খালেদাকে ‘অহমিকা’ ছাড়তে ঘনিষ্ঠ জাফরুল্লাহর পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:১৩ | প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:৫১

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘বড় দলের অহমিকা’ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন নানা সময় রাজনীতি নিয়ে তাকে বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে আসা গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

বিএনপি নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘কাউকে অবহেলা করা উচিত নয়। ছোট দলগুলোর নেতাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।’

সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ মিলনায়তনে মওলানা ভাসানীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস স্মরণে বাংলাদেশ ন্যাপের এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন জাফরুল্লাহ।

আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার কট্টর সমালোচক জাফরুল্লাহ চৌধুরী গত কয়েক বছর ধরে বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। বিএনপিপন্থী বা দলটির নানা অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য রাখেন। এমনকি কীভাবে দল চালাতে হবে, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গিয়ে কী করতে হবে-এ বিষয়ে খালেদা জিয়াকে দুই বার খোলা চিঠি দিয়েও আলোচনায় এসেছেন জাফরুল্লাহ।

আবার ২০১৫ সালে সরকার পতনের দাবিতে অবরোধ ও হরতাল ডাকা বিএনপিকে কর্মসূচি থেকে ফিরিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিয়ে আসার পেছনেও জাফরুল্লাহর ভূমিকা ছিল।

বিএনপিপন্থী এই বুদ্ধিজীবী এখন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মওলানা ভাসানীর মতো সম্মিলিত বিরোধী দল বা যুক্তফ্রন্ট গঠন করতে হবে। তাহলেই বিজয় সম্ভব হবে। অন্যথায় চলমান সংগ্রামে বিজয়ের সম্ভাবনা কম।’

গভীর রাতে বিএনপির বৈঠক করারও সমালোচনা করেন জাফরুল্লাহ। বলেন, ‘দুপুর বেলাও বিএনপি মনে করছে রাত শেষ হয়নি। আর সেই কারণেই তারা জনগণের কাছে যেতে পারছে না। তারা আকাঙ্ক্ষিত কর্মসূচিও গ্রহণ করতে পারছে না।’

‘নিরাপত্তার নামে বেগম জিয়া নিজেই গৃহবন্দী হয়ে থাকছেন। এভাবে চলতে থাকলে হবে না। তাকে মনে রাখতে হবে তার নিরাপত্তা সরকার দেবে না, আল্লাহ আর  দেশের জনগণই তার নিরাপত্তা দেবে।’

‘বেগম জিয়াকে জনগণের কাছে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে তার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়েই সরকার তাকে বকশিবাজারের কোর্টে হাজিরার নামে ব্যস্ত রাখছে।’

জাতি ও দেশের প্রয়োজনেই জিয়াউর রহমানকে মওলানা ভাসাসী সমর্থন করেছিলেন জানিয়ে সাবেক চীনপন্থী বাম নেতা বলেন. ‘দুঃখজনক হলেও সত্য সেই বিএনপিও মওলানা ভাসানীকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

‘২২ জানুয়ারি মওলানা ভাসানীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস বিএনপিরও পালন করা উচিত ছিল। ভাসানীকে দেয়া জিয়ার প্রতিশ্রুতি বিএনপি ভুলে গেছে।’

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘মওলানা ভাসানী না হলে আওয়ামী লীগের জন্ম হতো না। আর আওয়ামী লীগ না হলে শেখ মুজিবুর রহমানও বঙ্গবন্ধু হতে পারতেন না। ভাসানী আর শেখ মুজিবের সম্পর্ক ছিল পিতা-পুত্রের মতো। এ কথা প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের মনে রাখতে হবে। তারা মওলানা ভাসানীকে বাদ দিয়ে শেখ মুজিবকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে তা হবে অসম্পূর্ণ।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান আর আপনার নাম জনগণের হৃদয়ে চিরস্থায়ী করতে হলে গণতন্ত্রকে মুক্ত করে দিতে হবে। কোনো ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন আয়োজন থেকে বিরত থাকতে হবে। ২০১৪ সালে দেয়া প্রতিশ্রুতি মনে রেখে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না।’

সভাপতির বক্তব্যে এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, ‘মওলানা ভাসানীর প্রদর্শিত সংগ্রামের পথই মুক্তির পথ। সংগ্রাম ছাড়া কোনো মুক্তি নেই। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে ভাসানীর কোনো বিকল্প নাই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী প্যানেলের ভরাডুবিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মোস্তফা বলেন, ‘শুধু জনসমর্থন থাকলেই হবে না। জনসমর্থনকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত করতে না পারলে সব ক্ষেত্রেই বিপর্যয় অনিবার্য। নেতাদের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। জনগণের কাছে যেতে হবে আত্মঅহমিকা ভুলে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, ডিএল সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, গণতান্ত্রিক ঐক্যের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, ন্যাপ সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল ভুইয়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, নরসিংদী জেলা সমন্বয়কারী এখলাছুল হক, যুবনেতা আবদুল্লাহ আল কাউছারী প্রমুখ এতে বক্তব্য দেন।

আলোচনা সভা শেষে নেতৃবৃন্দ মওলানা ভাসানীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

(ঢাকাটাইমস/২২জানুয়ারি/বিইউ/ডব্লিউবি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত