গাইবান্ধায় শীত-কুয়াশায় কৃষিতে শঙ্কা

জাভেদ হোসেন, গাইবান্ধা
 | প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:৫১

গাইবান্ধায় চলমান শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা আর হাড়-কাঁপানো তীব্র শীতে জনজীবনে স্থবিরতার পাশাপাশি কৃষি ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রভাব। রাত থেকে ঝড়ে পড়া ঘন কুয়াশা ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে জেলায় বোরো ধানের বীজতলার চারা ঝলসে হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। আলু ক্ষেতে দেখা দিয়েছে লেট ব্রাস্ট ও পাতা মোড়ানো রোগ। এছাড়া সরিষা, ভুট্টা ও শাক-সবজির ক্ষেতেও পোকা আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় কৃষি বিভাগের পরামর্শ না পেয়ে নিজেরাই বিভিন্ন কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ওষুধ প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু তাতেও কোন ফল পাচ্ছেন না তারা।

তবে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শের পাশাপাশি ও মাঠ পর্যায়ে গিয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে বলে দাবি কৃষি বিভাগের।

টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাইবান্ধাবাসী। মাঝে মধ্যে সূর্য্যরে মুখ দেখা গেলেও তাতে উত্তাপ মেলে না। এ কারণে দিনের বেশিরভাগ ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে থাকে মাঠ-ঘাট আর বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি। ফলে জনজীবন আর প্রাণিকুলে চরম অবস্থা বিরাজ করছে।

গাইবান্ধার সাত উপজেলার ৮২ ইউনিয়নে বোরো মৌসুমে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা রয়েছে। তীব্র ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় অধিকাংশ বীজ তলার চারাতে লাল বর্ণ ও হলুদ বর্ণ ধারণ করছে এবং কিছু কিছু জায়গার চারা মরে যাচ্ছে। এছাড়াও জেলার নয় হাজার হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করেছেন কৃষকরা। কিন্তু এতেও দেখা দিয়েছে লেট ব্রাস্ট ও পাতা মোড়ানো রোগ। সেই সাথে শীতকালীন সিম, কপিসহ সবজির ক্ষেতে রোগবালাই এবং সরিষা ও ভুট্টার জমিতে দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ। কৃষকরা নিজেদের পরামর্শ অনুযায়ী জমিতে সেচ দেয়াসহ বিভিন্ন বালাইনাশক ও কীটনাশক প্রয়োগ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় কৃষিতে ক্ষতির আশংকা করছেন কৃষকরা।

সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের কৃষক সুজন মিয়া বলেন, বোরো ধান চাষ করতে বাড়ির পাশে চার শতাংশ জমিতে বীজতলা তৈরি করছেন। প্রথমের দিকে চারাগুলো ভালভাবেই বেড়ে উঠছিল কিন্তু এবারের তীব্র ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে বীজতলা হলুদ ও লাল বর্ণ ধারণ করছে এবং চারাগুলো ভালভাবে বেড়ে উঠছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে বীজতলা নষ্ট হওয়াসহ বোরো ধান চাষ করা নিয়ে অনিশ্চিয়তায় ভুগছেন তিনি।

একই গ্রামের আলুচাষি তপন কুমার বলেন, দুই বিঘা জমিতে পনের হাজার টাকা খরচ করে আলু লাগিয়েছেন। ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডায় আলুর গাছের পাতাগুলো নির্জীব হয়ে পড়েছে এবং পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। সপ্তাহে দুই দিন ছত্রাকনাশক ওষুধসহ কীটনাশক স্প্রে করে কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে খরচের টাকা ওঠা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

গাইবান্ধা পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের আজিজ মন্ডল, এক বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছেন। তিনি বলেন, টানা শৈত্যপ্রবাহে শিমের ফুল কালো রং ধারণ করে ঝড়ে পরছে এবং নতুন করে গাছে ফুল আসছে না। উপায় না পেয়ে দোকানদারের পরামর্শ নিয়ে জমিতে ওষুধ প্রয়োগ করছেন। কিন্তু তাতেও কোন ফল পাচ্ছেন না।

কৃষকদের অভিযোগ, গেল দু দফার বন্যায় ধান, পাটসহ বিভিন্ন ফসল হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা। তবু ধারদেনা করে  আলু, সরিষা, ভুট্টাসহ  বিভিন্ন সবজির চাষ করেন কৃষকরা। কিন্তু তাতেও ক্ষতির আশংকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আবারও অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হবেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আ ক ম রুহুল আমিন বলেন, সম্প্রতি দেশের ওপর দিয়ে বয়ে চলা শৈত্যপ্রবাহের কারণে মাঠের ফসলের ওপর কিছুটা প্রভাব পড়েছে। আমরা মাঠে খোঁজখবর নেয়াসহ কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছি। বোরো ধান চাষের জন্য যে সকল বীজতলা রয়েছে এতে ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক বৃদ্ধি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবে দিনের কোন না কোন সময়ে সূর্যের আলো থাকার কারণে চারাগুলো মরে যায়নি। সালোকসংশেষন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে না হওয়ায় এ সমস্যা হচ্ছে। তবে তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে এ সমস্যা দূর হবে। এছাড়াও ম্যানকোজেব ও ছত্রাকনাশক ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে লেটব্রাস্ট ও ঠান্ডাজনিত রোগবালাই থেকে আলুর জমিসহ সবজিক্ষেত রক্ষা করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

(ঢাকাটাইমস/২০জানুয়ারি/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত