ঠাকুরগাঁওয়ে অজ্ঞাত রোগে নষ্ট হচ্ছে বীজতলা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:৪৬

ঠাকুরগাঁওয়ে টানা শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় অজ্ঞাত রোগে নষ্ট হচ্ছে বোরো ধানের চারাগাছ। জেলার অধিকাংশ বীজতলা হলুদাভ বর্ণ ধারণ করেছে। বীজতলা রক্ষায় স্থানীয় কৃষিবিভাগের পরামর্শও কোনো কাজে আসছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

ঠিকসময়ে বোরো চারা না পেলে অনেক জমি পতিতই থেকে যাবে বলে জানিয়েছেন তারা।  

স্থানীয় কৃষকরা জানায়, গত ২ সপ্তাহের অধিক সময় ধরে প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় জেলার ৫ উপজেলার বোরো বীজতলা হলুদ রং ধারণ করেছে। চারাগাছ শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী অনেকে বীজতলায় পলিথিন ঢেকে দিয়ে এবং কীটনাশক স্প্রে করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না।

সদর উপজেলার ঘনিমহেশপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, এবার দুই একর জমিতে বোরো চাষাবাদ করতে ১০ শতক জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন তিনি। শীতে বীজতলা শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষি উপ-সহকারীদের পরামর্শ  নিয়েও কোন ফল হচ্ছে না।

একই কথা জানালেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিনমারী গ্রামের কৃষক ওয়াহেদুজ্জামান। তিনি বলেন, তার বোরো বীজতলার রং হলুদ হয়েছে। চারাগুলো মরে যাচ্ছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আরাজী সরলিয়া গ্রামের বোরো চাষি আব্দুল জলিল জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে বোরো চারা রক্ষায় বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন তিনি। তারপরও চারা মরে যাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানায়, ঠাকুরগাও জেলায় এ বছর ৬০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে হাইব্রিড জাতের ১২ হাজার ৯৪ হেক্টর ও উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ৪৮ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হওয়ার কথা। এজন্য কৃষকরা ৪ হাজার ৭৯২ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরি করেছেন। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে জেলার অনেক বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ খন্দকার মাওদুদুল ইসলাম জানান, এবার দুই দফা তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে। এজন্য ফিল্ড সুপারভাইজারদেরকে এলার্ট করা হয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কৃষক ভাইদের করণীয় শীর্ষক লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

বীজতলা রক্ষায় আক্রান্ত বীজতলায় প্রতিদিন ভোরে পানি পরিবর্তন করতে হবে। চারার আগা থেকে শিশির ফেলে দিতে হবে। রাতে বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। চারা পোড়া বা ঝলসানো রোগে আক্রান্ত বীজতলায় প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি লিটার আজো অক্সিস্টবিন বা পাইরাকোস্ট্রবিন জাতীয় ছত্রাকনাশক মিশিয়ে বীজতলায়  দুপুরে স্প্রে করার পরামর্শ দেন তিনি।

(ঢাকাটাইমস/২২জানুয়ারি/প্রতিনিধি/ওআর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত