ইজতেমায় সংবাদ সম্মেলন ডাকা নিয়েও ‘বিভ্রান্তি’

ইফতেখার রায়হান, টঙ্গী (গাজীপুর)
| আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:৫২ | প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:৩৫
ফাইল ছবি

এবারের বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে তাবলিগপন্থীরা শুরু থেকেই বিভক্তির আরেক নমুনা দেখা গেল দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় দিন। মাওলানা সাদ ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলন ডাকা নিয়েও নানা ঘটনা ঘটেছে।

একজন মুরুব্বির পক্ষ সংবাদ সম্মেলন ডেকে তা অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে, আবার আরেকজন মুরুব্বি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি।

শনিবার ইজতেমার দ্বিতীয় দিন বেলা একটায় বিদেশি অতিথিদের তাবুতে সংবাদ সম্মেলনের কথা বলে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয় মুরুব্বি প্রকৌশলী মো. মাহফুজ হান্নানের পক্ষ থেকে। জানানো হয়, দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভির ইস্যুতে মুফতি নজরুল ইসলাম কথা বলবেন সাংবাদিকদের সঙ্গে।

তবে সংবাদ কর্মীরা সেখানে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সেই সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করার কথা জানানো হয়। ইজতেমার মুরব্বি প্রকৌশলী মো. মাহফুজই সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কেন সাংবাদিক ডেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘অনিবার্য কারণ’ এর কথা উল্লেখ করেন।

এদিকে এই সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারে ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরব্বি প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন কিছুই জানেন না বলে ঢাকাটাইমসকে জানিয়েছেন।

ইজতেমার শীর্ষ মুরব্বি মাহফুজ হান্নান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীরা বিভিন্ন সময় ইজতেমা সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে আমাকে ফোন করেন। আমি নামাজে থাকাকালেও ফোন আসে। এ কারণে আমি মুরব্বিদের প্রস্তাব দিয়েছি প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ইজতেমা কমিটির পক্ষ থেকে একজন সাংবাদিকদের তথ্য জনাবেন। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে, প্রতিদিন কখন কে বয়ান করবেন, কী নিয়ে বয়ান করা হবে, নামাজের ইমামতি কে করবেন, কতজন মুসল্লি ইজতেমায় মারা গেছেন ইত্যাদি।’

‘মুঠোফোনে এসব তথ্য দিলে অনেক সময় ভুলভাবে তথ্যগুলো উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া মুঠোফোনে তথ্যগুলো স্পষ্ট বোঝা যায় না।’

তাবলিগ জামাতের এই মুরুব্বি বলেন, ‘ কিন্তু শনিবার সকালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয় ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভি ও তাবলিগের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করা হবে। এটি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য।’

দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভিকে ইজতেমায় যোগ দেয়া ঠেকাতে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করেছে এক পক্ষ। আর তাদের বিক্ষোভের কারণে বাংলাদেশে এসেও ইজতেমায় যোগ না দিয়ে ফিরতে হয়েছে ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আখেরি মোনাজাত পরিচালনাকারী এই আলেমকে।

নিজেকে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের আমির হিসেবে ঘোষণা দেয়া মাওলানা সাদের অনুসারী বাংলাদেশে কম নয়। সাদ ইজতেমায় যোগ না দেয়ায় বেশ কিছু বিদেশি মুসুল্লির সঙ্গে দেশেও অনেক আলেম ইজতেমায় আসেননি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

ঢাকাটাইমস/২০জানুয়ারি/আইআর/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত