এক প্রতিষ্ঠানেই মিলল বিদ্যুতের সাত ট্রাক নকল তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:০০ | প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:৫৪

পুরান ঢাকায় নকল বৈদ্যতিক তার প্রস্তুতের গোপন খবরে একটি দোকানে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েই সাত ট্রাক তার জব্দ করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রবিবার সন্ধ্যায় নবাবপুরের ৩/২ কাজী আবদুল হামিদ লেনে তন্ময় মার্টেকে ওই র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলমের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।

তবে এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি। কোনোভাবে অভিযানের কথা জানতে পেরে কারখানার মালিক-কর্মচারীরা সবাই পালিয়ে যায়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকাটাইমসকে জানান, তখনও অভিযান চলছে সেখানে। অভিযান চলার সময় সেখানে কাউকে পাওয়া না গেলেও এর মালিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।

কারখানার মালিক বা কর্মকর্তা কারা-সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সারোয়ার জানান, এই কারখানায় তার তৈরি করে সারা দেশে তা বিপণন করা হতো নামী কোম্পানির পণ্যের পরিচয়ে। বিআরবি, প্যারাডাইজ ও ইস্টার্ন কেবলসের লোগো ব্যবহার করা হতো এসব তারে।

এই কারখানা থেকে জব্দ করা তারের বাজারমূল্য পাঁচ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

বৈদ্যতিক তার তৈরিতে মান নিয়ন্ত্রণে সতর্কতার প্রয়োজন হয়। কারণ তারে ত্রুটি থাকলে আগুন লেগে যেতে পারে যখন তখন। নামী কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে মান নিয়ন্ত্রণ করে।

কিন্তু পুরান ঢাকার এই কোম্পানিতে তেমন কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ঘিঞ্জি পরিবেশে মানহীন উপাদান দিয়ে কোনো রকমে তার তৈরি করে তা বিক্রি করা হতো।

যারা এসব তার কিনত তারা ঘূর্ণাক্ষরেও বুঝতে পারত না কতটা ঝুঁকি নিচ্ছেন তারা। তবে ব্যবসায়ীরা ঠিকই কোনট নকল এবং কোনটা আসল তার, সেটি জানেন। 

নানা সময় বৈদ্যতিক সর্ট সার্কিট থেকে লাগা আগুনের জন্য নিম্নমানের তার ব্যবহারকে দায়ী করেছে ফায়ার সার্ভিস। 

আর কোথায় কোথায় এ রকম অবৈধভাবে তার তৈরি করা হচ্ছে সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে অভিযান চালানো হবে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

মানহীন সাড়ে চার হাজার পানির জার ধ্বংস

এদিকে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থা বিএসটিআইএর এক অভিযানে সোমবার রাজধানীর পল্টন, মতিঝিলসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২টি প্রতিষ্ঠানে সাড়ে চার হাজারের মতো খাওয়ার পানির জার ধ্বংস করা হয়।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মৌ ড্রিংকিং ওয়াটার, মীম ফ্রেশ ড্রিংকিং ওয়াটার, এভারেস্ট ড্রিংকস অ্যান্ড ডেইরি প্রোডাক্টস লিমিটেড, উইনার ফ্রেশ ড্রিংকিং ওয়াটার, সেনসিবল বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ফিনকোয়া ওয়াটার কোম্পানি, আরিফা এগ্রো প্রাইভেট লিমিটেড, ওয়ান ওএকে ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, দিঘি পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার, আল-হেরা এন্টারপ্রাইজ, নোয়াখালী ফুড অ্যান্ড বেভারেজ।

অভিযানে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট এক লাখ ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম নাজমা সিদ্দিকা বেগম অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

ঢাকাটাইমস/২২জানুয়ারি/বিই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত