লালবাগে হেলে পড়া ভবনে রাজউকের তালা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:৩৮

পুরান ঢাকার লালবাগের হেলে পড়া পাঁচ তলা ভবনটির বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে তালা লাগিয়ে দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

রবিবার দুপুরের দিকে ভবনটি হেলে পড়লে লালবাগ থানা পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে তারা পুলিশের সহযোগিতায় ওই ভবনে তালা লাগিয়ে দেন।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল সার্ভিসের ডিউটি অফিসার মিজানুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, দুপুর একটার দিকে লালবাগের জগন্নাথ সাহা রোডের ২/ই  নম্বর বাড়ির পাঁচ তলা ভবনটি হেলে পড়েছে বলে খবর পাই। বেলা আড়াইটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং রাজউকের কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত হন। ওই ভবনের দশটি ইউনিটে অন্তত ৪৫ জন থাকতেন। রাজউকের লোকজন ঘটনাস্থলে এলে আমরা ফিরে আসি।

লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুভাষ কুমার পাল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘সতর্কতা হিসেবে রাজউক কর্মকর্তারা ভবনের বাসিন্দাদের সরে যেতে বলেছেন। রাজউক আবার অনুমতি দিলে পরিস্থিতি বুঝে তখন তারা ভবনে ফিরতে পারবেন।’

ওসি বলেন, বর্তমানে রাজউকের লোকজন ভবনটিতে তালা মেরে চলে গেছেন।  প্রাথমিকভাবে তাদের মনে হয়েছে, ভবনটি একটু কাত হয়ে গিয়েছে। দুটি বিল্ডিং পাশাপাশি লেগে আছে, এটুকু বোঝা যাচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে একটু হেলে আছে মনে হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা ছাড়া আর কিছু বলা সম্ভব না।

ঝুঁকি এড়াতে ভবনটি খালি করা হয়েছে জানিয়ে আশীষ বলেন, ‘আমরা পুলিশের সহযোগিতায় ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে ভবনে তালা লাগিয়ে দিচ্ছি। পরে বিস্তারিত পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

এ ব্যাপারে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জনসংযোগ কর্মকর্তা আতিকুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আপনি রাজউকের অথরাইজড অফিসার আশীষ কুমার সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’

পরে রাজউকের অথরাইজড অফিসার আশীষ কুমার সাহার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনের লাইনটি কেটে দেন।

লালবাগের জগন্নাথ সাহা রোডের ২/ই  নম্বর বাড়ির পাঁচ তলা ভবনটির মালিক হাজী ৭০ বছর বয়সী শওকত আলী। তিনি এবং তার দুই-মেয়ের কেউ সেখানে থাকেন না। পাঁচ তলা ভবনের তিন কক্ষের দশটি ফ্ল্যাট তারা সাড়ে ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকায় ভাড়া দিয়েছেন।

ভবনটির মালিকপক্ষের দাবি, ১৯৯২ সালে রাজউকের অনুমতি নিয়েই পাঁচতলা ভবনটি করা হয়েছিল। ভবনটির পাশে একটি লোহার কারখানায় হাইড্রলিক মেশিন ব্যবহার করা হয়। সেখানে সারাদিন মেশিন চলায় ভবনের ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে বলে তার অভিযোগ।

(ঢাকাটাইমস/২১জানুয়ারি/এএ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত