‘মাদককে সবার লাল কার্ড দেখাতে হবে’

সাক্ষাৎকার গ্রহণে: শাহাদাত হোসেন তৌহিদ
 | প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৩:৩৫

আলোচিত ম্যাজিস্ট্রট সোহেল রানা। ২০১৬ সালের মার্চে ফেনীর ফুলগাজীর বদরপুর সীমান্তের কুখ্যাত ‘খানাবাড়ি’ সীমান্তে মাদক চোরাচালানের অভিযান পরিচালনা করে আলোচনায় আসেন তিনি। যোগদানের পর থেকে ফেনীতে এ পর্যন্ত ছোট বড় ২০০ শতাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এখন নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন তরুণ এ ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযান চালান মিষ্টি দোকান, ইভটিজিং রোধ, একাধিক ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও একাধিক মাদক আখড়ায়। বাদ যায় না কিছু। দিনরাত একের পর এক অভিযান পরিচালনা করে সাধারণ মানুষের প্রিয় হয়ে উঠছেন ক্রমাগত। অসাধু ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক বনে যান সোহেল রানা। তাকে নিয়ে ফেসবুকে পাতায় পাতায় নানা মহলের মানুষজন বিভিন্ন উপাধি দিচ্ছে নানা বিশেষণে। পেয়েছেন ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা।

সময়ের আলোচিত এ ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা হয় ঢাকাটাইমস ও সাপ্তাহিক এই সময়ের।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহাদাত হোসেন তৌহিদ।

ঢাকাটাইমস: আমরা দেখেছি, আপনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে থাকেন? কেন এসব করছেন। নিছক দায়িত্ব পালন না কি ভিন্ন কোন কারণ?

সোহেল রানা: মোবাইল কোর্ট অভিযানের কিছু বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে। এর মাঝে একটি হলো এটি বিচারককে সবার মাঝে দৃশ্যমান করে দ্রুততার সঙ্গে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের কমিটমিন্টকে মূর্ত করে তোলা। এই কাজটি করতে গিয়ে হরহামেশাই বিচার ও বিচারক নিজেই অপরাধ ও অপরাধীদের ডেরায় চলে যান। জীবনের ঝুঁকি কমবেশি এই ধরনের সকল অভিযানেই থাকে। ফেনীতে আমার বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযান, মূল হোতাদের স্পর্শ করে ফেলছে যারা এতদিন নিজেদের অস্পৃশ্য ভেবে আসছিলেন। মাদকের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লড়াই, আমরা মাঠে লড়ে থাকি। ফলে আমি মনেই করি না মাদক নির্মূলে কোন বাধাই আসলে অনতিক্রম্য। আমার এই কর্মদর্শন আমার জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

একজন সরকারি কর্মচারীর বাইরেও আমি একজন সাধারণ নাগরিক। আমি ন্যায় প্রতিষ্ঠায় জীবনবাজি রাখা জাতির রক্ত বহন করি। ফলে নাগরিক হিসেবেও আমি সমাজকে পরিচ্ছন্ন দেখতে চাই। সরকারি দায়িত্ব আমাকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে সরকারি দায়িত্বের বাইরেও আমার সামাজিক সাম্য ও ন্যায়বিচারের দর্শন আমাকে অধিকতর কমিটমেন্ট নিয়ে দায়িত্ব পালনে আগ্রহী করে তোলে।

ঢাকাটাইমস: ফুলগাজীর বদরপুর সীমান্তে মাদক আস্তানায় দুরুহ অভিযানটি দেশব্যাপী আলোচিত হয়েছে। অভিযানে সেদিন একজন আনসার সদস্য নিহত হয়েছিলেন, আহত হয়েছিলেন আপনিসহ আরো এক আনসার সদস্য, সেদিন আসলে কী ঘটেছিল?

সোহেল রানা: ফুলগাজীর বদরপুর সীমান্তের সেই কুখ্যাত ‘খানাবাড়ি’ সীমান্তে মাদক চোরাচালানের একটি পরিচিত দৃশ্যপট। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে এরকম কিছু পকেট আছে যা রহস্যজনক কারণে অপসারণ করা হয় না। সেদিন মূলত মাদকের সরবরাহ লাইনের একেবারে গোড়ায় হাত দেয়ার পরিকল্পনা ছিল আমার। রাতের আধারে অপরাধীর পেছনে ছুটতে ছুটতে আমরা চলে গিয়েছিলাম নো-ম্যান্স ল্যান্ডের দিকে। সেখানে মাদক চোরাকারবারিরা আমাদের প্রতিহত করে। সীমান্ত অঞ্চলের বাস্তবতা হলো সেখানে অধিকাংশ মানুষ মাদক চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত। ফলে মাদকবিরোধী অভিযানকে সংগঠিত উপায়ে প্রতিহত করা হয়। আমরা শিকার হয়েছি এই নৃশংসতার। পরে অবশ্য দু’একটি জাতীয় দৈনিকে ঘটনাটি আমাকে থামাতে পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলে রিপোর্ট করে। তবে এই অভিযান আপাতদৃষ্টে ব্যর্থ মনে হলেও এই অভিযানের কিছু পজিটিভ দিক আছে। জাতির কাছে মাদক বেচাকেনার ভয়াবহতা ও সীমান্তের বাস্তবতা উন্মোচিত হয়। এছাড়াও ফেনীর অন্যতম চোরাচালান রুট বদরপুরের সেই সীমান্ত অঞ্চল থেকে চোরাচালানকারীরা তাদের রুট পরিবর্তন করে বলে শুনেছি।

ঢাকাটাইমস: এর জন্য বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন তো আপনাকে অভিনন্দন ও হামলাকারীদের নিন্দা জানিয়েছিল?

সোহেল রানা: এই স্বীকৃতি সে সময় আমার জন্য বেশ প্রয়োজন ছিল। আমি অনেক কৃতজ্ঞ তাদের প্রতি যে আমার এবং কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ঢাকাটাইমস: এসব অভিযানে কোনো বাধার সম্মুখীন হননি তো?

সোহেল রানা: এ সকল অভিযানে বিশেষ করে যেগুলো সমস্যার মূলে আঘাত করে সেগুলোর ক্ষেত্রে বাধা নেই- সেটি বললে মিথ্যা বলা হবে। বাধার বিষয়গুলো আমরা মোটামুটি সবাই জানি।

ঢাকাটাইমস: প্রশাসন কিংবা সোর্সের কতটুকু সহযোগিতা পেয়েছেন?

সোহেল রানা: আমার মোবাইল কোর্ট অভিযান আমার ব্যক্তিগত অভিযান নয়। বরং এটি প্রশাসনেরই অভিযান। ফলে আমি যেসকল জেলা প্রশাসকের অধীনে কাজ করেছি, তারাই এ সকল অভিযানের সাফল্যের মূল ভাগিদার। মাদকের অভিযানের ক্ষেত্রে আমার বিচারিক দায়িত্বের পাশাপাশি নির্বাহী দায়িত্বও বিদ্যমান। যেহেতু মাদক চোরাকারবারিরা অনেক বেশি সতর্ক, ফলে অভিযানে প্রায়ই তাদের প্রতিযোগীদের তথ্য কাজে দেয়। তথ্যের এ সকল সোর্সের সহযোগিতা সর্বদাই পেয়েছি। মাদকের অভিযানের ক্ষেত্রে আমি অনেক সময় সাধারণ মানুষের থেকে সহযোগিতা পাই। এটা একটা অন্য রকম অভিজ্ঞতা।

ঢাকাটাইমস: ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে বিভিন্নজনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি একটু পরিষ্কার করবেন কী?

সোহেল রানা: সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল কোর্ট বেশ আলোচনায় এসেছে, রয়েছে কিছু সমালোচনাও। এই আলোচনা-সমালোচনা অন্ধভাবে অনুসরণ করার পূর্বে মোবাইল কোর্ট চালু করার প্রেক্ষাপট জানাটা জরুরি। মোবাইল কোর্ট চালু হয়েছিল যখন মামলার আধিক্যের কারণে জনস্বার্থ বিঘ্নিত করে এমন অপরাধ দমন, প্রতিকার ও কিছুক্ষেত্রে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। সমাজে খাবারে ভেজাল, ইভটিজিং, বাল্যবিয়ে, মাদকের মত অপরাধ অসহনীয় মাত্রায় বেড়ে গিয়েছিল। আপনাদের মনে আছে ইভটিজিং ও খাবারে ফরমালিন দমনে মোবাইল কোর্ট ম্যাজিকের মত কাজ করেছিল। এরপর থেকে মোবাইল কোর্টের ওপর মানুষের আস্থা বহুগুণে বেড়ে যায়। ক্রমেই অন্যান্য সামাজিক অপরাধ নিবর্তনমূলক আইন মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মোবাইল কোর্ট জনসাধারণের উপকারে লাগলেও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিছু অসাধু মানুষ।

ঢাকাটাইমস: সম্প্রতি সিম বাণিজ্য নিয়ে ব্যাতিক্রমী একটি অভিযান পরিচালনা করেছিলেন আপনি, বিষয়টি নিয়ে একটু বলবেন?

সোহেল রানা: কিছু সিম ব্যবসায়ীরা একটা অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন। কিছু সহজ সরল মানুষকে দিয়ে একটি সিমের বিপরীতে ফিংগারপ্রিন্ট হচ্ছে না বলে দুই/তিনটা সিম রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নিচ্ছেন। পরবর্তীতে আরেকজনের নামে রেজিস্টার্ড এই সিম রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই উচ্চমূল্যে বিক্রি করছেন। আপনি বাজার থেকে রেজিস্ট্রেশন করা ছাড়া একটি সিম কিনলেন যার রেজিস্ট্রেশন হয়তোবা গ্রামের এক সহজ সরল কৃষকের নামে যিনি জানেন না তার নামে কত সিম বাজারে আছে। এই সিম ব্যবহৃত হতে পারে অপরাধকর্মে। ফলে বিষয়টি আপাতদৃষ্টে অতটা সিরিয়াস নেচারের অপরাধ মনে না হলেও এটি ভয়ংকর অপরাধের সহযোগী হতে পারে। এই বিষয়টি আমার নজরে আসলে আমি বাজার থেকে নিজেই আন-রেজিস্ট্রার্ড সিম কেনার ব্যবস্থা করি এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করি। সিম কেনার সময় আমি দোকানের রশিদও নিয়ে নেই যাতে পরবর্তীতে অস্বীকার করতে না পারে। এরপর অভিযানের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি বার্তা প্রদান করি যা মোবাইল কোর্ট আইনের মূল স্পিরিট।

ঢাকাটাইমস: সরকারি আমলা না হলে কী হতেন বা কী হওয়ার ইচ্ছে ছিল?

সোহেল রানা: এক বিমান আবিষ্কার করে রাইট ভাইয়েরা সারা বিশ্ববাসীকে আকাশের উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। ছোটবেলার ভাবনা ছিল কোন কর্মটির মাধ্যমে আমি বিশ্ব ও সমাজকে সর্বোচ্চ দিতে পারি, কিভাবে সিস্টেমের পজিটিভ পরিবর্তন নিয়ে আসা যায়। বিজ্ঞান খুব টানত। শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞানের সঙ্গে থাকতে পারিনি। তবে মানুষ, সমাজ ও সত্যের সঙ্গে আছি। আমলা না হলে বিজ্ঞান অথবা রাজনীতির দিকেই যেতাম হয়তবা। জগৎ বড়ই অনিশ্চিত। তাই ঠিক জানি না কি হতাম; কোনদিন জানবও না। আজকাল এক আধটি লিখতে ভালো লাগে।

ঢাকাটাইমস: সরকারি আমলা হয়েও আপনি ভালো কাজ করে জনগণের অভূতপূর্ব ভালোবাসা পেয়েছেন? বিশেষ করে ফেনীতে জনপ্রতিনিধির মতো আস্থাভাজন হয়েছেন, এটি আপনি কীভাবে নিচ্ছেন?

সোহেল রানা: মানুষের ভালোবাসা পাওয়া এক বিরল সৌভাগ্যের ব্যাপার। ফেনীতে এই সৌভাগ্যটি আমার হয়েছে। তবে এটি একটা ব্যাপার প্রমাণ করে যে, আপনি যদি জনসাধারণের জন্য মিন করে কাজ করেন, মানুষের দুঃখ কষ্টে আপনার রক্তক্ষরণ হয় এবং তাদের ভালোবাসেন, তবে তারা সেই ভালোবাসা ফিরিয়ে দেয়। এই পাল্টাপাল্টি ভালোবাসাবাসির অধ্যায়টিই সম্ভবত আমার জীবনের শ্রেষ্ট অধ্যায়। সরকারি কর্মচারী হিসেবে আমাদের কাজ তারা নিশ্চিতভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং আমরা কে কেমন সেটিও তারা ভালোভাবেই জানে। অনেক সময়ই অনেক কিছু করতে পারি না; আমাদের এই সীমাবদ্ধতাও তারা ক্ষমা করে। আমার কাছে মনে হয়েছে, ফেনীর মানুষ বেশ সচেতন। নিজেকে ফেনীর ভাবতে অন্য রকম আনন্দ হয়।

ঢাকাটাইমস: মাদক থেকে উত্তরণের উপায় কী?

সোহেল রানা: মাদকের বিরুদ্ধে এই সংগ্রাম অবিরত; এই সংগ্রামের কোন অভীষ্ট লক্ষ্য নেই। জেলা প্রশাসন এই যুদ্ধের একটি সীমাবদ্ধ অংশে যুদ্ধরত। সরকারের আরো বেশ কয়েকটি সংস্থা রয়েছে যে সকল সংস্থার মাদক নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের চেয়েও আরো অনেক বেশি ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে। আমি মনে করি, সকল সরকারি এসকল সংস্থা ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকে লাল কার্ড দেখালে অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রিত হবে এর সরবরাহ।

ঢাকাটাইমস: আপনার অভিযান নিয়ে বিভিন্ন দৈনিকে স্টোরি এবং স্থানীয় দৈনিকে প্রধান শিরোনামও হয়েছিল, অনুভূতি কেমন?

সোহেল রানা: ফেনীতে যোগদানের তিন মাসের মাথায় কালের কণ্ঠে ফেনীর ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের আতংক সোহেল রানা’ নামে একটি রিপোর্ট কালের কণ্ঠে একটি ফিচার প্রকাশিত হয়। মূলত ফেনীতে মে মাসের বেশ কয়েকটি আলোচিত আপোষহীন মোবাইল কোর্ট অভিযানের ওপর রিপোর্টটি করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসন এ সকল অভিযানের মধ্যদিয়ে অন্যায় প্রতিরোধে একটি বার্তা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। নিজের নামে জাতীয় দৈনিকে এরকম রিপোর্ট খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। ভালো লেগেছিল। এছাড়াও স্থানীয় অনেকগুলো পত্রিকার শিরোনাম হয়েছি। স্থানীয় একটি সংবাদ ম্যাগাজিনের কাভারও হয়েছি। সত্যি ভালো লেগেছিল।

ঢাকাটাইমস: আপনি তো কবিতাও লিখেন, কেন-কিভাবে কবিতা লেখা শুরু করলেন?

সোহেল রানা:  কবিতা লেখার শুরু ছোটবেলায়। কিন্তু সিরিয়াসলি নিয়েছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। এরপর থেকে লিখেছি মাঝেমাঝেই। লিখেছি কারণ কিছু কথা ছদ্মবেশে বাতাসে ছাড়তে চেয়েছি। কিছু বক্তব্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছি। এভাবেই শুরু। দু-একজন প্রকাশক যোগাযোগ করেছিলেন। সময়ের অভাবে ব্যাটে-বলে হয়নি।

ঢাকাটাইমস: সম্প্রতি জেলা প্রশাসন থেকে কক্সবাজরের উখিয়ার বালুখালী-১ অস্থায়ী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল, তাদের সঙ্গে কাজ অভিজ্ঞতাগুলো শুনি।

সোহেল রানা: রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত সংখ্যালঘু। পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যহীন এই সম্প্রদায়ের লোকজনের নাগরিকত্ব প্রদান নিয়ে মিয়ানমারের যে অদ্ভুত তত্ত্ব তা বিশ্ব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করার পরও গায়ের জোর জোরে (চীন) মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের বন্দি শিবির থেকে বাংলাদেশে আসতে পেরে খুশিই হয়েছে। কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর আশ্রয়, খাবার ও ব্যবস্থাপনা একটি বড় সময় ধরে প্রদান করা বাংলাদেশের জন্য খুব কঠিন।  আন্তর্জাতিক সহায়তা ও এনজিও এর সমর্থন এর পেছনে আন্তর্জাতিক মহল ও এনজিওদের নিজ নিজ স্বার্থ আছে। সরকার এখন পর্যন্ত প্রত্যাবাসন বাদ দিয়ে বিষয়টিকে খুব ভালোই সামাল দিয়েছে। উখিয়ার বালুখালী-১ অস্থায়ী ক্যাম্পের ইনচার্জ থাকার সময় ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়া থেকে আসা অনেকেই আমাকে বলতেন- তোমাদের সরকার একটা অসাধ্য সাধন করেছে। ইউরোপে এত মানুষ দেখলে সরকারের মাথা খারাপ হয়ে যেত। আমাদের মাথা খারাপ হয়নি; তবে আমাদের মাথা ভালোও নেই। প্রত্যাবাসন নিয়ে আমরা আশাবাদী।

(ঢাকাটাইমস/২১জানুয়ারি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত