ফারুক হত্যায় এমপি রানার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাচ্ছেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল
 | প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:৪৩

টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আবার পিছিয়েছে। নিয়ে মামলার ধার্য দিন চতুর্থ দফায় পেছাল। এ স্বাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে ১১ ফেব্রুয়ারি।

সোমবার বেলা দুইটায় টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে এই বিচার কার্য শুরু হয়।  তবে মূল আসামি ঘাটাইল-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় সোমবার স্বাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে রানার ভ্রমণে সাময়িক অসুবিধার কারণ দেখিয়ে এর আগে নয়বার এই মামলার অভিযোগ গঠণের শুনানি পিছিয়ে যায়। এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর মামলাটির অভিযোগ গঠন করা হয়। একই সাথে স্বাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম দিন ছিল ১৮ অক্টোবর, দ্বিতীয় দিন ছিল ১ নভেম্বর ও তৃতীয় দিন ছিল ২৭ নভেম্বর এবং সবশেষ ২২ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক হয়।

ইতিমধ্যে ফারুক আহমদ হত্যার পাঁচ বছর কেটে গেছে। গত ১৮ জানুয়ারি হত্যার দিন বিচারের দাবিতে নিহতের পক্ষে মিছিল, সমাবেশ করতে দেখা গেছে দলীয় নেতাকর্মীসহ স্বজনদেরকে। তারা পাঁচ বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ জানান।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামি সংসদ সদস্য রানা কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অসুস্থ্যজনিত কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার ফিস্টুলা অপারেশন, উচ্চ রক্তচাপ ও মেরুদণ্ডের ব্যাথা জনিতকারণে তিনি যাতায়াতে অক্ষম বলে তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। তবে এ মামলার অন্য আসামি নাসির উদ্দিন নুরু, মাসুদুর রহমান মাসুদ ও ফরিদ আহম্মেদ হাজিরা দিয়েছেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম খান জানান, আদালতের বিচারক আবুল মনছুর মিয়া সকাল ১১টায় এজলাশে বসেন ও প্রথমেই চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার কার্যক্রম শুরু করেন। রাষ্ট্রপক্ষ মামলার বাদী নাহার আহমেদ, ছেলে আহমেদ মজিদ সুমন ও মেয়ে ফারজানা আহমেদ মিথুনের হাজিরা দাখিল করেন।

কিন্তু মূল আসামি উপস্থিত না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে বিচারক মামলার পরবর্তী স্বাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করেন।

তবে এ মামলার অপর আসামিরা যথাক্রমে নাসির উদ্দিন নুরু, মাসুদুর রহমান মাসুদ ও ফরিদ আহম্মেদ হাজিরা দিয়েছেন।  আরও তিন আসামি মোহাম্মদ আলী, আনিছুর রহমান রাজা ও সমির কারাগারে আটক রয়েছে।

এ মামলায় বাদীপক্ষে আছেন আইনজীবী আব্দুল গফুর ও জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের। অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন আব্দুল বাকি, জহিরুল ইসলাম জহিরসহ কয়েকজন।

২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল পৌর শহরস্থ কলেজ পাড়ায় হত্যার শিকার হন ফারুক আহমদ। এই মামলয় সংসদ সদস্য রানা ছাড়াও টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের সভাপতি জাহিদুর রহমান খান কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে চার জনকে গ্রেপ্তার হলেও বাকি ১০ জন পলাতক।

(ঢাকাটাইমস/২২জানুয়ারি/ আরকে/ ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত