‘কাউয়াদের’ ‘নেতা বানানোয়’ কাদেরকে ঘিরে আবার বিক্ষোভ

তানিম আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:৩৩ | প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:১০

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদকের তালিকা নিয়ে আবার দ্বিতীয় দিনের মতো সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের বিক্ষোভে পড়লেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এ সময় ‘যোগ্যতাসম্পন্ন’ সবাইকে কমিটিতে পদ দেয়ার কথা বলে বিক্ষোভকারীদেরকে শান্ত করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের উপকমিটিতে সহসম্পাদক হিসেবে যাদেরকে নির্বাচন করা হয়েছে তাদের মধ্যে অনেকের বিএনপি-জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এমনকি নেতার বাড়ির কাজের লোকও স্থান পেয়েছে। এ সময় একজন আওয়ামী লীগের কমিটিতে ‘কাউয়া’রাও স্থান পেয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

আওয়ামী লীগে ‘কাউয়া’ ঢুকার বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন ওবায়দুল কাদেরই। ২০১৭ সালের ২২ মার্চ সিলেটে আওয়ামী লীগের সমাবেশে তিনি এই কথাটি বলেছিলেন। এবার সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা অবাঞ্ছিতদেরকে দলের কমিটিতে স্থান দেয়ার বিষয়ে একই উপমা ব্যবহার করছেন।

৯০ দশকে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকাকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন সৈকত বলেন, ‘আমরা আন্দোলন সংগ্রাম, রাজপথে ছিলাম দল। কিন্তু এখন উপকমিটিতে আমাদেরকে বাদ দিয়ে দলছুট, ‘কাউয়াদেরকে’ জায়গা দেয়া হয়েছে। যারা ‘জয় বাংলা’ বলে মিছিল দেয়নি তাদেরকে জায়গা দিয়েছে। এই কমিটিকে বাতিল করে ছাত্রলীগের সাবেক ত্যাগী নেতাদেরকে জায়গা দেয়া হবে।

শনিবার রাতেও ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের তোপের মুখে পড়েন ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি বলেন, ফেসবুকে যে তালিকা গেছে, ওটা তারা চূড়ান্ত করেননি। তিন মাস যাচাই বাছাই শেষে তালিকা প্রকাশ করা হবে।  

রবিবার রাত পৌনে আটটার দিকে কাদের আবার ধানমন্ডি কার্যালয়ে গেলে আবারও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন কাদের।

এ সময় তিনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদেরকে আবার বলেন, ‘এটা আমি দেখছি। যে তালিকা গেছে তাকে সাধারণ সম্পাদকের সাইন ছিল না। সাবেক ছাত্রনেতা সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে।’

অবশ্য শনিবারের ঘটনার সময় সেখানে কোনো সাংবাদিক ছিল না জানিয়ে রবিবার সচিবালয়ে ওবায়দুল বলেন, ‘তখন তারা আনন্দ মিছিল করছিল। আর এটাকে বলে বিক্ষোভ মিছিল। সেক্রেটারিকে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল। এটা অন্যায় এটা কষ্টকর।’

তবে রবিবার বিকাল থেকেই সাবেক ছাত্রনেতারা আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডি কার্যালয়কে ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তারা দফায় দফায় মিছিল করে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দিতে থাকে।

এ সময় কার্যালয়ের ভেতরে ছিলেন আওয়মী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামূল হক শামীম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

বিকালে সুজিত রায় নন্দী কার্যালয়ে আসার পর তাকে ঘিরে হৈ চৈ করতে থাকেন সাবেক ছাত্র নেতারা। এ সময় সুজিত বলেন, ‘দলীয় সাধারণ সম্পাদক তোমাদের পালস বোঝেন। তোমরা যারা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আছ তাদের সবাইকেই মূল্যায়ন করবেন।’

তারপরও অনেকক্ষণ সুজিতকে আটকে রাখেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা। পরে ভিড় ঠেলে তিনি কার্যালয়ে ঢুকেন।

এরপর থেকে সাবেক ছাত্রনেতারা টানা মিছিল করে যাচ্ছিলেন। রাত সাতটা ৪২ মিনিটের দিকে ওবায়দুল কাদের গাড়িতে করে ধানমন্ডি ৩/এ কার্যালয়ে আসেন। তিনি গাড়ি থেকে নামার পর পর তাকে ঘিরে আগের দিনের মতেই হৈ চৈ করতে থাকেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা।

ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আবু আব্বাস এ সময় ওবায়দুল কাদেরকে বলেন, ‘নেত্রী আমাদের নাম রাখার জন্য সুপারিশ করেছিল। কিন্তু আমাদের রাখা হয়নি। কী কারণে রাখা হয়নি? আমরা তো জেলও খেটেছি।’

এ সময় কাদের তাদেরকে বলেন, ‘সাবেক ছাত্রনেতা সবাইকে রাখা হবে।’

তখন পেছন থেকে একজন ফোড়ন কাটেন, ‘তাহলে তো এক লাখ হয়ে যাবে’।

তখন কাদের বলেন, ‘যোগ্যতাসম্পন্ন সাবেক ছাত্রনেতা সবাইকে রাখা হবে।’

ওবায়দুল কাদেরকে ঘিরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের এই বাদানুবাদ চলার সময় বাঁশিতে ফু দিয়ে দিয়ে পুলিশ আসতে থাকে। তবে তারা কাউকে বাধা দেয়নি।

এর আগে বিকাল থেকেই ধানমন্ডি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা। তারা দফায় দফায় মিছিল করেন। কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গেও।

ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান জীবন (সোহাগ-নাজমুল কমিটি) বলেন, ‘আমাকে বাদ দিয়েছে সমস্যা নেই। কিন্তু আমার চেয়ে মেধাবী ও সিনিয়র সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদেরকে কমিটিতে যেন জায়গা দেয়া হয়।’

সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘কমিটিতে অনেক বিএনপি-জামায়াতপন্থীদের জায়গা দেয়া হয়েছে। বাড়ির কাজের লোককেও জায়গা দেয়া হয়েছে। তাদেরকে বাদ দিয়ে ছাত্রলীগের ত্যাগী, আন্দোলন সংগ্রামে যারা রাজপথে ছিল তাদেরকে যেন জায়গা দেয়া হয়।’

ঢাকাটাইমস/২১জানুয়ারি/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত