সোনারগাঁয়ে দুই হত্যার বিচার দাবি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:১৮

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কান্দারগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ আলী ও মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ছোট সাদিপুর গ্রামের সুলতান আহম্মেদ মিন্টু হত্যার ঘটনায় খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে পৃথকভাবে মানববন্ধন বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

রবিবার দুপুরে নিহত মোহাম্মদ আলীর স্বজনেরা পিরোজপুর ইউনিয়নের কান্দারগাঁও এলাকায় ও মিন্টুর স্বজনরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় এ কর্মসূজি পালন করে।

মানববন্ধনে নিহত মোহাম্মদ আলীর মা শিউলি বেগম, স্ত্রী রুনা আক্তার, মামা পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেন, হারুন-অর-রশিদ, নুরুল ইসলাম, হাজী সামসুদ্দিন, গোফরান সরকার, হাজী সামসুল হক, হাজী মোতালেব, রোমান মিয়া, মজিবুর রহমান, সেন্টু মিয়া ও মাসুম বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে নিহত মোহাম্মদ আলীর মামা পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, আমার ভাগিনাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মোশারফ মেম্বার ও তার বাহিনী কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। সরকারের কাছে আমার ভাগিনার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি সোনারগাঁ থানা হয়ে সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এসময় সোনারগাঁও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোরশেদ আলম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিএম রুহল আমিন লিমন হত্যারকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হয়।

প্রসঙ্গত, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরবর্তী জৈনপুর, রতনপুর, ভবনাথপুর ছয়হিস্যা মৌজায় একটি কোম্পানি উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দিয়ে জোরপূর্বক বালু ভরাট করে আসছিল। এতে বাধা দেয়ায় গত ৩ জানুয়ারি বুধবার রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মোহাম্মদ আলীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে পিরোজপুর ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।

অন্যদিকে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সাদিপুর গ্রামের লোকজন ও বখাটেদের হামলায় নিহত মিন্টুর স্বজনরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। পরে তারাও বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সোনারগাঁ থানা হয়ে সোনারগাঁ উপজেলা কার্যালয়ে গিয়ে বিচার দাবি করেন।

উপজেলার ছোট সাদিপুর গ্রামের মোতাহার মিয়ার মেয়ে কলেজে যাওয়ার পথে পার্শ্ববর্তী বন্দেরা গ্রামের রফিকের ছেলে জাকির হোসেন উত্ত্যক্ত করে। এতে ছাত্রীর ফুফাতো ভাই সুলতান আহম্মেদ মিন্টু জাকিরকে শাসায়। এঘটনায় বখাটে জাকির হোসেন ও তার সহযোগীরা তার পথরোধ করে পিটিয়ে আহত করে। আহত মিন্টু দুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

এ ঘটনার ১৩ জনকে আসামি করে সোনাররগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেছে নিহতের বাবা শামসুল হক ওরফে সুরুজ প্রধান। মামলার দুদিন পর মিন্টু হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকিরসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোরশেদ আলম এ বিষয়ে ঢাকাটাইমসকে বলেন, মিন্টু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামিসহ পুলিশ দুজনকে ইতোমধ্যে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে তিন দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

(ঢাকাটাইমস/২১জানুয়ারি/প্রতিনিধি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত