বাজেট নিয়ে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র: কেন্দ্রীয় সরকার অচল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:০২ | প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:২১

২০১৩ সালের পর আবারও বন্ধ হয়ে গেল কেন্দ্রীয় সরকারের সব রকম কার্যক্রম। ১৯ জানুয়ারি রাত বারোটা বাজবার পরপরই বন্ধ হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রম। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট প্রতিনিধিদের ভেতর বাজেট নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম বছর পূর্ণ করার দিন অর্থাৎ ২০ জানুয়ারিতে এসেই এরকম একটি অঘটন ঘটলো।

অথচ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রম চালিয়ে যাবার বাজেট নিয়ে উত্থাপিত বিলটি বৃহস্পতিবার রাতে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে ২৩০-১৯৭ এ ভোট পাশ হয়ে যায়। কিন্তু সিনেটের চূড়ান্ত অনুমোদন না পেয়েই কেন্দ্রীয় সরকার বন্ধ হয়ে গেলো। আর এ নিয়ে এখনও কোনো সমঝোতা নয় বরং দুই পক্ষের ভেতর অভিয‌োগের পাল্টাপাল্টি তীর ছোঁড়াছুড়ি হচ্ছে।

আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারের বাজেট বাড়ানো নিয়ে প্রস্তাবিত বিল সিনেটে অনুমোদনের শেষ সময় ছিলো গতকাল। কিন্তু উত্থাপিত বিলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে রিপাবলিকান ও ডেমক্র্যাট সিনেটরদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ থাকায় ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ সিনেটরদের নেতা মিচ ম্যাককনেল। ভোটের ফলাফল বলছে বাজেট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট স্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত।

আর দুই পক্ষের সিনেটররা শেষ মুহূর্তেও একমত না হতে পারায় তহবিলের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় কেন্দ্রীয় সরকারের বেশিরভাগ দপ্তর এবং তাদের কার্যক্রম। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠান জরুরি সেবা দেয়া তাদের কার্যক্রমে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। এর মাঝে ডাক, বিমান, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের সেবা, হাসপাতালে জরুরি বিভাগের সেবা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কারাগার, কর বিভাগ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জাতীয় নিরাপত্তা অন্যতম।

বাজেট নিয়ে সিনেটরদের ভাগ হয়ে যাবার মূল কারণ অভিবাসীয় নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রস্তাবিত পরিবর্তন। যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ তরুণ অভিবাসীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার কর্মসূচি পরিচালনায় বরাদ্দ অর্থ নিয়ে দুই ভাগে ভাগ হয় সিনেট। যে আট লাখ তরুণ-তরুণী সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেয়েছে, তাঁদের ব্যাপারে কোনো স্থায়ী সমাধান অর্জিত না হলে কোনো বরাদ্দ দেয়ার পক্ষে নয় ডেমোক্র্যাটরা।

অপরদিকে রিপাবলিকান প্রতিনিধিরা পুরো বিষয়টিকে সাময়িক সমাধান হিসেবে দেখতেই আগ্রহী। তাদের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বার্থরক্ষা না করে এই বাজেট অবৈধ অভিবাসীদের স্বার্থরক্ষার উদ্দেশ্যেই ডেমোক্র্যাটরা কাজ করছে। আর এনিয়ে মতবিরোধ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাজেটের সমঝোতা প্রস্তাব পাশের জন্য প্রয়োজনীয় নূন্যতম ৬০ ভোটও মেলেনি।

ট্রাম্পের দল রিপাবলিকের হাতে ছিলো ৫১ জন সিনেটর। তাদের ধারনা হয়েছিলো কোনো কোনো ডেমোক্র্যাটপন্থী সিনেটর হয়তো দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত বাজেটে তাদের পক্ষেই ভোট দেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো এরকমটা হয়নি।

আর কেন্দ্রীয় সরকার কার্যত অচল হয়ে যাবার পর এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার দলের অন্যান্য সদস্যরা বলছেন, কেন্দ্রীয় সরকার বন্ধের দায় ডেমোক্র্যাটদের। এ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, অবৈধ অভিবাসীদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ নাগরিকদের স্বার্থ বিসর্জন দেবেন না।

পাল্টা  জবাবে ডেমোক্র্যাটপন্থীদের অভিযোগ, ফেডেরাল সরকার বন্ধ হবার সব দায় রিপাবলিকানদের। যেহেতু তারাই এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাদের দলেরই মানুষ।

উল্লেখ্য এর আগেও ২০১৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে সিনেটরদের মতবিরোধে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তহবিল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী ১৬ দিন পর্যন্ত ওই অচলাবস্থা জারি ছিল।

ঢাকাটাইমস/২০জানুয়ারি/কেএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত