কিনে বের হচ্ছে।

এ প্যাভিলিয়নের সব পণ্যই দেশি উদ্যোক্তাদের তৈরি ও তাদের নিজস্ব  প্রতিষ্ঠানের।

এমএমই প্যাভিলিয়নে কথা হয় জারমাটজ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাত জেরিন খানের সঙ্গে। তিনি এ প্যাভিলিয়নে ২০ নম্বর স্টলটি নিয়েছেন। ঢাকাটাইমসকে ইসমাত জেরিন বলেন, ‘আমরা নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করি। জার্মানি ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে আমাদের পণ্য রপ্তানি করা হয়। আমাদের সব পণ্যই এক্সপোর্ট কোয়ালিটির। মেলায় আমরা বিদেশি ক্রেতাদের থেকে কিছু অর্ডার পেয়েছি। বিশেষ করে জামদানি, শীতলপাটি ও পার্টের ব্যাগের অর্ডার।

ইসমাত জেরিন জানান, তারা পাটের বহুমুখী পণ্য তৈরি করেন। তাদের স্টলে পাটের তৈরি পণ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যাগ, শপিং ব্যাগ, লেডিস ব্যাগ, কম্ব ব্যাগসহ বাহারি ডিজাইনের ২০ রকমের ব্যাগ। রয়েছে জামদানি শাড়ি ও জামদানি কাপড় দিয়ে তৈরি গহনা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের স্টলও আছে বাণিজ্য মেলায়। মেলার ভিআইপি গেটের কাছে তারা স্টল নিয়েছে। সেখানে নিয়মিত থাকছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। কোনো গ্রাহক এসে তার অভিযোগ এখানে জানাতে পারেন। আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে জরিমানার ২৫ শতাংশ পাচ্ছে অভিযোগকারী।

(ঢাকাটাইমস/১৯জানুয়ারি/জেআর/মোআ)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত