এখনই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চান না কূটনীতিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:৪৬
ফাইল ছবি

বাংলাদেশে  নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা মনে করেন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন জরুরি, তবে সেটা এখনই নয়।

রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠককালে এই মত দেন।

ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘বাংলাদেশ যা করছে, তা সঠিক পথে হচ্ছে। সবার উদ্বেগ নিয়ে আপনাকে প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরির জন্য কাজ করতে হবে। একথা বলার কোনো সুযোগ নেই যে, পরিস্থিতি ভালো নয় এবং কারও যাওয়া উচিত হবে না।’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারতের হাইকমিশনার তার দেশের কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি এবং ফিরে যাওয়াদের জন্য সহায়ক পরিবেশ ও রাখাইনে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আনার জন্য কাজ করছি। রোহিঙ্গারা ফিরে যাওয়ার পর যাতে থাকার জন্য ঘর এবং ভবিষ্যতের জন্য কাজ পায় সে লক্ষ্যে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে ভারত কাজ করছে।’

এ সময় তিনি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার পথ তৈরিতে চুক্তি সম্পন্ন করায় বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এই মুহূর্তে সেখানে গিয়ে সংকটে পড়তে পারে। এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনও জরুরি।’

যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হতে হবে নির্বিঘ্ন। তারা যেন স্বদেশে স্বেচ্ছায় এবং সম্মানের সঙ্গে যেতে পারেন। তাদের মিয়ানমারে পাঠানোর আগে রাখাইন রাজ্যে জনগোষ্ঠীটির নিরাপত্তা নিশ্চিতের পদক্ষেপ নিতে হবে।’

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের পরিকল্পনায় সমর্থন প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান বাংলাদেশে  নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।

মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী ২৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হয়ে দুই বছরের মধ্যে তা শেষ করার কথা।

গত সপ্তাহে মিয়ানমারের নেইপিদোতে এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর এখন রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

কয়েক মাস আগে মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার শিকার হয়ে তারা পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন। সেই ক্ষত ‘না শুকানোর’ আগেই তাদের আবার সেখানে পাঠানো ঠিক হবে না বলে মত দিয়েছেন অনেকে।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারে নিপীড়নের মুখে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা। সবমিলিয়ে দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক এখন বাংলাদেশের আশ্রয়ে রয়েছে।

 (ঢাকাটাইমস/২১জানুয়ারি/এনআই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত