লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে নগরভবনে মোস্তফা

রফিকুল ইসলাম রফিক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:২৩

পথে পথে তোরণ, হাতে হাতে ফুলের মালা, রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে আছেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে গেছেন ব্যবসায়ীরাও। অপেক্ষা নবনির্বাচিত মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে দেখা এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো। দেখে কারো মনে হবে না একজন মেয়রের জন্য এত কিছু! এত অপেক্ষা !

ঠিক বেলা তিনটায় নগর ভবনে আসার কথা থাকলেও আসতে পারেননি মেয়র মোস্তফা। নগর ভবনে সংবর্ধনার জন্য অপেক্ষমাণ কর্মকর্তা কর্মচারী ছাড়াও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছেন বিকাল পৌনে পাঁচটায়। মাত্র আধা কিলোমিটারের কম রাস্তা পেরুতেই সময় গেছে দেড় ঘণ্টারও বেশি।

১৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ নেয়ার পর জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে পথে পথে সংবর্ধনা দেয়া হয় মেয়র মোস্তফাকে। সকালে বগুড়ায় সংবর্ধনা শেষে বিকাল তিনটায় নগর ভবনে আয়োজিত কর্মকর্তাদের সংবর্ধনায় যোগ দেয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু গাইবান্ধার গোবিন্ধগঞ্জ, পলাশবাড়ি, রংপুরের পীরগঞ্জ, শঠিবাড়ি, মিঠাপুকুর, দমদমা, মডার্ন মোড়, পার্ক মোড়, কলেজ রোড, খামার মোড়, শাপলা চত্বর এলাকায় সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানে হয় তাকে।

দেখা গেছে, নগরীর দমদমা এলাকায় প্রবেশ করতেই তার গাড়ি বহরের সামনে পেছনে ছিল কয়েক হাজার মোটর সাইকেল। শোভাযাত্রার মধ্য দিয়েই একটি ছাদ খোলা মাইক্রোবাসে দুই হাত নেড়ে নেড়ে নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানানোর উত্তর দিচ্ছেন তিনি। রাস্তার দুই পাশে মানুষজন দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে নেড়ে তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছিল।

এদিকে, নগর ভবনে নতুন মেয়রের আগমের খবরে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। পুলিশ যানজটমুক্ত করতে হিমশিম খায়।

স্থানীয়রা জানান, এর আগে রংপুরে স্থানীয় কোনো নেতা বা মেয়রকে এভাবে গ্রহণ করেনি নগরবাসী। সব শ্রেণির মানুষও তাকে গ্রহণ করেছে। শুভকামনা করেছে তার জন্য।

নগরীর পায়রা চত্বরে অপেক্ষমাণ রিকশাচালক আব্দুল মজিদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘হামরা মোস্তফা ভাইকে ভোট দিচি। উনি আজ চেয়ারোত বসছেন, হামরা খুব খুশি।’

পরে সন্ধ্যায় নগরভবনে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার হোসেন আজাদ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে অন্যান্য কর্মকর্তারা একে একে মেয়র ও কাউন্সিলরদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এসময় নগর ভবননের প্রধান নির্বাহী আখতার হোসেন আজান, প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন এবং কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাইন্সলর সেখানে বক্তব্য দেন।

পরে বক্তব্য দেন মেয়র মোস্তফা। বলেন, আমার কাছে সব দলই সমান। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। রংপুরকে একটি সুন্দর নগরী করতে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা চান তিনি।

গত ২১ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশনে নির্বাচন হয় দ্বিতীয়বারের মতো। এই নির্বাচনে প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং সাবেক মেয়র শরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুকে পরাজিত করে মেয়র হন মোস্তফা।

(ঢাকাটাইমস/২১জানুয়ারি/আরআই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত