হাওরে পানি না কমায় সার নিয়ে বিপাকে ডিলাররা

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)
 | প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ১১:৪৬

তাহিরপুরের বিভিন্ন বোর ফসলি হাওরের পানি না কমার কারণে সার নিয়ে নানামুখী বিপাকে পড়েছেন বিসিআইসির সারের ডিলাররা।

উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে তাহিরপুর সদর, শ্রীপুর দক্ষিণ, শ্রীপুর উত্তর, বড়দল দক্ষিণ এ চারটি ইউনিয়নের অবস্থান পড়েছে হাওরাঞ্চলে। অপর ৩টি ইউনিয়ন বাদাঘাট, উত্তর বড়দল ও বালিজুড়ি ইউনিয়নের অবস্থান পড়েছে উজান অঞ্চলে।

এ অবস্থায় শনি, মাটিয়ান, গুরমা বর্ধিতাংশ ও মহালিয়া হাওরসহ বিভিন্ন হাওরের পানি কমার ধীর গতি হওয়ায় বোর ফসল রোপন কৃষকদের ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণেই সারের ডিলাররা বিপাকে।

সরেজমিনে বিসিআইসির নিয়োজিত ডিলারদের গোদামে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি সারের ডিলারের গোদামে ৫০ থেকে ৬০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, এমওপি, টিএসপি, ডিএপি সার মজুদ রয়েছে।

শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বিসিআইসির সার ডিলার দীগেশ চন্দ্র তালুকদার ঢাকাটাইমসকে বলেন, আমার গোদামে বর্তমানে ৬০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, এমওপি, টিএসপি, ডিএপি সার মজুদ রয়েছে। হাওরে এখনো প্রচুর পানি। কৃষকরা চাষাবাদ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় প্রতিদিন আধাবস্তা সারও আমি বিক্রি করতে পারি না।

বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের বিসিআইসির সার ডিলার আব্দুছ ছত্তার বলেন, তার গোদামে মজুদথাকা সার নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি আমি তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে আবেদন করে জানিয়েছি। তারপরও স্যার আমাদের সার উত্তোলনের জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন।

তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের বিসিআইসির সার ডিলার সামায়ুন কবীর ঢাকাটাইমসকে বলেন, আমার সারের গোদামটি তাহিরপুর সদর বাজারে। উপজেলা কৃষি অফিসের সব কর্মকর্তা প্রতিদিনই দেখভাল করছেন। বর্তমানে তার গোদাম ঘরে ৫০ মেট্রিকটন সার মজুদ রয়েছে। সপ্তাহে এক থেকে দেড়বস্তা সার বিক্রি হচ্ছে। বিষয়টি তিনি তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছেন। তারপরও সার উত্তোলনের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। অপরদিকে সরকার কৃষি পুনর্বাসনের জন্য উপজেলার প্রতি কৃষককে বিনামূল্যে  ৫ কেজি বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে দেয়ায় এর প্রভাবও পড়েছে ডিলারদের ওপর।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. নুরুল আক্তার ঢাকাটাইমসকে বলেন, এ বছর হাওরের পানি না কমার কারণে ডিলাররা সার বিক্রি করতে পারছেন না। ডিলারদের ঘরে রক্ষিত সার নষ্ট হচ্ছে।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুছ ছালাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, হাওরের পানি কমছে না, কমলেও তা খুব ধীর গতিতে কমছে এ জন্য সারের চাহিদা কম। সার উত্তোলনের বিষয়টি বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যরা সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে সমাধান করতে পারেন।

(ঢাকাটাইমস/২০জানুয়ারি/প্রতিনিধি/ওয়াইএ/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত