ঢাকাটাইমস ও ইউএনওর প্রতি শিশুদের কৃতজ্ঞতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল
 | প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৫১

জনপ্রিয় নিউজপোর্টাল ঢাকাটাইমসে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার মুশুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রতিবেদন দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদত হোসেনের উদ্যোগে শিশুদের জন্য দুটি নতুন কক্ষ তৈরি করায় ঢাকাটাইমস ও সেই ইউএনওর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ওই বিদ্যালয়ের শিশুরা।

রবিবার দুপুরে ওই বিদ্যালয়ে নতুন ঘর তৈরির সর্বশেষ অবস্থা দেখতে গেলে শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ শিক্ষার্থীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

গত বছরের ২মার্চ ‘ওদের ধারণা-তৃতীয় শ্রেণিটা এরকমই হয়’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি ছিল টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার মুশুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সল্পতায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ নিয়ে। প্রতিবেদনটি সবধরণের ভিজিটরদের নজর কাড়ে। চোখ পড়ে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন কবিরের। প্রতিবেদনটির লিংক দেলদুয়ার উপজেলা প্রশাসন পেজ থেকে শেয়ার করেন তিনি। সাথে যুক্ত করেন একটি স্ট্যাটস।

‘বন্ধুরা, এগিয়ে আসুন। আওয়াজ তুলুন, ভাল কাজের জন্য। এলাসিন ইউনিয়নের মুশুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চরম দুরবস্থার বর্ণনা উঠে এসেছে সাংবাদিকের লেখনীতে। স্কুলটির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের ধারণা, ক্লাস থ্রি মানেই বোধ হয় ওরকম ভাঙাচোরা ক্লাসরুম! তো, চলুন দেখি, আমরা সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগে কিছু একটা করে ওদের এই ভুল ভেঙে দিতে পারি কিনা। গত ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দেলদুয়ার জমিদারবাড়ি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত নাগরিক আড্ডায় আমরা ভাল কাজের শপথ নিয়েছিলাম। আর কথা খরচ না করে চলুন, তাহলে এগিয়ে যাই। আগামী বুধবার (৮ মার্চ) সকাল ১১.০০টায় আমরা যেতে চাই ওই স্কুলে। দেখব ওখানকার অবস্থা। কথা বলব স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে। আমরা নাগরিক আড্ডার বন্ধুরা চেষ্টা করে দেখি সবাইকে সাথে নিয়ে স্কুলটির জন্য কিছু করতে পারি কিনা। যে যেখানে আছেন, আওয়াজ দিন।’

পরে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন কবিরের উদ্যেগে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে ওই একচালা ঘরটি ভেঙে নতুন করে ৪৫ ফিট দৈর্ঘের একটি ঘরের ব্যবস্থা করেন তিনি। বর্তমানে নতুন ঘরটি তৈরির কাজ শেষ প্রান্তে। ইতোমধ্যে ঘরটিতে দুটি কক্ষে বিভক্ত করে পাঠদান চলছে। এখন শিশুদের শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতা নেই। রবিবার বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবন দেখতে গেলে দেখা যায় নতুন দুই কক্ষে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস চলছে। ওরা জানে একটি প্রতিবেদন আর দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনওর উদ্যোগে তারা নতুন ঘরটি পেয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির রুপক, হিমা, তামিম, জিহাদ, সিয়াম, মাহী, আদুরী, সাদিয়া ও আল-আমিনসহ শিক্ষক-শিক্ষিকারা ঢাকাটাইমস ও ইউএনওর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। থ্যাংকস ঢাকাটাইমস, থ্যাংকস ইউএনও। তবে শিশুদের ইচ্ছে ঘরের কাজ পুরোটা শেষ হলে কোন অনুষ্ঠানে ওদের প্রিয় স্যার ইউএনও শাহাদত হোসেন কবিরকে আমন্ত্রণ জানাবে। ওরা জানে না, ওই ইউএনও এখন দেলদুয়ারে নেই। সম্প্রতি বদলি হয়ে ফরিদপুরের মধুখালীতে কর্মরত তিনি। তার বদলির খবর শুনে ঢাকাটাইমসের মাধ্যমে ওদের প্রিয় ইউএনওর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ওই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুরা। দেলদুয়ারে শেষ কর্মদিবসে এই বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে গিয়েছিলেন ওই কর্মকর্তা।

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম খান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে নতুন ঘরে দুটি শ্রেণিকক্ষ হয়েছে। তবে ওই প্রতিবেদনের পর জেনেছি, একটি ভবন বরাদ্দ হওয়ার কথা রয়েছে। ৩ কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ হলে আগামী ত্রিশ বছরে এই বিদ্যালয়ে কক্ষের স্বল্পতা হবে না। এছাড়া সড়কে ধারে স্কুলটি। স্কুলের বাউন্ডারির দাবির পাশাপাশি পাশের পুকুরে ধসে যাওয়া স্কুল মাঠের বড় অংশটুকু মাটি দিয়ে ভরাট করলে শিশুদের খেলাধুলার পরিবেশ পুনরুদ্ধার হবে বলেও জানান তিনি।

(ঢাকাটাইমস/২১জানুয়ারি/আরকে/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত