এত ভয় পান কেন: পদ্মার জটিলতা নিয়ে কাদের

নাদিম মাহমুদ, মুন্সিগঞ্জ
| আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৪৭ | প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:২৪

নদীর তলদেশে গঠনগত জটিলতার কারণে ১৪টি পিলারের নকশা পাল্টানো হলেও এতে সেতুর নির্মাণ কাজ নিয়ে কোনো ভয়ের কারণ নেই বলে জানিয়েছেন জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি জানান, পিলারের নকশা পাল্টানো হলেও মূল সেতুর নকশায় কোনো পরিবর্তন আসছে না।

শনিবার দুপুরে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়া এলাকায় পদ্মাসেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সফরের দিন তিনি পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করতে পারেন বলেও জানান তিনি।

মোট ৪২টি পিলারের ওপর তৈরি হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় সেতুটি। আর এর মধ্যে বসবে স্টিলের ৪১টি স্প্যান। গত ৩০ সেপ্টেম্বরে প্রথম স্প্যানটি বসানোর পর প্রতি মাসে একটি করে স্প্যান বসানোর কথা ছিল। সেই হিসাবে এখন তিনটি স্প্যান বসিয়ে চারটি বসে যাওয়ার কথা।

কিন্তু এরপর দেখা দেয় জটিলতা। বেশ কিছু এলাকায় মাটির নীচে গভীর কাদার স্তর পাওয়া যায়। এ জন্য পিলারের জন্য পাইলিং করা কঠিন হয়ে পড়ে। আর এ কারণে বেশ কিছু পিলারের নকশায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে ওবায়দুল কাদের জানান, মোট ১৪টি পিলারের নকশা পাল্টাচ্ছে।

শনিবার মন্ত্রী বলেন, ‘এখন কোনো পিলার নিয়ে এখন সমস্যা নেই, ডিজাইনেরও এই মূহূর্তে প্রবলেম নেই। ডিজাইনের কাজ হচ্ছে, মাঝে মধ্যে ট্যাকনিক্যাল ফল্ট হবেই।’

‘আপনাদের এতো ভয় কেন?’- এমন মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘যখন স্প্যান উঠে গেছে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। ডিজাইনের কোন পরিবর্তন হবে না যা আছে তাই।’

২০১২ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর মূল কাজ উদ্বোধনের সময়ই ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সেতুর কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মাসেতু সঠিক সময়ে উদ্বোধন করা হবে। যথা সময়ে কাজ শেষ করার জন্য দিনরাত  ২৪ ঘণ্টা কাজ চলছে। কোয়ালিটি বজায় রেখে যথা সময়ে কাজ শেষ করার জন্য চাইনিজ কোম্পানি মেজর ব্রিজ এবং সিনোহাইড্রো সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

সেতুর কাজ শেষ করার বিষয়ে দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময় চেয়েছে কি না-এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘যদি বলি মেজর ব্রিজ এবং সিনোহাইড্রো সময় চেয়েছে, তাহলে এটা অপ-প্রচার, এটা সঠিক নয়।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলেছিলাম ৭-৮ দিন পরপর স্প্যান বসবে, কিছু প্রবলেম হয়েছে কিন্তু একটা পর্যায়ে সাত দিন পরপর বসবেই। প্রথম দুই একটা সমস্যা হতেই পারে এর পরেরগুলো সঠিকভাবে উঠবে আশা করা যায়। ’

মূল সেতুর বহুল আলোচিত দ্বিতীয় স্প্যানটি চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বসে যাবে বলেও আশার কথা জানান কাদেরল বলেন, ‘মাওয়ায় আরও ১০টি স্প্যানের ফ্রেব্রিকেশনের কাজ চলছে, এবং চীনে আরো ১৬টি স্প্যান শিপমেন্টের জন্য প্রস্তুত।

এখন পর্যন্ত সেতুর সার্বিক অগ্রগতি ৫১.৫০ শতাংশ বলেও জানান কাদের। এর মধ্যে নদী শাসনে ৩৫.৫০ শতাংশ মূল সেতুর অগ্রগতি ৫৬ শতাংশ।

মূল সেতুর অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের জানান, এই প্রর্যন্ত মাওয়া প্রান্তে ২৪০টি পাইলের মধ্যে ৯৩টির কাজ সম্পূর্ণ এবং ১১টির কাজ আংশিক হয়েছে। জারিয়া ব্রাইডা পাইল ১৯৩টি মধ্যে সব কয়টির কাজ শেষ এবং মায়া ব্রাইডা পাইলি ১৭২টির মধ্যে ৭৩টি সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে।

পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদেরসহ আরও দেশি বিদেশি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকাটাইমস/২০জানুয়ারি/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
Close